অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের অসুবিধা

অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের অসুবিধা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। আমাদের মতো দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধস্তন কর্মীরা শিক্ষিত ও সচেতন নয় । তাদেরকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তাতে তাদের মৌলিক অভাবই মিটে না। ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার- আচরণ যে মানের তাতে অধস্তনদের মধ্যে অসন্তুষ্টি বিরাজ করে।

তদুপরি প্রতিষ্ঠানের কার্য পরিবেশ নিম্নমানের হওয়ায় অধস্তনদের মধ্যে কমবেশি হতাশা লক্ষ করা যায়। ফলে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন যা গড়ে ওঠে সেখানে ঊর্ধ্বতনদের সমালোচনা করাই একটা সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়ায়।

অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের অসুবিধা

 

অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের অসুবিধা | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

যে কারণে এরূপ সংগঠনকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপকগণ নিরুৎসাহের চোখে দেখেন। যদিও আধুনিক বিশ্বে অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের মাধ্যমে কর্মীদের নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নকে নিশ্চিত করার প্রয়াস-প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায় । অবশ্য এটা ঠিক, অনানুষ্ঠানিক- সংগঠনের ধরন, এর সদস্যদের মান, দৃষ্টিভঙ্গি, ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে এরূপ সংগঠনের সঙ্গে আচরণ করা না হলে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে । নিম্নে এরূপ সংগঠনের অসুবিধাসমূহ তুলে ধরা হলো :

১. পরিবর্তনে বাধা সৃষ্টি (Resistance to change) :

প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দীর্ঘদিনে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বা দল গড়ে ওঠে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতিতে কোনো পরিবর্তন সাধন করা হলে তা অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বা দলের উপরে কখনও কখনও প্রভাব ফেলে । অনেক সময়ই এরূপ পরিবর্তনকে এরূপ সংগঠনের সদস্যরা সন্দেহের চোখে দেখে । ফলে প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনতে গিয়ে ঊর্ধ্বতনদেরকে সমস্যায় পড়তে হয় । এরূপ অবস্থা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক বিবেচিত হয় না ।

২. আনুষ্ঠানিকতার প্রতি নিরাসক্তি (An tagonism towards fomatities) :

অনেক সময় অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এর সদস্যদের প্রাত্যহিক কাজের অংশ হয়ে পড়ে । ফলে এরূপ সংগঠনে সৃষ্ট নিয়ম- রীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি এর সদস্যদের মাঝে এক ধরনের বশ্যতার সৃষ্টি হয়ে যায় । আর এ ধরনের প্রবণতা সৃষ্টি হলে তা আনুষ্ঠানিক সংগঠনের প্রতি আনুগত্য হ্রাস করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব বা ঊর্ধ্বতনের প্রতি এক ধরনের। নিরাসক্তির জন্ম দেয় ।

৩. অবাধ্যতা সৃষ্টি (Creation of insubordination) :

সংগঠনের নেতৃত্ব বা ঊর্ধ্বতনদের ভুল-ত্রুটি অনুসন্ধান এবং তাদের সম্বন্ধে নানান অন্যায় আলাপ-আলোচনা অনেক সময় কোনো অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের কাজ হয়ে দাঁড়ায়। এরূপ আলাপ-আলোচনার ফলে এর সদস্যদের মধ্যে ঊর্ধ্বতনদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্ম দেয়। এতে সদস্যদের আনুগত্য হ্রাস পায় এবং অবাধ্যতা জন্ম নেয় । আর এরূপ অবস্থা একবার সৃষ্টি হলে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই ক্ষতিকর বিবেচিত হয়ে থাকে ।

৪. সৃষ্ট (Creation of conflict) :

অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের আরেকটি বড় অসুবিধা হলো এটা কখনও আনুষ্ঠানিক সংগঠনের স্বার্থের প্রতিবন্ধক হয়ে পড়ে। যেমন- অনানুষ্ঠানিক সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যকার আলাপ-আলোচনার সুযোগ লাভের জন্য দুপুরের খাবারের সময় বা টিফিন বিরতির সময় বাড়ানোর প্রত্যাশা করে। অথচ এরূপ সময় বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের অনুকূল হয় না। তাই উভয় ধরনের সংগঠনের দ্বন্দ্ব অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত হয় ।

৫. ব্যক্তিক ও দলীয় দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি (Increase in personal and group conflicts) :

প্রতিষ্ঠানে যখন একাধিক অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বা দল গড়ে ওঠে তখন একটি দলের সঙ্গে অন্য দলের বা এক দলের সদস্যের সঙ্গে অন্য দলের সদস্যের দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। একই প্রতিষ্ঠানে আঞ্চলিকভাবে, সম্প্রদায়গতভাবে বা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত অনানুষ্ঠানিক দলের মধ্যে অনেক সময়ই বিরোধ লক্ষ করা যায় । এরূপ বিরোধ অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করে। কোনো একজন ব্যক্তি একাধিক এরূপ সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে নিজেই মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়তে পারে । যাও ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হয় ।

 

অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের অসুবিধা | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৬. গুজব সৃষ্টি (Spreading rumour) :

অনানুষ্ঠানিক সংগঠনে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনায় অনেক সময় প্রকৃত তথ্য বিকৃত হয়ে গুজবে রূপ লাভ করে । প্রকৃত ঘটনা বা তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বেই তা বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার বিষয়ে পরিণত হয় । অনানুষ্ঠানিক দলগুলো প্রাপ্ত তথ্য নিজেদের ধারণা অনুযায়ী বিশ্লেষণ করে তা বিভিন্নভাবে রং চড়িয়ে প্রচার করে। এতে প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হয় ।

Leave a Comment