ব্যবস্থাপনা পরিবেশের প্রকারভেদ

ব্যবস্থাপনা পরিবেশের প্রকারভেদ এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ। ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর উপায় ব কৌশল । এটি একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ব্যবস্থাপনা নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরস্থ একটা পক্ষ । অন্যান্য বিভিন্ন পক্ষও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কাজ করে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের বাইরের বিভিন্ন পক্ষ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাও বিদ্যমান থাকে । যাদের উভয়ই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করে । নিম্নে তা রেখাচিত্রের সাহায্যে তুলে ধরা হলো :

ব্যবস্থাপনা পরিবেশের -প্রকারভেদ

 

ব্যবস্থাপনা পরিবেশের প্রকারভেদ | পরিবেশ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

উপরের রেখাচিত্রে বর্ণিত বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা পরিবেশ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো

১. অভ্যন্তরীণ পরিবেশ (Internal environment) :

একটা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যবস্থাপনা একটা পক্ষ । তাকে অন্যদের সাথে নিয়ে, মন-মেজাজ বুঝে সেমতে প্রতিষ্ঠান চালাতে হয় । এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নানান সুযোগ-সুবিধা, নিয়ম-নীতি, দীর্ঘদিনে গড়ে উঠা সংস্কৃতি ইত্যাদিও তার কাজকে প্রভাবিত করে। তাই এগুলো নিয়েই ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ গড়ে উঠে।

Bovee ও তাঁর সহলেখকগণের মতে, “Internal environment includes the forces inside the organization that can influence the organization and its performance.  ” ‘ অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরের প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিসমূহ যা প্রতিষ্ঠান ও এর কাজকে প্রভাবিত করে তাই অভ্যন্তরীণ পরি-বেশের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে রেখাচিত্রের সাহায্যে ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উপাদানসমূহ তুলে ধরা হলো :

 

ব্যবস্থাপনা পরিবেশের প্রকারভেদ | পরিবেশ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

২. বাহ্যিক পরিবেশ (External environment) :

ব্যবস্থাপনা একটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে বহিঃস্থ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয় । এক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যেমনি প্রভাব বিস্তার করে তেমনি একটা দেশ বা এলাকার প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও প্রভাব রাখে। এর মধ্যে কিছু পক্ষ থাকে যেগুলো ব্যবস্থাপনাকে সরাসরি প্রভাবিত করে ।

 

আবার কিছু উপাদান থাকে যেগুলো দেশের ব্যবসায় পরিবেশকে সাধারণভাবে প্রভাবিত করার কারণে ব্যবস্থাপনা এর দ্বারা প্রভাবিত হয়। এগুলোর সমন্বয়েই ব্যবস্থাপনার বাহ্যিক পরিবেশ গড়ে উঠে । Bartol Martin, “External environment include the major forces outside the organization that influence the ability to achieve organizational goal. 10” অর্থাৎ বাহ্যিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত হলো প্রতিষ্ঠানের বহিঃস্থ প্রভাব সৃষ্টিকারী সেই সকল প্রধান শক্তি যা লক্ষ্যার্জনের সামর্থ্যকে প্রভাবিত করে। এরূপ পরিবেশকে নিম্নোক্ত দু’ভাগে ভাগ করা যায় :

ক) কার্য পরিবেশ (Task environment) :

বাইরের যে সকল পক্ষ ব্যবস্থাপনার কাজের উপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাকেই কার্য পরিবেশ বলে। Bovee ও তাঁর সহযোগীদের মতে, “External environment includes forces outside the organization that influence the ability to achieve organizational goals.” অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের বাইরের শক্তিসমূহ যা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের সামর্থ্যকে প্রভাবিত করে তাই বাহ্যিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবস্থাপনা- পরিবেশের এ সকল বহিঃস্থ উপাদানসমূহ বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায় জগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্যবস্থাপনাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও সেই সাথে প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত নিতে যেয়ে এরূপ পরিবেশের উপাদানসমূহকে বিবেচনা করতে হয়। নিম্নে রেখাচিতে সাহায্যে কার্য পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান তুলে ধরা হলো :

 

ব্যবস্থাপনা পরিবেশের প্রকারভেদ | পরিবেশ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

খ) সাধারণ পরিবেশ (General environment) :

সাধারণ পরিবেশ বলতে একটা এলাকা বা দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বুঝায় যা সকল প্রতিষ্ঠানের কাজকেই সাধারণভাবে প্রভাবিত করে। ব্যবসায় খাত প্রভাবিত হওয়ায় প্রতিটা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাও এর দ্বারা সাধারণভাবে প্রভাবিত হয়। Bovee ও তাঁর সহযোগীদের মতে, “General environment is the part of the external environment composed of forces that have a general influence on the organization. ” অর্থাৎ সাধারণ পরিবেশ হলো বাইরের পরিবেশের সমন্বয়ে সৃষ্ট সেই শক্তিসমূহ যা প্রতিষ্ঠানের কাজের উপর সাধারণ প্রভাব বিস্তার করে। নিম্নে রেখাচিত্রের সাহায্যে সাধারণ পরিবেশের উপাদানসমূহ তুলে ধরা হলোঃ

 

ব্যবস্থাপনা পরিবেশের প্রকারভেদ | পরিবেশ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

Leave a Comment