আজকের আলোচনার বিযয় অভাব-চাহিদা-সন্তুষ্টি শিকল – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত, প্রেষণা ও মনোবল উভয়ই ব্যক্তির মনের সাথে সম্পৃক্ত । তদুপরি উভয়ের মধ্যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান । প্রেষণা ছাড়া যেমনি উন্নত মনোবল প্রত্যাশা করা যায় না; তেমনি কর্মীদের মনোবল উন্নত না হলে প্রেষণা দেয়াটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে । কারণ সেখানে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় । মনোবল হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ মানসিক অবস্থা। Dale Yoder-এর ভাষায়, “কর্মীরা যেখানে কাজ করে সেই কাজের মূল বিষয় বা উদ্দেশ্যের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা সামষ্টিক আচরণগত কাঠামোই হলো মনোবল।”

প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে সম্পর্ক
অন্যদিকে প্রেষণা হলো কর্মীদেরকে কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করার একটি প্রক্রিয়া। তাই প্রেষণার মাধ্যমে কর্মীদেরকে উৎসাহিত করার ফলে কাজের প্রতি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ জন্মে এবং কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়লে ধীরে ধীরে কর্মীদের মনোবল উন্নত হয়।
একটি প্রতিষ্ঠানে মনোবলের প্রকৃতি কেমন হবে তা নির্ভর করে প্রেষণা দানের প্রকৃতির ওপর। কর্মীদের মনোবল তখনই উন্নত হবে যখন তাদের মৌলিক প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণ হবে এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে তাদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করা হবে । উল্লেখ্য, উত্তম প্রেষণা যেমনি উন্নত কার্যসন্তুষ্টি ও উচ্চ মনোবল সৃষ্টি করে তেমনি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের উপযুক্ত প্রেষণা দিতে না পারার কারণে তাদের কার্যসন্তুষ্টি হ্রাস পায় এবং মনোবল নিম্নমুখী হয় । নিম্নে রেখাচিত্রের সাহায্যে বিষয়টি তুলে ধরা হলো :

উপসংহারে বলা যায়, প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় । প্রেষণা ছাড়া যেমনি কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি আসে না তেমনি কার্যসন্তুষ্টি না থাকলে মনোবলও উন্নত হতে পারে না । তবে এটা ঠিক যে, প্রেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে দেয়া হয় বিধায় কখনও তার গতি বা অবস্থা শক্তিশালী বা মন্থর হতে পারে । কিন্তু ব্যক্তিক বা দলীয় মনোবল প্রেষণা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠে । তাই এর হ্রাস-বৃদ্ধি তত্ত্ব দ্রুত ঘটে না । তবে এটাও বাস্তব যে, প্রেষণার সাথে মনোবল সম্পর্কিত হলেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রেষণার বাইরেও ব্যক্তির পারিবারিক ও সামাজিক নানান বিষয় মনোবলকে প্রভাবিত করে ।
