সফল পরিকল্পনা অঙ্গন রচনায় করণীয়সমূহ

সফল পরিকল্পনা অঙ্গন রচনায় করণীয়সমূহ নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিকল্পনা” বিষয়ক পাঠের অংশ। একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নে যেমনি কতকগুলো ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় তেমনি কার্যকর পরিকল্পনা অঙ্গন রচনার ক্ষেত্রেও কতকগুলো বিষয় মেনে চলার প্রয়োজন পড়ে। নিম্নে সফল পরিকল্পনা অঙ্গন প্রণয়নের প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো :

সফল পরিকল্পনা অঙ্গন রচনায় করণীয়সমূহ

 

সফল পরিকল্পনা অঙ্গন রচনায় করণীয়সমূহ | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

১. প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট অঙ্গনসমূহ নির্বাচন (Selection of the necessary premises relevant to organization) :

পরিকল্পনা গ্রহণকালে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কোন্ কোন্ আঙ্গিনাসমূহ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনা হবে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিকল্পনা আঙ্গিনার এমন কিছু বিষয় থাকে যা একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই সফল পরিকল্পনা অঙ্গন নির্ণয়কালে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কোন্ কোন্ বিষয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে অধিক প্রভাব রাখবে তা বিবেচনায় আনার প্রয়োজন পড়ে ।

২. বিকল্প অঙ্গনসমূহ নির্ধারণ (Determination of alternative premises) :

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রভাব সৃষ্টিকারী বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে যে পূর্বানুমান করে অঙ্গন তৈরি করা হয় তার সবটা ঘটবে এটা প্রত্যাশা করা যায় না । তাই যে অবস্থা ধরে নেয়া হচ্ছে তা বিদ্যমান না থাকলে বিকল্প কোন্ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে তাও পটভূমি নির্ধারণকালে ঠিক করতে হয়। এরূপ পটভূমি নির্ধারণ আপদকালীন পরিকল্পনা কী হতে পারে তার দিকনির্দেশ করে ।

 

৩. পরিকল্পনা অঙ্গনের যথার্থতা পরীক্ষা (Varification of the genuineness of premises) :

পরিকল্পনা অঙ্গন যেটা পূর্বানুমান করা হবে সেটা কতটা যথার্থ তা যাচাই করা উক্ত অঙ্গন রচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এজন্য বিভাগ বা উপবিভাগ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সম্ভাব্য পরিবেশ সম্পর্কে কী চিন্তা-ভাবনা করছে তার খোঁজ- খবর নেয়া উচিত । বাস্তবে যারা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তারা পরিকল্পনা অঙ্গনের বিষয়গুলো বাস্তবে প্রত্যক্ষ করে । তাই শুধুমাত্র বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করলেই চলে না, বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহীগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কী পূর্বানুমান করেন তার সঙ্গে ঊর্ধ্বতনদের চিন্তা মিলানো ও প্রয়োজনে ধারণাতে কিছুটা সংশোধন করা যেতে পারে।

 

সফল পরিকল্পনা অঙ্গন রচনায় করণীয়সমূহ | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৪. পরিকল্পনা অঙ্গন সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিতকরণ (Informing the associates about the premises) :

প্রতিষ্ঠানের মূল পরিকল্পনা গ্রহণকালে যে পরিকল্পনা অঙ্গন নির্ধারণ করা হয়েছে সেই সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অধস্তন পর্যায়ে যতোটা সম্ভব অবহিত করা প্রয়োজন। এতে পরিকল্পনা গ্রহণ কতটা যথার্থ হয়েছে সেই সম্পর্কে অধস্তন নির্বাহীগণ প্রয়োজনীয় ধারণা পেতে পারে। এ ছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে কোন্ কোন্ বিষয় প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এ সম্পর্কেও তারা ধারণা পায় । ফলে তারা তাদের পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণকালে যথার্থ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে এবং বাস্তবায়নকালে পূর্ব অনুমিত বিষয়াদি সম্পর্কে পূর্ব ধারণা লাভ করে । ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হয় ।

Leave a Comment