আজকের আলোচনার বিযয় প্রেষণা ও উদ্দীপক – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত, কর্মীদের কাজে উৎসাহিত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করার কাজকে প্রেষণা বলে। অন্যদিকে উদ্দীপনা বা প্রেরণা সৃষ্টি করে এমন কিছুকেই উদ্দীপক বলা হয়ে থাকে । একজন ব্যক্তির মাঝে অভাবের কারণে যে উদ্বেগ বা তাড়নার সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে সে উদ্দীপক পাওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন থাকে ।
উদ্দীপক সেক্ষেত্রে তার মাঝের উদ্বেগ দূর করে সন্তুষ্টি আনয়নে সহায়তা করে। একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি খাদ্যের অভাব বোধ করায় তার মাঝে যে ব্যাকুলতা দেখা দেয় সেক্ষেত্রে খাবার প্রাপ্তির জন্য সে চেষ্টা করে । এই প্রচেষ্টাকে Action বলা হয় ।
প্রেষণা ও উদ্দীপক

অর্থাৎ সে কোথায় খাবার পাবে তা খোঁজ করে । খাবার যেখানে সেখানে যায় ও তা সংগ্রহ করে। এক্ষেত্রে খাবার উক্ত ব্যক্তির জন্য উদ্দীপক বিবেচিত হয় । খাবার খাওয়ার পর তার মাঝে সন্তুষ্টি জন্মে। খাবার ক্রয়ের জন্য যদি তার নিকট প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে তবে সে অর্থ পেতে সচেষ্ট হয়।
সেক্ষেত্রে কোনো কাজ করলে অর্থ প্রদত্ত হবে বলে কেউ তাকে প্রতিশ্রুতি দিলে সে উক্ত কাজ করতে উৎসাহিত হয়ে থাকে । এই উদ্দীপক প্রাপ্তির প্রত্যাশা ব্যক্তিকে কাজে বা প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করতে যেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তেমনি একটা প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও অনার্থিক উদ্দীপক কর্মীকে কাজে উদ্বুদ্ধ করে থাকে । এর প্রাপ্তিতে তার মাঝে সন্তুষ্টির সৃষ্টি হয় ।
একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মীর মাঝে উদ্দীপনা বা প্রেরণা সৃষ্টিতে বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপকের ব্যবহার করা হয়। আমাদের মতো দেশে বেতন-ভাতা নিচের পর্যায়ের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে ।

প্রতিষ্ঠানের মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের জন্য পদোন্নতি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক । কারও কারও জন্য সাফল্য বা কৃতিত্ব গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক । তাই কর্মীদের কে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তাদের অভাব বা চাহিদা কোন পর্যায়ে-এ সকল বিষয় বুঝেই উদ্দীপকের ব্যবস্থা পূর্বক জনশক্তিকে উৎসাহিত করা যায় । তাই প্রেষণার সাথে উদ্দীপকের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান ।
