কাম্য ব্যবস্থাপনা পরিসর এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। কাম্য ব্যবস্থাপনা পরিসর বলতে একজন নির্বাহীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এমন সংখ্যক কর্মী বা অধস্তন নির্বাহীর নিয়োগকে বুঝায় যাতে তত্ত্বাবধান কাজে নির্বাহীর সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পাশাপাশি অধস্তনদের নিকট থেকেও সর্বোচ্চ পরিমাণে কাজ আদায় করে নেয়া সম্ভব হয় ।
কাম্য ব্যবস্থাপনা পরিসর
এ সংখ্যা হতে অধস্তনের সংখ্যা বাড়ালেই নির্বাহী কার্যভারগ্রস্ত হয় এবং তত্ত্বাবধানের মান দুর্বল হয়ে থাকে এবং এ সংখ্যা একটু কম করা হলে নির্বাহীর সামর্থ্যের সবটা কাজে লাগে না বা অতিমাত্রায় তত্ত্বাবধানের কারণে অধস্তনদের মনে বিরক্তির উদ্রেক হয় । এ বিষয়টি R. M. Hodgetts একটা সুন্দর চিত্রের মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে উপস্থাপন করেছেন :

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে একজন নির্বাহীর পরিসরের ‘আদর্শ সংখ্যা’ নিরূপণের জন্য ব্যবস্থাপনা বিশারদগণ অনেক চিন্তা-গবেষণা করেছেন। কেউ কেউ এরূপ পরিসর ছোট রাখার পক্ষে এবং কেউ কেউ এটা বড় রাখার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন।
বৃটিশ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক L. Urwick প্রতিষ্ঠানের উপরি পর্যায়ে একজন নির্বাহীর পরিসর ৪ এবং একেবারে নিচের পর্যায়ে শ্রমিক-কর্মীর সংখ্যা ৮ হতে ১২ জন রাখার কথা বলেছেন 142 অবশ্য পরবর্তীকালে তিনি তাঁর ধারণাকে আরও সুসংহত ও নির্দিষ্ট করে বলেছেন, “No person should supervise more than five, or at the most, six, direct subordinates whose work interlocks. 43 অবশ্য অনেকে ব্যবস্থাপনার একেবারে নিচের পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা পরিসর বড় রাখার কথা বলেছেন। এ সংখ্যা কেউ কেউ ২০ হতে ৩০ পর্যন্ত রাখা যায় বলেও সুপারিশ করেছেন ।
আমেরিকান ব্যবস্থাপনা সংঘ (AMA) ১০০টি বড় কোম্পানির ওপর পরিসংখ্যান চালিয়ে দেখেছে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে তত্ত্বাবধান পরিসর রয়েছে ১ হতে ২৪। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সংখ্যা (Median Number) হলো ৯ ।
৪১টি ছোট প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালিয়েও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে । এদের ২৫ জন শীর্ষ নির্বাহীর তত্ত্বাবধান পরিসরই হলো ৭ অথবা এর কিছু বেশি। তবে সবচেয়ে বহু ব্যবহৃত (Common) সংখ্যা হলো ৮। যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের ৪০৯টা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালিয়ে তত্ত্বাবধান পরিসরের মাঝামাঝি সংখ্যা (Median Number) পাওয়া গেছে ৬ জন তবে Weinrich 3 Koontz ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে তত্ত্বাবধান পরিসর কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে বলেছেন, একেবারে শীর্ষ নির্বাহী অপেক্ষা মাঝামাঝি পর্যায়ের নির্বাহীদের কাজের চাপ বেশি থাকে ।
তাদের একদিকে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নেতৃত্ব দিতে হয় অন্যদিকে নানান বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও জবাবদিহি করতে হয় । তাই ঐ পর্যায়ের নির্বাহীর তত্ত্বাবধান পরিসর ছোট হওয়াই উত্তম বর্তমানকালে সকল ব্যবস্থাপনা বিশারদ একমত যে, নিচের দিকের নির্বাহীদের ব্যবস্থাপনা পরিসর তুলনামূলকভাবে বড় হতে পারে ।
তবে উল্লেখ্য, এরূপ আদর্শ সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়টি বর্তমানে অনেকটা গৌণ হয়ে গেছে । বরং একজন নির্বাহীর তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ণয়ে এক্ষেত্রে যে সকল উপাদান বিবেচনা করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ ও বিবেচনা করে কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ধারণের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে ।
উপসংহারে বলা যায়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত প্রতিটি নির্বাহীর ব্যবস্থাপনা পরিসর তার নিজের ও সেই সাথে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন অবস্থা বিবেচনায় যদি এমনভাবে নির্ণীত হয় যে, এতে নির্বাহী ও অধস্তনদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব তবে ঐ সংখ্যাসীমাকেই কাম্য তত্ত্বাবাধান পরিসর বলে ।

এ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিধ্বনি ঘটেছে Stoner ও অন্যদের লেখনীতে। তাঁরা বলেছেন, “Today’s researchers are in agreement that there is no one ideal span of management. Choosing an appropriate span of management requires weighing such factors as the environment and the capabilities of both managers and employees.” “47 অর্থাৎ আজকের দিনের গবেষকগণ সকলেই একটি বিষয়ে প্রায় একমত যে, ব্যবস্থাপনার কোনো একক আদর্শ তত্ত্বাবধান পরিসর নেই । একটি যথার্থ ব্যবস্থাপনা পরিসর নির্বাচন করার ক্ষেত্রে পরিবেশ এবং ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের যোগ্যতার মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনা করতে হয়।
