পরিকল্পনা অঙ্গন বা পটভূমির প্রকারভেদ

পরিকল্পনা অঙ্গন বা পটভূমির প্রকারভেদ নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিকল্পনা” বিষয়ক পাঠের অংশ। বর্তমান বৃহদায়তন কারবারি জগতে ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন পটভূমি বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন পড়ে। কারণ এরূপ পটভূমি যতো সুন্দর ও কার্যকরভাবে তৈরি করা যায় পরিকল্পনার কার্যকারিতাও ততোই বৃদ্ধি পায় । নিম্নে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পরিকল্পনা অঙ্গন/আঙ্গিনা বা পটভূমির প্রকারভেদ তুলে ধরা হলো:

Table of Contents

পরিকল্পনা অঙ্গন বা পটভূমির প্রকারভেদ

 

পরিকল্পনা অঙ্গন বা পটভূমির প্রকারভেদ | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

ক) অবস্থান অনুসারে (According to geographical location)

i) অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা অঙ্গন (Internal planning premises) :

পরিকল্পনা পটভূমি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও পূর্বানুমান করে যে ধারণা তৈরি করা হয় তাকেই অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা অঙ্গন বলে । এক্ষেত্রে যে সকল বিষয় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় তা নিম্নরূপ :

১. উৎপাদিকা শক্তি (Production capacity) :

যেকোনো উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা নিতে গেলেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিকা শক্তি সম্পর্কে ধারণা করতে হয় । প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেই হবে না তা উৎপাদন করার সামর্থ্য প্রতিষ্ঠানে থাকতে হবে । তাই উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা গ্রহণকালে ঐ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিকা শক্তি সম্পর্কে ধারণা গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে । এ ছাড়া উৎপাদনী যন্ত্রের অবস্থা কতটা সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে সে সম্পর্কে একটা ধারণা দাঁড় করাতে হয়।

২. বিক্রয় সম্পর্কে পূর্বানুমান (The sale forecast) :

পরিকল্পনা অঙ্গন নির্ণয়ে বিক্রয় সম্পর্কে পূর্বানুমান অতি গুরুত্বপূর্ণ । বর্তমানকালে কী পরিমাণ পণ্য বিক্রয় করা যাবে তাকে ভিত্তি ধরে অন্যান্য পরিকল্পনা নেয়া হয় । বিক্রয় পূর্বানুমান করতে গিয়ে বিগত বছরগুলোর বিক্রয়ের পরিমাণ, বর্তমান সম্ভাবনাময় দিক, বিদ্যমান সমস্যাবলি, ক্রেতাদের চাহিদা ও আগ্রহ, প্রতিযোগীদের অবস্থা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা হয়।

৩. বিনিয়োগ সামর্থ্য (Capacity to investment) :

বর্তমানকালে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়। অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন দেখা দেয়। দেখা গেলো বাজারে বিক্রয় বাড়ানোর সুযোগ আছে কিন্তু সেজন্য নতুন করে যন্ত্রপাতি, সাজসরঞ্জাম, জায়গা, জনশক্তি ইত্যাদির প্রয়োজন। এখন এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার মতো সামর্থ্য আগামী দিনগুলোতে কেমন হবে পরিকল্পনার পটভূমি নির্ধারণে তাও ঠিক করার প্রয়োজন হয় ।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক নীতি ও পদ্ধতি (Organizational policy and method) :

পরিকল্পনা গ্রহণকালে প্রতিষ্ঠানিক নীতি-পদ্ধতি সম্পর্কেও ভাবতে হয়। একটা প্রতিষ্ঠানের নীতি হলো যথাসম্ভব কম দামে বাজারে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা । এখন যদি প্রতিষ্ঠান আরেকটু মানসম্পন্ন জিনিস তৈরির চিন্তা করে তবে দ্রব্যমূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তির ওপর এর প্রভাব কী হবে তা আগাম পূর্বানুমান করতে হয়। যদি এরূপ ধারণা ইতিবাচক সায় দেয় তবে এ ধরনের পরিকল্পনা নেয়া যায়।

৫. সাংগঠনিক কাঠামো (Organizational structure) :

একটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা তার সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যদিয়ে বাস্তবায়িত হয়। সাংগঠনিক কাঠামোর মজবুতির ওপর প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও আনুগত্য নির্ভর করে । সাংগঠনিক কাঠামো যদি অনমনীয় হয় তবে বাড়তি (Extensive) পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয় না । তাই নতুন পরিকল্পনা নেয়ার সময় সাংগঠনিক কাঠামো তাতে কেমন সায় দেবে সেই সম্পর্কে আগাম ধারণা নিতে হয় ।

৬. শিল্প সম্পর্ক (Industrial relations) :

শিল্প সম্পর্ক আগামীতে কেমন থাকবে এটাও পূর্বানুমান করার বিষয় । শিল্প সম্পর্ক ভালো থাকলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হয়। কিন্তু এরূপ সম্পর্ক খারাপ হলে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যতোই থাকুক না কেন তাকে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। তাই পরিকল্পনা নেয়ার আগে আগামী সময়ের শিল্প সম্পর্ক কেমন হবে সেই সম্পর্কে আগাম অনুমান করার প্রয়োজন পড়ে ।

ii) বাহ্যিক পরিকল্পনা অঙ্গন (External planning premises) :

একটি প্রতিষ্ঠানকে বাহ্যিক বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গেও সঙ্গতি বিধান করে চলতে হয় । বর্তমানকালে বিভিন্ন বাহ্যিক চলক (Variables) বিবেচনায় না এনে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তার বাস্তবায়ন কখনই সম্ভব হয় না। পরিকল্পনা গ্রহণের পূর্বে এর বাহ্যিক পটভূমি হিসেবে যে সকল বিষয় বিবেচনা করে ধারণা বা আঙ্গিনা তৈরি করা হয় তা নিম্নরূপ :

ক) দেশীয় বাহ্যিক পটভূমি (Local external premises) :

দেশীয় বাহ্যিক পটভূমির মধ্যে যে সকল বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা নিম্নরূপ :

১. রাজনৈতিক অবস্থা (Political conditions) :

রাজনৈতিক অবস্থার দ্বারাও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় । রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে ব্যসায়ীদের পক্ষে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয় । অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করলে হরতাল, ধর্মঘট, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও হানাহানি বৃদ্ধি পায় । যা ব্যবসায়ের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে । তাই পরিকল্পনা প্রণয়নে আগামী দিনের দেশের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন থাকবে এ সম্পর্কেও পূর্ব ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে হয় ।

২. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি (Law and order situation) :

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্বারাও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভাবিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ থাকলে ব্যবসায়ীদের মাঝে সব সময় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করে । ফলে সুস্থভাবে ব্যবসায় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায় না । তাই আগামী দিনে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল থাকবে সে সম্পর্কেও ব্যবসায়ীদের আগাম ধারণা নিয়ে পরিকল্পনার পটভূমি রচনা করতে হয় ।

৩. সরকারি নীতি (Government policy) :

বর্তমানকালে ব্যবসা-বাণিজ্য সরকারি বিভিন্ন নীতির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। এক্ষেত্রে শিল্প-নীতি, বাণিজ্য নীতি, আমদানি-রপ্তানি নীতি, কর ও রাজস্ব নীতি, ব্যবসায় সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন-কানুন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিকল্পনা নেয়ার সময় ব্যবসায়ীদের সরকারি বিভিন্ন নীতি সম্পর্কে অবহিত হতে হয় । এ ছাড়া এরূপ নীতিতে ভবিষ্যতে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে সে সম্পর্কেও ধারণা তৈরির প্রয়োজন পড়ে ।

৪. উপকরণাদি সরবরাহ পরিস্থিতি (Resources supply condition) :

উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাঁচামাল, জনশক্তি, শক্তি সম্পদ ইত্যাদির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তাই পরিকল্পনা প্রণয়নকালে উপকরণাদি সরবরাহ ব্যবস্থা আগামীতে কেমন থাকবে তা অবশ্যই বিবেচনায় আনার প্রয়োজন পড়ে । পরিকল্পনা তৈরির সময় এ বিষয়েও পরিকল্পনাবিদদের একটা পটভূমি রচনা করতে হয় ।

