ছোট ব্যবস্থাপনা পরিসর বা উচ্চাকৃতির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। ছোট তত্ত্বাবধান পরিসর বা ছোট ব্যবস্থাপনা পরিসর বলতে একজন নির্বাহীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে কর্মী বা অধস্তনের সংখ্যা কম রাখাকে বুঝায়। ছোট ব্যবস্থাপনা পরিসরে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানে নির্বাহীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ।
মাঠ পর্যায়ের নির্বাহীদের তত্ত্বাবধানের জন্য আবার ঊর্ধ্বতন নির্বাহী নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে । এভাবে প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার স্তর বা পর্যায় বেড়ে যায় । ফলে সংগঠন কাঠামো বিভিন্ন পর্যায়ে বিন্যস্ত হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে । এতে সংগঠন কাঠামো নিচ হতে ওপর দিকে বা ওপর হতে নিচের দিকে উচ্চাকৃতি লাভ করে। তাই একে উচ্চাকৃতির সংগঠন কাঠামো (Tall organization structure) নামে অভিহিত করা হয় ।
ছোট ব্যবস্থাপনা পরিসর বা উচ্চাকৃতির সাংগঠনিক কাঠামো

M. Hodgetts এ সম্পর্কে বলেন, “A narrow span of control, in which two or three people report to a superior, results is a tall organizational structure, “35 অর্থাৎ একটি ছোট নিয়ন্ত্রণ পরিসর হলো যেখানে দুই বা তিনজন কর্মী তার ঊর্ধ্বতনের কাছে সরাসরি কাজের বিবরণ দেয় বা জবাবদিহি করে; যার ফলে প্রতিষ্ঠানে উচ্চাকৃতির সংগঠন কাঠামোর সৃষ্টি হয় ।
Bovee, “Tall structure has a narrow span or management, so the organization has more hierarchical levels. “36 অর্থাৎ উচ্চাকৃতির সংগঠন কাঠামোতে ব্যবস্থাপনার পরিসর ছোট থাকে এবং যে কারণে প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামোতে স্তরীয় পর্যায়ের সংখ্যা বেশি থাকে ।
উপরোক্ত আলোচনা ও চিত্র হতে ছোট ব্যবস্থাপনা পরিসর বা উচ্চাকৃতির সংগঠন কাঠামোর নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ লক্ষণীয় :
১. এক্ষেত্রে একজন নির্বাহীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে অধস্তনের সংখ্যা কম থাকে;
২. এর ফলে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগকৃত নির্বাহীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়;
৩. এতে ব্যবস্থাপনার পর্যায় ও সাংগঠনিক স্তর বাড়ে;
৪. এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিভাগ ও উপবিভাগের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়;
৫. সংগঠন কাঠামো নিচ হতে ওপর দিকে উচ্চাকৃতির পিরামিডের রূপ লাভ করে;
৬. এরূপ পরিসর নির্দিষ্ট করা হলে সংগঠনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক (Inter-relationship) বৃদ্ধি পায়;

৭. সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় হতে নিচের কর্মকেন্দ্র (Working centre)-এর দূরত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় উচ্চ নির্বাহীর সঙ্গে কর্মীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ হ্রাস পায়; ও
৮. এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা অধস্তন নির্বাহীদের কাছে অধিক মাত্রায় বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজন পড়ে ।
