পরিকল্পনা অঙ্গন বা পরিকল্পনার পটভূমি বলতে কী বুঝায়? তা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিকল্পনা” বিষয়ক পাঠের অংশ। পরিকল্পনা অঙ্গন বলতে সেই অবস্থাকে বুঝায় যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ বিষয়ক বিধায় এরূপ অবস্থা পূর্বেই অনুমান করে ঠিক করা হয়। এরূপ অনুমিত অবস্থা যতোটা কার্যকরী হয় পরিকল্পনার বাস্তবায়নও ততো সহজ হয়। এরূপ অবস্থাতে পরিবর্তন ঘটলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা হয় অথবা পরিকল্পনাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধনের প্রয়োজন পড়ে ।
পরিকল্পনা অঙ্গন বা পরিকল্পনার পটভূমি বলতে কী বুঝায়

একটা বাড়ির যেমনি আঙ্গিনা থাকে এবং বাড়ির লোকজন চলাফেরার কাজে সেই আঙ্গিনাকে ব্যবহার করে ঠিক তেমনি একটা পরিকল্পনা নেয়ার সময় ঐ পরিকল্পনা কোন্ ধরনের অবস্থার মধ্যদিয়ে বাস্তবায়িত হবে তারও একটা আঙ্গিনা নির্ধারিত হয়। যেই অবস্থার মধ্য দিয়ে ঐ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় বা বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট লোকজন ঐ অবস্থার মধ্য দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
ধরা যাক, ছাত্রছাত্রীদের একটা দল নির্দিষ্ট দিনে কোথাও বনভোজনে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে । এরূপ দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কতকগুলো বিষয় অনুমান করে নেয়া হয়েছে; তা হলো-ঐ দিন রাস্তায় কোনো প্রতিরোধ থাকবে না, যানবাহন পেতে কোনো সমস্যা হবে না, দিনটা বৃষ্টি-বাদলমুক্ত থাকবে, ছাত্রছাত্রীরা মোটামুটি সবাই সুস্থ থাকবে ইত্যাদি । এরূপ অনুমিত অবস্থাতে যদি কোনো সমস্যা হয় তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দেবে ।
Weihrich Koontz, “Planning premises are defined as the anticipated environment in which plans are expected to operate. They include assumptions or forecasts of the future and known conditions that will affect the operation of plans. “43 অর্থাৎ পরিকল্পনা অঙ্গন হলো পূর্বে অনুমান করা পরিবেশ, যার মধ্য দিয়ে পরিকল্পনা কাজে রূপায়িত হবে বলে আশা করা যায় । যার অন্তর্ভুক্ত হলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা বা পূর্বানুমান করা এবং ভবিষ্যৎ অবস্থা সম্পর্কে জানা যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করবে ।
পরিশেষে বলা যায়, পরিকল্পনা অঙ্গন বা পটভূমি নির্ণয় হলো পরিকল্পনা প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভবিষ্যৎ অবস্থা কী হতে পারে সেই সম্পর্কে পূর্বানুমান করে যে বিভিন্ন সম্ভাবনা অসম্ভাবনা নির্দিষ্ট করা হয় বা অবস্থা দাঁড় করানো হয় অনুমিত সেই সকল অবস্থাদিকেই পরিকল্পনা অঙ্গন বলে। এরূপ অঙ্গন অনুযায়ীই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়ে থাকে।

এরূপ অনুমানে যে সকল সম্ভাবনার দিক ধরে নেয়া হয় পরিকল্পনাতে তাকে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা রাখা হয় । যে সকল সমস্যা ভবিষ্যতে হতে পারে বলে পূর্বানুমান করা হয় পরিকল্পনাতে সেগুলো কাটিয়ে উঠে লক্ষ্যার্জনকে নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও নেয়া হয় । তাই এরূপ অনুমিত অবস্থা যদি না ঘটে বা বিদ্যমান না থাকে তবে পরিকল্পনা তার কার্যকারিতা হারায় ।
