আজকের আলোচনার বিযয় প্রেষণার বৈশিষ্ট্য – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত, প্রেষণা হলো অধস্তনদেরকে প্রত্যাশিত আচরণ করতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার একটি প্রক্রিয়া । যার ফলশ্রুতিতে কর্মীরা তাদের সাধ্যমতো কাজ করে যা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের মতো প্রেষণা কার্যেরও কতকগুলো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
Table of Contents
প্রেষণার বৈশিষ্ট্য

১. মানুষ হলো মূল কেন্দ্রবিন্দু (Man is the key point) :
প্রেষণা কর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল পর্যায়ের মানব শক্তি । অন্যান্য ব্যবস্থাপকীয় কাজে এর সকল উপায়-উপকরণ কম-বেশি বিবেচ্য হলেও এক্ষেত্রে জনশক্তিকে কীভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে কাজ আদায় করা সম্ভব তাই বিবেচ্য হয়ে থাকে ।
২. মনের ওপর প্রভাব (Influence on mind) :
প্রেষণা কর্মের প্রভাব মনের ওপর। এটি মানব মনের অভ্যন্তরে ক্রিয়া করে বা প্রভাব বিস্তার করে । তাই বলা হয় ‘Motivation is an internal force’. – কর্মীর মনের মাঝে কীভাবে প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা যায় তাই এক্ষেত্রে বিচার্য ।
৩. আচরণের মাধ্যমে ফল প্রকাশ (Expression of result by behavior) :
প্রেষণা মানব মনের ওপর যে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে তার ফল কর্মীর আচরণের দ্বারা প্রকাশিত হয় । তাই প্রেষণার উদ্দেশ্যই হলো কর্মীর নিকট থেকে কাঙ্ক্ষিত আচরণ লাভ করা । তাই Bartol ও Martin বলেছেন, “Motivation, the forces that energizes behavior, gives direction to behavior and underlies the tendency to persist.”
৪, অবিরাম প্রক্রিয়া (Continuous process) :
প্রেষণা একটি অবিরাম প্রক্রিয়া। মানব মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি ও কাঙিক্ষত আচরণ লাভ কর্মক্ষেত্রে কোন বিশেষ মুহূর্তের প্রত্যাশা নয় বরং প্রতিষ্ঠান সবসময়ই তা প্রত্যাশা করে । আর উৎসাহ সৃষ্টির প্রয়াস বন্ধ হলে তা এক পর্যায়ে নিরুৎসাহের কারণ হয় । তাই ব্যবস্থাপনার পক্ষে এটি একটি সার্বক্ষণিক প্রক্রিয়া বা কর্মপ্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য ।
৫. মানুষের অভাব প্রেষণার ভিত্তি (Human want is the basis of motivation) :
মানুষের অভাব বা চাহিদার ফলে তার মাঝে যে তাড়নার সৃষ্টি হয় প্রেষণা সেই তাড়নাকে পূরণ করে কাঙিক্ষত আচরণ করতে ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে । তাই মানুষের অভাববোধকে বুঝেই সে অনুযায়ী প্রেষণা দান করা হয়ে থাকে । সে কারণেই Maslow বলেছেন, “চাহিদা, অভাব বা আকাঙক্ষা থেকেই মানব মনে প্রেষণার সৃষ্টি হয় ।”
৬. মানসিক অবস্থার ভিন্নতার প্রভাব (Influence of different mentality) :
মানব মন এতটাই বিচিত্র যে একে থেকে অন্যের কিছু না কিছু ভিন্নতা থাকে । প্রত্যাশা, ধারণা, উপলব্ধি সবার সমান হয় না । তাই অভাব বা চাহিদাকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করে তদনুযায়ী প্রেষণা দান বা উদ্দীপক নির্ণয়ে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত জনশক্তির পদমর্যাদাগত ভিন্নতার কারণেও প্রেষণা দান জটিল হয়ে পড়ে ।
৭. মনোবল উন্নয়নের প্রধান অবলম্বন (Main support of morale development) :
মানুষের মনোবল গঠনে প্রেষণার প্রত্যক্ষ প্রভাব বিদ্যমান । কর্মীদেরকে প্রেষণা দানের মাধ্যমে যদি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করা যায় তবে তা কর্মসন্তুষ্টির সৃষ্টি করে। আর এরূপ সন্তুষ্টি কর্মীর মনোবল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নত মনোবল কর্মীর মাঝে এমন একটা মানসিক অবস্থার জন্ম দেয় যার ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড থেকে সে বিরত থাকে ও প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ও নিজের সমৃদ্ধিকে এক করে ভাবে ।

৮. আধুনিক ব্যবস্থাপনা দৃষ্টিভঙ্গির অপরিহার্য অঙ্গ (Necessary element of modern management outlook) :
প্রেষণা দানের বিষয়টি আধুনিক ব্যবস্থাপনা দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি অপরিহার্য বিষয় হিসেবে গণ্য । এক্ষেত্রে মনে করা হয় কর্মীদেরকে নির্দেশ দিলেই কাজ হয় না । কারণ মানুষ যন্ত্র নয় । তার নিকট থেকে কাজ আদায়ে তাকে প্রতিষ্ঠানের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার প্রয়োজন পড়ে । এজন্য আর্থিক ও অনার্থিক বিভিন্ন উপায় বা পদ্ধতির ব্যবহার করা যায় ।
