ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ। পারিপার্শ্বিক অবস্থার সমষ্টিকে সাধারণ অর্থে পরিবেশ বলে। সৃষ্টির সব কিছুই একটা পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যদিয়ে বিকাশ লাভ করে এবং এই পারিপার্শ্বিকতার দ্বারা প্রভাবিত হয়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও একটা পরিবেশের মধ্যদিয়ে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে । এরূপ পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করেই ব্যবস্থাপনাকে তার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয় ।
তাই ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্ত ও বাহ্যিক বিভিন্ন অবস্থা-যা এর কার্যক্রম, নীতি-পদ্ধতি ও চিন্তা-ভাবনার ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাকে। ব্যবস্থাপনা পরিবেশ বলে । প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিদ্যমান অবস্থাবলি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে যে পরিবেশের জন্ম হয় তাকে ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বলে । এরূপ পরিবেশের উপাদানসমূহ নিম্নরূপ :
Table of Contents
ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ

১. মালিক বা শেয়ারহোল্ডার (Owners or shareholders) :
ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে কার্যত মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে । তাই মালিকপক্ষের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে মাথায় রেখেই ব্যবস্থাপনাকে কার্য সম্পাদন করতে হয় । প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের ওপর এরূপ উপাদানের প্রভাব বেশি থাকে ।
২. পরিচালনা পর্ষদ (Board of directors) :
কোম্পানি সংগঠনে পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধি হিসেবে কোম্পানির মৌল নীতি নির্ধারণ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় মৌল দিক-নির্দেশনা প্রদান ইত্যাদি কার্য সম্পাদন করে । তাই ব্যবস্থাপনার ওপর পরিচালনা পর্ষদেরও প্রত্যক্ষ প্রভাব সবসময়ই লক্ষণীয় ।
৩. শ্রমিক-কর্মী (Employee) :
শ্রমিক-কর্মী এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত সংঘ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ । তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আগ্রহ-অনাগ্রহ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে। অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবস্থাপনা সেজন্য শ্রমিক-কর্মীদের মনোবল উন্নয়ন এবং শ্রম- ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালায় ।
৪. প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতি (Organizational culture ) :
দীর্ঘকালে কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কতকগুলো ধারণা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও নিয়ম-নীতি গড়ে ওঠে। যার আওতায় প্রতিষ্ঠানের মানসিক কাঠামো, আচরণের ভাবধারা ও পারস্পরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। যা কার্যাকার্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে । ব্যবস্থাপনাকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই এরূপ উপাদানকে বিবেচনায় আনতে হয় ।

৫. প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা (Internal organizational facilities) :
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধাও অভ্যন্তরীণ পরিবেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, যন্ত্রপাতির মান, ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি, ভৌত সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি স্বাভাবিকভাবেই ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে ।