৫. প্রতিযোগীদের অবস্থা (Competitors condition) :

বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায় জগতে সাফল্যের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে প্রতিযোগীদের দিকে সব সময়ই নজর রেখে চলতে হয় । তারা কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে, বাজারে তাদের প্রভাব কেমন, সেটা কী বাড়ছে না কমছে ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে অবশ্যই পূর্ব ধারণা তৈরি করে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নেয়ার প্রয়োজন পড়ে ।

৬. ক্রেতাদের ক্রয় সামর্থ্য (Purchasing power of customers ) :

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণকালে ক্রেতাদের ক্রয় সামর্থ্য ভবিষ্যতে কেমন হবে সেটা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হয়। ক্রেতাদের ক্রয় সামর্থ্য নির্ভর করে তাদের আয় ভবিষ্যতে কী হারে বাড়বে, মূল্য স্তর কেমন থাকবে ইত্যাদি বিষয়ের ওপর । ক্রেতাদের ক্রয় সামর্থ্য যদি বাড়ে তবে বাজার বিস্তৃত হয় । তাই পরিকল্পনা গ্রহণকালে এ সম্পর্কেও পটভূমি রচনা করা হয় ।

 

৭. জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধি (National income and growth) :

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে দেশের জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধিও বিবেচনা করতে হয় । জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধি যদি কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি পায় তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে । তাই এ ধরনের পরিকল্পনা রচনাকালে দেশের জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধির ধারাকেও পূর্বানুমানের ভিত্তিতে পরিকল্পনা অঙ্গন হিসেবে দাঁড় করাতে হয় ।

৮. পণ্য ও সেবার চাহিদা (Demand for goods and services) :

যে পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে বা যে পণ্য বা সেবা বিক্রয় করা হচ্ছে ভবিষ্যতে তার চাহিদা কেমন থাকবে তাও পরিকল্পনা অঙ্গন প্রণয়নে বিবেচনা করার প্রয়োজন পড়ে। চাহিদার পরিবর্তনে ধারা কেমন, বিকল্প পণ্য এর চাহিদার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে ইত্যাদি বিষয়ে পূর্ব ধারণা দাঁড় করানো না হলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা সৃষ্টির যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে ।

৯. প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন (Nature of technology used) :

বর্তমানকালে উৎপাদন জগতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে চলতে না পারলে কার্যক্ষেত্রে কখনই সফলতা অর্জন করা যায় না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নকালে প্রযুক্তির ব্যবহার হয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবশ্যই এরূপ পরিবর্তনের ধারা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা দাঁড় করানোর প্রয়োজন হয়।

খ) আস্তর্জাতিক পটভূমি (International premises) :

বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সারা বিশ্ব এ বাজারে পরিণত হতে চলেছে । এ অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনাকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা রেখে চলার প্রয়োজন পড়ে। পরিকল্পনা প্রণয়নকালে আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে যে পটভূমি রচনার প্রয়োজন হয় তা নিম্নরূপ :

১. আন্তর্জাতিক ব্যবসায় পরিস্থিতি (Condition of international trade) :

অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসায় পরিস্থিতি সম্পর্কেও বড়ো ব্যবসায়ীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মন্দাবস্থা বিরাজ করলে তার একটা প্রভাব দেশের ব্যবসায়ের ওপরও স্বাভাবিকভাবেই পড়ে । তাই পরিকল্পনা গ্রহণকালে এ সম্পর্কেও পূর্বানুমান করে একটা পটভূমি রচনা করতে হয় ।

২. পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা (International demand for goods) :

যে সকল পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয় তার আন্তর্জাতিক চাহিদা কী ভবিষ্যতে বাড়বে না কমবে বা স্থিতিশীল থাকবে সেই সম্পর্কে পূর্বানুমানের প্রয়োজন হয়। এরূপ পূর্বানুমানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ে । নতুন নতুন বাজারে এ সময়ে প্রবেশের সম্ভাবনা কতদূর তাও এক্ষেত্রে বিবেচনায় এনে ধারণা দাঁড় করাতে হয়।

