প্রেষণার সাথে কর্মী সন্তুষ্টি ও উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক

আজকের আলোচনার বিযয় প্রেষণার সাথে কর্মী সন্তুষ্টি ও উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত, ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রেষণা ও উৎপাদনশীলতা পরস্পর ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রেষণা কর্মীদের কাজের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ বা ইচ্ছার সৃষ্টি করে ।

অন্যদিকে উৎপাদনশীলতা বলতে কম ব্যয়ে অধিক উৎপাদনকে বুঝায়। ব্যয়ের প্রশ্নটি উপায়-উপকরণের কার্যকর ব্যবহারের সাথে জড়িত। এরূপ ব্যবহার বিশেষভাবে নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনশক্তির দক্ষতা ও স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা-আগ্রহের ওপর । এরূপ ইচ্ছা-আগ্রহ কার্যকর প্রেষণা দানের ওপর নির্ভরশীল । তাই প্রেষণা ও উৎপাদনশীলতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান । প্রেষণা ও উৎপাদনশীলতার মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশের জন্য উভয়ের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা নিম্নে তুলে ধরা হলো : 

 

প্রেষণার সাথে কর্মী সন্তুষ্টি ও উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক

প্রেষণার সাথে কর্মী সন্তুষ্টি ও উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক

১. প্রেষণা (Motivation) :

প্রেষণা হলো প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে কর্মীবৃন্দের কার্যক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত, উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার প্রক্রিয়া। কোনো কর্মীর কাজ সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা থাকাই কাজের পক্ষে যথেষ্ট নয় । এজন্য প্রয়োজন কর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা বা আগ্রহ। তাই ব্যক্তির কর্মফল কী হবে তা নিম্নোক্ত সমীকরণের সাহায্যে তুলে ধরা যেতে পারে :

P=M X(A+K)

এক্ষেত্রে, P=Performance (কর্মফল)

M= Motivation (প্রেষণা)

A = Ability (সামর্থ্য)

K= Knowledge (জ্ঞান)

 

২. উৎপাদনশীলতা (Productivity) :

উৎপাদনশীলতা বলতে কী পরিমাণ উপায়-উপকরণ ব্যবহার করে কী পরিমাণ পণ্য বা সেবা উৎপাদিত হচ্ছে তার অনুপাতকে বুঝায় । যত কম খরচে বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হয় উৎপাদনশীলতা ততই বাড়ছে বলে ধরে নেয়া হয় । Weinrich ও Koontz উৎপাদনশীলতা বলতে বুঝিয়েছেন, “The true meaning of the productivity as the output – input ratio within a time period with due consideration for quality.” 

উক্ত লেখকদ্বয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির তিনটি উপায়ের কথা বলেছেন; ক) একই পরিমাণ ব্যয়ে পূর্বের তুলনায় প্রাপ্তি (Outputs) বৃদ্ধি; খ) কম ব্যয়ে পূর্বের পরিমাণ প্রাপ্তি অর্জন ও গ) অনুকূল অনুপাতে প্রাপ্তি বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাস।

উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত পণ্য বা সেবার মান ঠিক রেখে ব্যয় হ্রাস বা অধিক উৎপাদন এটা উপায়-উপকরণের কার্যকর ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত । প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রত্যেকটি উপায়-উপকরণকে তার সামর্থ্য বিবেচনায় সর্বোচ্চ পরিমাণ ব্যবহার করা সম্ভব হলেই উৎপাদনশীলতা সর্বোচ্চ পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে পারে ।

উপায়-উপকরণের এরূপ সর্বোচ্চ ব্যবহার নির্ভর করে ব্যবস্থাপনা কতটা সফলতার সাথে এর জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারছে তার ওপর । এ জন্য যেমনি কর্মীদের যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ হতে হয় তেমনি তাদের মধ্যে থাকতে হয় কাজের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ ও উদ্দীপনা । আর এগুলো কার্যকর প্রেষণা দানের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব । তাই প্রেষণা ও উৎপাদনশীলতা আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এক ও অভিন্ন সূত্রে গাঁথা বলা যেতে পারে । নিম্নে রেখাচিত্রের সাহায্যে তা তুলে ধরা হলো:

প্রেষণার সাথে কর্মী সন্তুষ্টি ও উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক

Leave a Comment