আজকের আলোচনার বিযয় প্রেষণা বলতে কী বুঝায় – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত, ইংরেজি Motivation শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হলো প্রেষণা। এ ইংরেজি শব্দটি ল্যাটিন ‘Movere’ শব্দ হতে এসেছে যার অর্থ to move অর্থাৎ চালনা করা, গতিশীল করা।
মানুষের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলার আগ্রহ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকেই প্রেষণা বলে । অন্যভাবে বলা যায়, প্রেষণা হলো প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীবৃন্দের কার্যক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত, উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার প্রক্রিয়া।

প্রেষণা বলতে কী বুঝায়
আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিশারদগণ প্রেষণাকে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়াস পেয়েছেন । কেউ একে ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, ইচ্ছা-আগ্রহ এবং সেমত আচরণ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। আবার কেউ একে অধস্তনদের ইচ্ছা-আগ্রহকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে পরিচালনার উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন । নিম্নে প্রেষণার কয়েকটি জনপ্রিয় সংজ্ঞার উল্লেখ করা হলো :
১. M. J. Gannon বলেন, “প্রেষণার মূল অর্থ একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, আকাঙক্ষা এবং ধারণাসমূহ যা| তাকে একটি বিশেষ ভঙ্গিতে কাজ করতে উৎসাহ দেয়।” (Motivation basically means an individuals needs, desires and concepts that cause him or her to act in a particular manner.)
২. গিবসন বলেন, “প্রেষণাকে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় তার অবস্থা (State) কতকগুলো নির্দিষ্ট | আচরণের মধ্য দিয়ে কর্ম হিসেবে প্রকাশিত হয়।” (Motivation may be defined as the state of an individuals perspective which represents the strength of his or her propensity to exert effort A toward some particular behaviour. )
৩. মাইকেল জুসিয়াস-এর মতে, “প্রেষণা হলো ব্যবস্থাপক কর্তৃক সে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ যা কর্মীবৃন্দকে নির্ধারিত কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উৎসাহিত ও প্রণোদিত করে ।”
৪. অইরিক ও কুঞ্জ-এর মতে “প্রেষণা হলো এমন একটি সাধারণ ধারণা বা বিষয় যা সকল শ্রেণীর তাড়না, ইচ্ছা, প্রয়োজন, আকাঙক্ষা এবং এ ধরনের শক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।” (Motivation is a general term applying to the entire class of drives, desires, needs, wishes and similar forces.) তারা আরও বলেছেন, “বলা হয় ব্যবস্থাপকগণ তাদের অধীনস্থদের প্রণোদিত (Motivate) করবে অর্থাৎ ব্যবস্থাপকগণ সেই | সকল কাজ করবে যাতে আশা করা যায় অধস্তনদের তাড়না (Drives) ও আকাঙক্ষা (Desires)-এর পরিতৃপ্তি ঘটবে এবং যার ফলশ্রুতিতে অধস্তনরা কাঙিক্ষত উপায়ে কাজ করতে প্ররোচিত হবে ।”
উপরোক্ত সংজ্ঞাসমূহ বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে,
১. প্রেষণা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তাড়না, অভিপ্রায়, ইচ্ছা-আকাঙক্ষা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত; ২. ব্যক্তির এরূপ মানসিক অবস্থা বা ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে তার আচরণের মধ্য দিয়ে;
৩. এরূপ ইচ্ছা বা আগ্রহকে প্ররোচিত করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেয়া
৪. কর্মী স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হলে কাজে তার প্রভাব পড়ে এবং
৫. কর্মীকে কাজে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করাই প্রেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

পরিশেষে বলা যায়, প্রেষণা হলো কর্মীদের ইচ্ছাশক্তিকে কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত বা উৎসাহিত করার এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কর্মীদের নিকট হতে স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে ও সন্তুষ্টি সহকারে তাদের কর্মদক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের নিশ্চয়তা লাভ করা যায়। কাজ করার আগ্রহের সাথে কাজ করার দক্ষতা বা যোগ্যতার প্রশ্নটিও জড়িত । তাই কার্য সম্পাদন বলতে ব্যক্তির সামর্থ্য ও কাজ করার ইচ্ছা বা আগ্রহের গুণফলকে বুঝায়। ( P=AX M) বা (Performance = Ability x Motivation ) ।
