চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জার্মানির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন উঠে এসেছে। জার্মানির পরিসংখ্যান অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে জার্মান রপ্তানি প্রভাবিত হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চীন ও জার্মানির মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬৩.৪ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৯০.৭ বিলিয়ন ডলার), যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬২.৮ বিলিয়ন ইউরো।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ছিল জার্মানির শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার, যা আট বছর ধরে চীনের আধিপত্যের অবসান ঘটায়। সে সময় বার্লিন বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করেছিল। তবে চলতি বছর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আরোপিত শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যগত গতিবেগ কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান রপ্তানি ৭.৪ শতাংশ কমে ৯৯.৬ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। শুধু আগস্ট মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২৩.৫ শতাংশ কমেছে, যা পতনের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
বিজিএ ফরেন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডর্ক জান্দুরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও বাণিজ্য নীতিই রপ্তানির হ্রাসের প্রধান কারণ। এর ফলে গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিকসহ জনপ্রিয় জার্মান পণ্যের চাহিদা কমেছে।
আইএনজির গ্লোবাল হেড অব ম্যাক্রো কার্স্টেন ব্রেজেস্কি জানান, ট্রাম্পের চলমান শুল্ক হুমকি ও ইউরোর শক্তিশালী অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান রপ্তানি অদূর ভবিষ্যতে বাড়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, চীনেও জার্মান রপ্তানি কমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে চীনে রপ্তানি ১৩.৫ শতাংশ কমে ৫৪.৭ বিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। তবে চীন থেকে জার্মানিতে আমদানি বেড়ে ৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮.৮ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।
ব্রেজেস্কি সতর্ক করে বলেন, চীন থেকে আমদানির এই বৃদ্ধিই উদ্বেগের কারণ, কারণ অধিকাংশ পণ্য ডাম্পিং মূল্যে আসছে। এটি জার্মানির ওপর চীনের নির্ভরতা বাড়াবে এবং দেশটির মূল শিল্পগুলোতে চাপ সৃষ্টি করবে। চীন এখন জার্মান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে।
ইউরোপীয় বেসরকারি ব্যাংক বেরেনবার্গের অর্থনীতিবিদ স্যালোমন ফিডলার বলেন, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে যেকোনো বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তন এখন জার্মানিতে অনেকের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
