ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতার প্রকারভেদ নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনার পরিচিতি” বিষয়ক পাঠের অংশ। একজন ব্যবস্থাপক কতটা দক্ষতা বা যোগ্যতার সঙ্গে তার কাজ সম্পাদন করতে পারবেন সে বিষয়টি কতকগুলো অর্জিত জ্ঞান বা দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত ব্যবস্থাপকগণকে যোগ্যতার সঙ্গে কার্য সম্পাদনে কম-বেশি এ সকল জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন করতে হয় ।
Table of Contents
ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতার প্রকারভেদ

ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয় এমন বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা নিম্নে আলোচনা করা হলো :
১. কারিগরি দক্ষতা (Technical skill) :
প্রতিটা কাজ সম্পাদনে যে পদ্ধতি, কৌশল বা যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারা কারিগরি দক্ষতা হিসেবে গণ্য । কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জ্ঞান যেমনি কারিগরি দক্ষতা আব্যশক তেমনি কোম্পানির হিসাব সংরক্ষণ, উদ্বৃত্তপত্র (Balance sheet) তৈরির জ্ঞানও কারিগরি দক্ষতার আওতাধীন।
Ricky W. Griffin বলেন, “Technical skills are the skills necessary to accomplish or understand the specific kind of work being done in an organization” অর্থাৎ কারিগরি দক্ষতা হলো সেই দক্ষতা যা প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্দিষ্ট ধরনের কাজ সম্পাদন বা ঐ কাজ বোঝার জন্য প্রয়োজন হয় । প্রতিষ্ঠানের নিচের দিকে ও মধ্যম পর্যায়ে কর্মরত নির্বাহীদের এরূপ জ্ঞান বা দক্ষতার অধিক প্রয়োজন পড়ে ।
২. মানবীয় বা আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা (Human or interpersonal skill) :
মানবীয় বা আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা বলতে ব্যক্তি বা দলকে বুঝে সেভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব চিন্তার প্রতি তাদের সমর্থন আদায় এবং প্ররোচিত ও উৎসাহিত করার দক্ষতাকে বুঝায় । Bartol ও Martin-এর মতে, “Human skills are skills associated with a managers ability to work well with others, both as a member of a group and as a leader who gets things done through other”.
অর্থাৎ মানবীয় দক্ষতা বলতে একজন ব্যবস্থাপক সংশ্লিষ্ট সেই দক্ষতাকে বুঝায় যার ফলে সে দলীয় সদস্য হিসেবে অন্যদের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলেমিশে কাজ করতে পারে এবং নেতা হিসেবে অন্যদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত কাজ আদায় করতে সক্ষম হয় । মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাগকগণের মাঝে এরূপ দক্ষতা অধিক থাকার প্রয়োজন পড়ে ।
৩. কল্পনা সংক্রান্ত দক্ষতা (Conceptual skill) :
অস্পষ্ট বা অজ্ঞাত কোনো বিষয়ে সঠিক ধারণা করতে পারার সামর্থ্যকে কল্পনা বিষয়ক দক্ষতা বলে । প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় বিধায় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের নির্বাহীদের এ ধরনের দক্ষতার অধিক প্রয়োজন পড়ে ।
ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিবর্তিত অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, কীভাবে তার সাথে সমন্বয় সাধন করা যাবে ইত্যাদি বিষয় আগাম ভাবতে পারাও এরূপ দক্ষতার আওতাধীন। Terry ও Franklin -এর মতে, “কল্পনা বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বলতে বিশেষ অবস্থায় বা বিশেষ প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি কীভাবে সম্পাদন করে তার উত্তরণ ঘটানো যাবে সেই সম্পর্কে বা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে অন্তদৃষ্টির মাধ্যমে আগাম দর্শন করার সামর্থ্যকে বুঝায় ।”
৪. সমস্যা অনুধাবনের দক্ষতা (Diagnostic skill) :
একজন ব্যবস্থাপকের জন্য সমস্যা বুঝতে পারার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। Ricky W. Griffin বলেছেন, “সমস্যা অনুধাবনের দক্ষতা হলো এমন দক্ষতা যা একজন ব্যবস্থাপককে কোনো পরিস্থিতিতে যথাযথ করণীয় সম্পর্কে আগাম বুঝতে বা ধারণা সৃষ্টিতে সহায়তা করে ।” বলা হয়ে থাকে যে, প্রকৃত সমস্যা অনুধাবন করতে পারলে এরূপ অনুধাবনই সমস্যা সমাধানে অর্ধেক কাজ দেয় ।

দ্রুত সমস্যা অনুধাবন করা গেলে তা সমাধানে ত্বরিৎ কর্মব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় । ফলে সমস্যা বাড়ার ও অধিক জটিলতা সৃষ্টির সুযোগ থাকে না। পরিস্থিতিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বা ব্যবস্থাপনা (Situational leadership or management)-এর সাফল্য এরূপ দক্ষতার ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল । প্রতিষ্ঠানের উচ্চ বা মধ্য সারির ব্যবস্থাপনার জন্য এ ধরনের দক্ষতার অধিক প্রয়োজন পড়ে । উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, একটা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের বিভিন্ন পরিমাণের কারিগরি, মানবীয় ও ধারণাগত জ্ঞান বা দক্ষতা থাকতে হয়।
