আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় শ্রম আদালতের কার্যাবলি ও ক্ষমতা। এই পাঠটি “ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে” বিষয়ের “শ্রম ও শিল্প আইন” বিভাগের একটি পাঠ। শ্রম আপীল ট্রাইবুন্যাল একটি আপীল আদালত। এটি একমাত্র শ্রম আপীল ট্রাইবুন্যাল; যা রাজধানী ঢাকার কাকরাইলের আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম রোডে অবস্থিত। শ্রম আদালতের রায়, আদেশ ইত্যাদির বিরুদ্ধে আপীল সংক্রান্ত বিধান ২১৭ ধারায় উল্লেখ আছে। এই আইন সাপেক্ষে, শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো রায়, সিদ্ধান্ত, রোয়েদাদ বা দণ্ডের বিরুদ্ধে কোন সংক্ষুব্ধ পক্ষ, রায় প্রদানের ষাট দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করতে পারবে এবং উক্তরূপ আপীলের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
শ্রম আদালতের কার্যাবলি ও ক্ষমতা

৩৬ ধারার বিধান মতে শ্রম আদালতের কার্যাবলি ও ক্ষমতা নিম্নরূপ-
১।অত্র অধ্যাদেশের বিধান সাপেক্ষে শ্রম আদালত যতদূর সম্ভব ১৮৯৮ ফৌজদারি কার্যবিধিতে ( সনের ৫ নং আইন) বর্ণিত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি অনুসরণ করবে। [৩৬(১) ধারা]
২। অধ্যাদেশের ৩৬(২) ধারায় বলা হয়েছে যে, শিল্প বিরোধের বিচার ও নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে শ্রম আদালত দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য হবে। নিম্নোক্ত ক্ষমতাসমূহসহ ১৯০৮ সনের দেওয়ানি কার্যবিধি আইনে (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন) ঐ আদালতকে যে সমস্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার সকল ক্ষমতাই শ্রম আদালতের বেলায় প্রযোজ্য হবে-
(ক) কোন ব্যক্তির আদালতের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং
(খ)শপথনামা পাঠ করিয়ে দ্রব্যাদি আদালতে হাজির করতে বাধ্য করা;
(গ) সাক্ষী ও দলিলপত্র পরীক্ষার উদ্দেশ্যে কমিশন নিয়োগ করা এবং
(ঘ) আদালতের সমীপে কোন পক্ষ উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রে একতরফা সিদ্ধান্ত দেয়া।
৩ । অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ বিচারের সময় শ্রম আদালত ১৮৯৮ সনের ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮ সনের ৫ নং আইন) অধীনে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের প্রদত্ত দণ্ডাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার সময় একে উক্ত কার্যবিধির অধীনে দায়রা আদালত হিসেবে গণ্য করতে হবে । [৩৬(৩) ধারা]
৪। শ্রম আদালতের মামলা দায়ের ও রেকর্ড পত্র বা দলিল দস্তাবেজ একজিবিট করার জন্য কোর্ট ফি দিতে হবে না। [৩৬(৪) ধারা]