৩. আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের অবস্থা (Condition of the international competitors) :

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বিদেশী প্রতিযোগীদের অবস্থা সম্পর্কেও সতর্ক দৃষ্টি রাখার প্রয়োজন হয় । এরূপ প্রতিযোগীরা কী ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে সে সম্পর্কেও আগাম তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ে। তাই পরিকল্পনা নিতে গেলে এরূপ প্রতিযোগীদের সম্পর্কেও একটা পূর্ব ধারণা গড়ে তুলতে হয় ।

৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি (International trade treaty) :

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ পণ্যের বাজার সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন করে। বর্তমানকালে এরূপ চুক্তির অধিকাংশ‍ই বাণিজ্যিক সুযোগ লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়। তাই এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের কী ধরনের চুক্তি আছে বা ভবিষ্যতে কী ধরনের চুক্তি হতে পারে এবং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে তার প্রভাব কী পড়বে এ সম্পর্কে পরিকল্পনার পটভূমি রচনা করতে হয়।

৫. প্রযুক্তিগত মান (Technological quality) :

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দ্রব্যের গুণগতমান বৃদ্ধি পায় এবং খরচের পরিমাণ কমে আসে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহারেও একটা প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায় । তাই কোনো পণ্য উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে গিয়ে প্রযুক্তিগত মানের ক্ষেত্রে কোন্ ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে সে সম্পর্কেও পূর্বানুমান করতে হয়।

খ) নিয়ন্ত্রণযোগ্যতা অনুসারে (On the basis of controllability) :

১. অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিকল্পনা অঙ্গন (Non-controllable planning premises) :

যে সকল বিষয় সম্পর্কে পূর্ব ধারণা দাঁড় করানো হয় অথচ পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে সেই অবস্থা কাটানোর কোনো সুযোগ প্রতিষ্ঠানের থাকে না তাকে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিকল্পনা অঙ্গন বলে। এরূপ পরিকল্পনা অঙ্গনের অধিকাংশই প্রতিষ্ঠানের বাইরের বিষয় (Variables) হতে উদ্ভুত হয় । এর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ :

ক) দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি;

খ) দেশের রাজনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি;

গ) সরকারি শিল্প নীতি, বাণিজ্য নীতি, রাজস্ব নীতি ও কর নীতি;

ঘ) প্রতিযোগীদের অবস্থা;

ঙ) ক্রেতাদের ক্রয় সামর্থ্য;

চ) উপকরণাদি সরবরাহ পরিস্থিতি ইত্যাদি ।

২. আধা-নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিকল্পনা অঙ্গন (Semi-controllable planning premises) :

পরিকল্পনা পটভূমিতে এমন কিছু বিষয় থাকে যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে কিছুটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে তাকে আধা-নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিকল্পনা অঙ্গন বলে । এর মধ্যে যে সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত তা নিম্নরূপ :

ক) শ্রমিকদের দক্ষতা; খ) শ্রমিক-কর্মী সম্পর্ক;

গ) উৎপাদনী উপকরণসমূহের ফলপ্রদতা;

ঘ) পণ্য ও সেবার চাহিদা ইত্যাদি ।

 

পরিকল্পনা অঙ্গন বা পটভূমির প্রকারভেদ | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৩. নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিকল্পনা অঙ্গন (Controllable planning premises) :

পরিকল্পনার পটভূমির যে সকল বিষয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ থাকে তাকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিকল্পনা অঙ্গন বলে । প্রয়োজন মনে করলে পরিকল্পনা গ্রহণকালে এরূপ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণপূর্বক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে পারে । নিম্নে পটভূমির এরূপ বিষয়সমূহ উল্লেখ করা হলো :

ক) প্রাতিষ্ঠানিক নীতি ও পদ্ধতি;

খ) সাংগঠনিক কাঠামো;

গ) পুঁজি বিনিয়োগ সামর্থ্য;

ঘ) প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সামর্থ্য ইত্যাদি ।

Leave a Comment