ব্যবস্থাপনা পরিসর ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও ব্যবস্থাপনা পর্যায় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। ব্যবস্থাপনা- পরিসর ও ব্যবস্থাপনা -পর্যায় কোনো সংগঠন কাঠামোতে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একটি বিষয়। ব্যবস্থাপনা -পরিসর হলো একজন ব্যবস্থাপকের বা নির্বাহীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত কর্মী বা নির্বাহ সংখ্যা; যারা সরাসরি উক্ত নির্বাহীর নিকট কাজের রিপোর্ট দেয় ও জবাবদিহি করে । অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পর্য হলো সংগঠন কাঠামোর ওপর হতে নিচের স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের সংখ্যা যেখানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃক অধস্তনদের তত্ত্বাবধান করা হয় ।

ব্যবস্থাপনা -পর্যায়ের সর্বোচ্চ স্তরে থাকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) এবং নিচে থাকে মায় পর্যায়ের তত্ত্বাবধায়ক বা ব্যবস্থাপকগণ। এ ধরনের ব্যবস্থাপকগণের অধীনে থাকে শ্রমিক-কর্মী, যারা কোনো ধরনের ব্যবস্থাপনা কাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় (Non-managerial employee )।

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়

একটি সংগঠন কাঠামোতে নিচের পর্যায়ে শ্রমিক-কর্মীর সংখ্যা ঠিক রেখে ব্যবস্থাপনা- পরিসর যদি বাড়ানো হয় তবে তত্ত্বাবধান পর্যায় হ্রাস পায়। ফলে কমসংখ্যক তত্ত্বাবধায়ক বাঁ ব্যবস্থাপক নিয়ে কাজ সম্পাদন করা যায়। যদি প্রতিষ্ঠানে ২৪ জন কর্মী থাকে এবং তারা সবাই একজন নির্বাহীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকে তবে উচ্চ নির্বাহীর পরিসর হয় ২৪ । এখানে ব্যবস্থাপনা- পর্যায় হবে ১। ধরা যাক, একটা প্রতিষ্ঠানে নিচের পর্যায়ে ২৪ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে । নিচের পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা-পরিসর যদি ১২ রাখা হয় তবে ব্যবস্থাপনা- পর্যায় হবে ২ এবং নিযুক্ত ব্যবস্থাপকের সংখ্যা হবে ৩ জন । চিত্রের সাহায্যে সংগঠন কাঠামোর এ চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হলো :

 

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও ব্যবস্থাপনা পর্যায় | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা- পরিসর যদি ছোট রাখা হয় তখন ব্যবস্থাপনা স্তর ও নির্বাহীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতিষ্ঠানে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়লেও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা যায়। ধরা যাক, নিচের পর্যায়ের নির্বাহীর ব্যবস্থাপনা -পরিসর ৪। এতে ব্যবস্থাপনার পর্যায় হবে ৩ এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত নির্বাহী সংখ্যা হবে ৯ জন। চিত্রের মাধ্যমে সংগঠন কাঠামোর এ অবস্থা তুলে ধরা হলো :

 

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও ব্যবস্থাপনা পর্যায় | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

উভয় চিত্রে প্রদর্শিত অবস্থা পাশাপাশি রাখলে একটা তুলনামূলক চিত্র পাওয়া সম্ভব, যা নিম্নরূপঃ

 

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও ব্যবস্থাপনা পর্যায় | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, ব্যবস্থাপনা -পরিসর বড় হলে ব্যবস্থাপনা -পর্যায়ের সংখ্যা হ্রাস পায়। ফলে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত নির্বাহীর সংখ্যাও কম হয়। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা -পরিসর ছোট হলে ব্যবস্থাপনা -পর্যায়ের সংখ্যা বাড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানে নির্বাহীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে একটি পরস্পর নির্ভরশীল অথচ বিপরীতমুখী সম্পর্ক লক্ষণীয় ।

Leave a Comment