আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বাংলাদেশে শ্রমিকসংঘ নিবন্ধন।
বাংলাদেশে শ্রমিকসংঘ নিবন্ধন

১৯৬৯ সালের শিল্প সম্পর্ক অধ্যাদেশে শ্রমিকসংখ নিবন্ধনের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে তা নিম্নরূপ-
১। নিবন্ধনের জন্য আবেদন (Application for registration) যে কোন শ্রমিকসংঘ এর সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনপত্র পেশ করে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবে এ ধারা
২। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ (Requirements for application) অধ্যাদেশের ৬ ধারা অনুযায়ী, শ্রমিকসংঘ নিবন্ধনের জন্য এর আবেদনপত্রের সাথে নিম্নোক্ত বিষয়াদি থাকতে হবে ।
(ক) নিম্নোক্ত বিষয় সম্বলিত একটি বিবৃতিপত্র :
(i) সংশ্লিষ্ট শ্রমিকসংঘের নাম ও এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা:
(ii) শ্রমিকসংঘ গঠনের তারিখ;
(iii) সংঘের কর্মকর্তাদের নাম, পদবী, বয়স, ঠিকানা ও দেশ,
(iv) চাঁদা পরিশোধকারী মোট সদস্যের সংখ্যাঃ
(v) শ্রমিকসংঘসমূহের ফেডারেশন গঠনের ক্ষেত্রে সদস্য সংখগুলোর নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বর ।
(খ) শ্রমিকসংঘের গঠনতন্ত্রের তিনকপি এবং তৎসহ সদস্যদের কর্তৃক গঠনতন্ত্র পাস করার সময় সভার সভাপত্তির স্বাক্ষর সম্বলিত গৃহীত প্রস্তাবের তিনকপি ঃ
৩। (ক) কেউ কোন শ্রমিক সংঘের কর্মকর্তা হবার বা কোন পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে না যদি নৈতিক নীচতার (Moral turpitude) জন্য অথবা অধ্যাদেশের ১৬(১) এর ঘ অনুচ্ছেদ বা ৬১ ধারা অনুসারে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকে; এবং
(খ) কেউ সদস্য বা কর্মকর্তা হতে পারবে না যদি যে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকসংঘের নিবন্ধন চাওয়া হয়েছে তার চাকরিতে নিয়োজিত না থাকে বা কখনও সে সেখানে চাকরি না করে, অবশ্য শ্রমিকসংঘের কোন ফেডারেশন গঠনের ক্ষেত্রে ৭(ক-১) ধারার খ অনুচ্ছেদের বিধান প্রয়োজ্য নহে [৭ (ক-২) ধারা]
৪। নিবন্ধনভুক্তকরণ (Registration) : অধ্যাদেশের ৮ ধারায় শ্রমিকসংঘের নিবন্ধনভুক্তকরণ সম্পর্কে নিম্নোক্ত বিধি বিধানের উল্লেখ রয়েছে :
(ক) অধ্যাদেশে বর্ণিত সমস্ত শর্ত পালিত হয়েছে এই মর্মে নিবন্ধক সন্তুষ্ট হলে নিবন্ধন বইতে শ্রমিকসংঘটিকে নিবন্ধনভুক্ত করবেন এবং আবেদন প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে নিবন্ধন পত্র প্রদান করবেন, যদি আবেদনে কোন প্রয়োজনীয় বিষয় বা বিষয়সমূহ বাদ পড়ে বা আইনে বর্ণিত শর্তাদি যথাযথভাবে পালিত না হয় সেক্ষেত্রে নিবন্ধক আবেদন প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে তার লিখিত আপত্তি শ্রমিকসংঘকে জানাবেন এবং শ্রমিকসংক আপত্তি পত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধককে এর জবাব প্রদান করবে [৮ (১) ধারা] এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, লিখিত আপত্তি পাওয়ার পর শ্রমিকসংঘ এর জবাব দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধক আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।
(খ) নিবন্ধক কর্তৃক লিখিত আপত্তি জানানোর পর শ্রমিকসংঘ এর যথাযথ জবাব প্রদান করলে এবং নিবন্ধক সন্তুষ্ট হলে ৮(১) ধারা অনুসারে নিবন্ধনপত্র প্রদান করবেন, কিন্তু প্রাপ্ত জবাব যথাযথ না হলে নিবন্ধক আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন [৮ (২) ধারা]
(গ) আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে বা আপত্তি যথাযথভাবে মিটানোর পরও ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধক নিবন্ধনপত্র প্রদান না করলে অথবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করলে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন আদালতে আপিল করিতে পারবে, আদালত তার রায়ের কারণ উল্লেখপূর্বক নিবন্ধন পত্র প্রদানের জন্য নিবন্ধককে নির্দেশ দিতে পারবেন বা আপিল খারিজ করবেন (ছ(৩) ধাৱা
৫। নিবন্ধন পত্র প্রদান (Give of regirtration certificate) :
নিবন্ধক ৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে কোন শ্রমিকসংঘকে নিবন্ধনভুক্ত করলে নির্ধারিত ফরমে নিবন্ধনের প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন, এইরূপ প্রত্যয়নপত্র শ্রমিকসংঘের নিবন্ধনের বিষয়ে প্রমাণ হিসাবে গণ্য হবে ।৯ ধারা]
উপরোক্ত পদ্ধতি অনুসারে মাধ্যমে কোন শ্রমিকসংঘ নিবন্ধন করা যেতে পারে এক্ষেত্রে কর্তব্য যে, নিবন্ধন না করে বা অনিবন্ধনকৃত কোন শ্রমিকসংঘ আইনানুগ শ্রমিকসংঘ হিসাবে কাজ চালাতে পারবে না ।১১ (ক-১) ধারা]

