আজকের আলোচনার বিযয় সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন – যা নেতৃত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি উদ্যোক্তার দু’টি বড় গুণ । সৃজনশীল চিন্তা থেকেই একজন উদ্যোক্তার যাত্রা শুরু হয় । অতঃপর উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে ঐ চিন্তাকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য একজন উদ্যোক্তা কৌশল গ্রহণ করেন। সেজন্য তাকে নানান ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় । নিজ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সে প্রয়োজনীয় মূলধনসহ বস্তুগত ও মানবীয় উপকরণ যোগাড়পূর্বক তাকে সংহত করে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা নেন ।
Table of Contents
সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন

সৃজনশীলতা বলতে নতুন কোনো ধারণার উন্নয়নকে বুঝায় (Creativity usually refers to the ability and power to develop new ideas.) । অন্যদিকে উদ্ভাবন হলো উন্নয়ন ধারণাকে কাজে লাগানো (Innovation usually means the use of this ideas.)।
একটা প্রতিষ্ঠানে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন বলতে নতুন পণ্য, সেবা বা ধারণা সৃষ্টি, নতুন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির বিষয়ে নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবন, নতুন বাজার সৃষ্টি ইত্যাদিকে বুঝায় । এর সকল ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে । যাকে সাফল্যার্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, দুরদৃষ্টি, বিচারশক্তি ও আন্তরিকতা দিয়ে একজন উদ্যোক্তা জয় করেন । সৃজন প্রক্রিয়া (Creative processes ) এর ৪টা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ধারা লক্ষ করা যায়; যা নিম্নরূপ :
১. অবচেতনভাবে দেখা (Unconscious scanning );
২. অন্তজ্ঞান (Intuition);
৩. অন্তর্দৃষ্টি (Insight) ও
৪. যৌক্তিক সূত্রবদ্ধকরণ (Logical formulation) |
১. অবচেতনভাবে দেখা (Unconscious scanning ) :
এ পর্যায়কে ব্যাখ্যা করা কষ্টকর। কারণ এটি চেতনাবোধের বাইরের জগতে অবস্থান করে । অর্থাৎ উদ্যোক্তারা তার মনোজগতে একটা নতুন কিছু করার সুপ্ত বাসনা বোধ করে । এই বোধ এমন কিছু নয় যা তাকে উদ্বিগ্ন বা তাড়িত করে । তবে সে ভাবে এবং এই ভাবনা তার কল্পনার জগতে অন্য আর পাঁচটা বিষয়ের মত ঘুরে বেড়ায় ।
২. অন্তজ্ঞান (Intuition) :
এটি হলো অবচেতন অবস্থা থেকে চেতনার পর্যায়ে কোনো কিছুকে নিয়ে আসা । এই পর্যায়ে ব্যক্তির মধ্যে কিছুটা আশা ও কিছুটা দ্বিধা-এ অবস্থা বিরাজ করে । সে চিন্তাকে গুছানোর চেষ্টা করে কিন্তু নিজেই আবার কিছুটা পরস্পর বিরোধী চিন্তার মধ্য ঘুরপাক খেতে থাকে । এই পর্যায়ে চিন্তার সাথে সে অন্যদেরকে সম্পৃক্ত করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের একজন উদ্যোক্তা ব্যবস্থাপক এ পর্যায়ে অন্যদেরকে সাথে নিয়ে মস্তিষ্কে ঝড়তোলা (Brain storming) পদ্ধতি অনুসরণ করে তার ভাবনা ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে থাকে। এতে তার পক্ষে মনস্থির করা সহজ হয় ।
৩. অন্তর্দৃষ্টি (Insight) :
এ পর্যায়ে এসে উদ্যোক্তা তার মনস্থির করা চিন্তাকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য কী করা প্রয়োজন তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে । নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে আসার ভাবনাকে এবার পণ্যের মান, ধরন, উৎপাদন প্রক্রিয়া ইত্যাদি এবং কখন ও কীভাবে বাজারে নিয়ে আসা যায়-এভাবেই চিন্তা আলোড়িত হয় । এ পর্যায়ে একজন উদ্যোক্তা তার সৃজন চিন্তাগুলোকে লেখে সাজানোর চেষ্টা করে ।

৪. যৌক্তিক সূত্রবদ্ধকরণ (Logical formulation) :
এ পর্যায়ে উদ্যোক্তা তার মনের মাঝে সাজানো ভাবনাগুলোকে যুক্তি ও পরীক্ষার মাধ্যমে একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসেন। এজন্য তাকে তার প্রতিটা ভাবনাকে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য যথেষ্ট খোঁজ-খবর, মত বিনিময়, তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি করার প্রয়োজন পড়ে। এ পর্যায়ে সে অন্যদের সহযোগিতাও নিতে পারে । এভাবেই সৃজন প্রক্রিয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তব রূপ নেয় ।
