আজকের আলোচনার বিযয় কার্যভিত্তিক সংগঠন কাকে বলে – যা সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন এর অর্ন্তভুক্ত, কার্যভিত্তিক সংগঠন বলতে এমন এক ধরনের সংগঠনকে বুঝায়, যেখানে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে এদের এক একটিকে এক একজন বিশেষজ্ঞ বা পদস্থকর্মীর হাতে ন্যস্ত করা হয় ।
এরূপ সংগঠনে বিশেষজ্ঞদেরকে সহযোগী বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ না করে সরাসরি সীমিত কর্তৃত্ব সহযোগে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ধরনের সংগঠনের একেবারে উপরিস্তরে এক বা একাধিক সরলরৈখিক নির্বাহী কর্মরত থাকে। ব্যবস্থাপনার মধ্যম ও নিচের পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ কর্মী বা পদস্থ কর্মীগণই উচ্চ নির্বাহীর নির্দেশ মত কার্যত নিবাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে । নিম্নে এরূপ সংগঠনের দু’টি সংজ্ঞা প্রদত্ত হলো :

কার্যভিত্তিক সংগঠন কাকে বলে
১. Joseph L. Massie বলেন, “কার্যভিত্তিক সংগঠন একজন বিশেষজ্ঞকে নির্দিষ্ট অবস্থানে তার ওপর | অর্পিত সীমিত ও সুস্পষ্ট কর্তৃত্বের আওতায় নির্দেশনা বলবৎ করার অধিকার দেয় । (Functional organization permits a specialist in a given area to enforce his directives within a limited and clearly defined scope of authority.) 26
২. স্টুনার ও অন্যরা বলেন, “Functional organization is perhaps the most logical and basic form of departmentalization, in which individual engaged in one functional activity. It makes effecient use of specialized resources and each manager must be expert in only a narrow range of | skills, ” 27 অর্থাৎ কার্যভিত্তিক সংগঠন হলো বিভাগীয়করণের সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও মৌলিক রূপ যেখানে কোনো |
ব্যক্তিকে একটা বিশেষ কাজে নিযুক্ত রাখা হয় । যা প্রতিষ্ঠানের সকল বিশেষিত উপকরণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং প্রত্যেক নির্বাহীকে একটি নির্দিষ্ট সীমিত কর্মপরিসরে দক্ষতা অর্জনে সক্ষম করে তোলে।কার্যভিত্তিক সংগঠনে বিশেষজ্ঞগণ তাদের বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। যে কারণে নির্বাহী হিসেবে বিশেষজ্ঞগণ সুষ্ঠু দায়িত্ব পালন করায় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় । নিম্নে কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামোর অংশবিশেষ রেখাচিত্রের সাহায্যে দেখানো হলো :

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক F. W. Taylor প্রচলিত সংগঠনের বিভিন্ন অসুবিধা দূর করার উদ্দেশ্যে বর্তমান শতাব্দীর প্রথম দিকে কার্যভিত্তিক সংগঠনের উদ্ভাবন করেন এবং এর নাম দেন Functional Foremanship । তিনি শিল্প প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজকে মোট আট ভাগে ভাগ করেন এবং এর এক এক ভাগকে এক একজন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করার পরামর্শ দেন। কার্যভিত্তিক সংগঠনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো :
১. কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল কাজকে এক্ষেত্রে ছোট ছোট বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়। (যেমন-উৎপাদন বিভাগ, ক্রয় বিভাগ, বিক্রয় বিভাগ ইত্যাদি);
২. এর প্রতিটি বিভাগ প্রয়োজনে সকল বিভাগকে সেবা প্রদান করে; এবং
৩. এর প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব একজন বিশেষজ্ঞের ওপর ন্যস্ত করা হয়। যিনি উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত সরলরৈখিক নির্বাহীর অনুমোদনক্রমে সীমিত কর্তৃত্ব ভোগ করেন ।
উপসংহারে বলা যায়, কার্যভিত্তিক সংগঠন হলো এমন এক ধরনের সংগঠন কাঠামো যেখানে প্রতিষ্ঠানের কাজকে সমজাতীয়তার ভিত্তিতে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে প্রতিটি বিভাগের ভার বিশেষজ্ঞদের ওপর সীমিত সরলরৈখিক কর্তৃত্ব সহযোগে অর্পণ করা হয়। এতে এক বিভাগ প্রয়োজনে অন্য সকল বিভাগকে সেবা সুবিধা প্রদান করে । সরলরৈখিক সংগঠনের কর্তৃত্ব শৃঙ্খলের কঠোর নিয়ম-নীতি এক্ষেত্রে অনুসরণ না করে কাজে সর্বোচ্চ গতিশীলতার ওপর জোর দেয়া হয় । শ্রম বিভাজন ও বিশেষায়ণের সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যেই মূলত এরূপ সংগঠন কাঠামো গড়ে তোলা হয় ।
