পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের সম্পর্ক

পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের সম্পর্ক এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিকল্পনা” বিষয়ক পাঠের অংশ। পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার প্রথম ও মুখ্য কাজ। এটি ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের ভিত্তিস্বরূপ । Weihrich & Koontz, “Planning logically precedes the execution of all other managerial functions.” অর্থাৎ পরিকল্পনা অন্যান্য ব্যবস্থাপনীয় কার্য বাস্তবায়নে বাস্তব অর্থেই অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করে । এটাকেই পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে-

“A manager must plan in order to know what kinds of organization relationships and personal qualifications are needed along which course subordinates are to be leds, and what type of control is to be applied. And of course, all the other managerial functions must be planned if they are to be effective “

উপরোক্ত বক্তব্য হতে প্রতীয়মান হয় যে, পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজ কীভাবে সম্পাদিত হবে তার আগাম রূপরেখা প্রদান করে। তাই পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার প্রতিটা কাজের সঙ্গে পরিকল্পনার সম্পর্ক নিয়ে আলোচিত হলো :

পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের সম্পর্ক

 

পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের সম্পর্ক | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

 

১. পরিকল্পনা ও সংগঠন (Planning and organizing) :

পরিকল্পনার সঙ্গে সংগঠনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। সংগঠন হলো পরিকল্পনাকে কার্যে পরিণত করার প্রধান হাতিয়ার। সংগঠন বলতে এমন একটি কৌশলকে বুঝানো হয় যার দ্বারা শ্রম বিভাজন, কর্তব্য ও দায়িত্ব বণ্টন, ক্ষমতা অর্পণ, উদ্দেশ্যভিত্তিক সম্পর্ক নির্ধারণ এবং উপকরণসমূহকে সুসংগঠিত করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া এ সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা আদৌ সম্ভব নয়।

২. পরিকল্পনা ও কর্মীসংস্থান (Planning and staffing) :

পরিকল্পনা ব্যতীত কর্মীসংস্থানজনিত কার্যাদিও সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে সম্পাদিত হয় না। কারণ পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে কর্মী নিয়োগ, পদোন্নতি, ছাঁটাই, বদলি ইত্যাদি কাজ সুসম্পন্ন হয়। একজন ব্যক্তির নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোন্ নীতি অনুসৃত হবে ইত্যাদি বিষয় পূর্ব হতে নির্ধারিত থাকা আবশ্যক । তাই পরিকল্পনা কর্মীসস্থানের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত।

৩. পরিকল্পনা ও নির্দেশনা (Planning and direction) :

নির্দেশনা হলো কর্মীদের আদেশ-নির্দেশ প্রদান, তত্ত্বাবধান এবং ব্যাপক অর্থে নেতৃত্ব দান করা। পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের মুখ্য চালিকাশক্তি এবং সঠিক নির্দেশনার ওপরই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য অর্জন সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। কী আদেশ দেয়া হবে, কাকে আদেশ দেয়া হবে, কে আদেশ দিবে, কীভাবে ও কখন আদেশ দেয়া হবে ইত্যাদি বিষয়ে পূর্ব পরিকল্পনা না থাকলে তা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন সম্ভব নয় ।

৪. পরিকল্পনা ও প্রেষণা (Planning and motivation) :

প্রেষণা বর্তমানকালে ব্যবস্থাপনার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ । পরিকল্পিতভাবে কর্মীদেরকে প্রণোদিত করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। প্রেষণা হলো কর্মীদের সুপ্ত ইচ্ছাকে কার্যে পরিণত করার একটি কৌশল। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া প্রণোদনা কার্যকর হতে পারে না। কারণ সুপরিকল্পিতভাবে কর্মীদেরকে উৎসাহিত ও অগ্রসর করতে না পারলে “হিতে বিপরীত’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

৫. পরিকল্পনা ও সমন্বয় সাধন (Planning and coordination) :

সমন্বয় সাধন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভাগ ও উপবিভাগের কাজের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি স্থাপন করা হয় । এরূপ ঐক্য ও সংহতি স্থাপন অবশ্যই একটি মূল লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে করতে হয় । তাই বিভাগীয়, ব্যক্তিগত বা কার্যভিত্তিক সমন্বয় সাধন শুধুমাত্র আদর্শ পরিকল্পনার সাহায্যেই সম্ভব।

৬. পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ (Planning and controlling) :

পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক বিদ্যমান । নিয়ন্ত্রণের সংজ্ঞা বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকৃত কার্যফলের পারস্পরিক তুলনায় নির্ণীত বিচ্যুতি দূর করার জন্যই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাদি গৃহীত হয়। তাই এটি স্পষ্ট যে, আদর্শ মান বা পরিকল্পনা ছাড়া বিচ্যুতি নির্ধারণ করা এবং এর সংশোধন অসম্ভব ।

পরিশেষে বলা যায়, পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনার প্রত্যেকটি কার্যের দিকদর্শন, নির্দেশিকা ও মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তর থেকে একেবারে নিম্নস্তর পর্যন্ত সকল পর্যায়ে সকল ধরনের কার্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে । রেখাচিত্রের সাহায্যে পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের সম্পর্ক দেখানো হলো :

 

 

পরিকল্পনার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের সম্পর্ক | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

Leave a Comment