আজকের আলোচনার বিযয় ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের গুরুত্ব – যা নেতৃত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, নেতৃত্ব ছাড়া কোনো দল বা সংগঠন চলতে পারে না । প্রতিষ্ঠানে নেতাকে ঘিরেই অধস্তন জনশক্তি আবর্তিত হয় । তাই কাঙ্খিত মানের নেতৃত্ব না থাকলে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায় । সেক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কখনই কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না । নিম্নে ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো :
Table of Contents
ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের গুরুত্ব

১. সংঘবদ্ধতা সৃষ্টি (Creating unity) :
ব্যবস্থাপনার অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত জনশক্তিকে সংঘবদ্ধভাবে পরিচালনা করা । কারণ সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কখনও প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন সম্ভব নয় । প্রতিষ্ঠানে কার্যকর মানের নেতৃত্ব থাকলে তাকে ঘিরে অধস্তন জনশক্তি সংঘবদ্ধ ও আবর্তিত হয়। নেতৃত্ব শক্তিশালী হয় সংগঠনও ততো শক্তিশালী ও মজবুত হয়ে থাকে। যতো
২. দলবদ্ধ প্রচেষ্টা জোরদার (Emphasizing group effort) :
দলীয় প্রচেষ্টাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে পরিচালনা করাই নেতার কাজ। এরূপ প্রচেষ্টা বিশেষভাবে নেতার গুণ ও কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করে। ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের মান দুর্বল হলে জনশক্তির মাঝে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং দলবদ্ধ প্রচেষ্টা ব্যাহত হয় । তাই দলবদ্ধ প্রচেষ্টা সৃষ্টি ও জোরদারকরণের ক্ষেত্রে সুদক্ষ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই ।
৩. লক্ষ্যার্জনে সহায়তা দান (Helping in achievement of goal) :
কার্যকর নেতৃত্ব প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । কারণ নেতৃত্ব হলো এমন একটি কৌশল যার ফলশ্রুতিতে দলীয় সদস্যরা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে তৎপর হয়। প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন ব্যবস্থাপক থাকলে তার বা তাদের প্রচেষ্টায় জনশক্তির ধ্যান-ধারণা ও কর্মপ্রচেষ্টা নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে পরিচালিত হয়ে থাকে ।
৪. কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা দান (Helping in application of authority) :
একজন যোগ্য নেতা-তার কর্মীদের প্রকৃতি, যোগ্যতা, চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকেন । ফলে কিভাবে, কাকে, কোন্ দায়িত্ব, কতটুকু প্রদান করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব তা নেতা নির্ধারণ করতে পারেন। এ ছাড়াও কতটুকু কর্তৃত্ব কোথায় প্রয়োগ করলে কাজ উদ্ধার করা সম্ভব হবে তাও নেতা বুঝতে পারেন। তাই নেতৃত্ব কৌশল, ব্যবস্থাপনাকে যথাযথ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা দেয় ।
৫. সহযোগিতার উন্নয়ন (Developing co-operation) :
যেকোনো ব্যবসায় সংগঠনে কর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া লক্ষ্যার্জন সম্ভব নয় । কার্যকর নেতৃত্ব সংগঠনের অভ্যন্তরে এরূপ সহযোগিতা উন্নয়নে ভিত্তি হিসেবে কাজ করে । নেতৃত্বকে ঘিরেই জনশক্তি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় কার্য সম্পাদন করে । নেতাই অধস্তনদের মধ্যকার অনৈক্য ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার অনুপ্রেরণা যোগায় ।
৬. ফলপ্রদতা বৃদ্ধি (Increasing effectiveness) :
যোগ্য নেতৃত্ব প্রাতিষ্ঠানিক সকল কাজের ফলপ্রদতা বা কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে জনশক্তির সকল কর্মপ্রয়াসকে কেন্দ্রীভূত করে বিধায় কাজের গতিশীলতা বাড়ে । সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেও কার্যক্ষেত্রে উত্তম ফলাফল লাভ করা যায় ।
৭. মনোবল উন্নয়ন (Developing morale) :
ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কর্মীদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করে স্বতঃস্ফূর্ত কাজ আদায় করা । এক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । নেতৃত্ব যোগ্য হলে তার অধীনে কাজ করতে কর্মীরা সব সময়ই উৎসাহবোধ করে এবং তাদের মনোবলও উন্নত থাকে । কর্মীদের উচ্চ মনোবল ও উত্তম কারবারি পরিবেশ সৃষ্টিতেও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।
৮. সম্পর্কের উন্নয়ন (Developing relationship) :
প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর সহযোগিতার বিষয়টি নির্ভর করে। ব্যবস্থাপনা দুর্বল হলে তা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে । ফলে তা হৃদ্যতাপূর্ণ কারবারি পরিবেশ সৃষ্টিতে ও যেকোনো সমস্যার সহজ সমাধানে ব্যর্থ হয় । সেক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয়বিধ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে ব্যবস্থাপনাকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে ।

৯. নমনীয়তা বৃদ্ধি (Increasing flexibility) :
পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে ব্যবসায়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপনাকে অনেক সময়ই গৃহীত পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হয়। অথচ যেকোনো পরিবর্তন অধস্তন জনশক্তি সহজে মেনে নিতে চায় না।
যোগ্য নেতৃত্ব সেক্ষেত্রে কর্মীদের মনোভঙ্গিতে সহজেই পরিবর্তন এনে প্রাতিষ্ঠানিক নমনীয়তা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে । উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, ব্যবস্থাপনার সফলতা অর্জনে নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যে ব্যবস্থাপকের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি যতো বেশি থাকে তার পক্ষেই ততো অধস্তন জনশক্তির আনুগত্য লাভ করা সম্ভব হয় । আর সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে অধস্তনরা কার্যকর সহায়তা প্রদান করে ।
