আজকের আলোচনার বিযয় তথ্য প্রযুক্তির দ্বারা সৃষ্ট সুবিধা ও চ্যালেঞ্জসমূহ- যা নিয়ন্ত্রণ এর অর্ন্তভুক্ত, বর্তমান যুগকে ইনফরশেন ও কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ICT) এর যুগ বলা হয় । তথ্যসমৃদ্ধ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আধুনিক কালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে বলে আজকাল মনে করা হয়ে থাকে ।
ব্যক্তিজীবনে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই আজ তথ্য প্রযুক্তি বিশেষত কম্পিউটার, টেলিফোন, টেলিভিশন ইত্যাদির আশীর্বাদে সিক্ত। ছোট্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক বৃহদায়তন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তির দ্বারা দারুণভাবে উপকৃত হচ্ছে। এর সুবাদেই ইন্টারনেট ব্যবস্থায় একটা কম্পিউটার কী পরিমাণ তথ্য নিয়ে বসে আছে তা ভাবতেই অবাক লাগে। তাই এর দ্বারা সৃষ্ট সুবিধা এক কথায় অনন্য । তবে এরূপ প্রযুক্তি সমাজে ও বিশেষ করে আমাদের মত দেশগুলোতে কিছু চ্যালেঞ্জেরও সৃষ্টি করেছে। নিম্নে সুবিধা ও চ্যালেঞ্জসমূহ আলোচনা করা হলো:

Table of Contents
তথ্য প্রযুক্তির দ্বারা সৃষ্ট সুবিধা ও চ্যালেঞ্জসমূহ
ক) সুফল বা সুবিধাসমূহ (Opportunities) :
১. ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি (Information technology in business) :
তথ্য -প্রযুক্তি ছাড়া আজকাল ব্যাংক, বীমা, ক্রেডিট কোম্পানি, বিমান পরিবহন এবং উন্নত বিশ্বের সাধারণ কেনাকাটার মতো কর্মকাণ্ডও অচল। ব্যবসা-বাণিজ্যে কম্পিউটারসহ তথ্য- প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে, বাস্তবায়িত হচ্ছে ই- কমার্স । তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ব্যতীত আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় বর্তমানে অসম্ভব ।
২. যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তি (Information technology in communication):
আজকাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্য -প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সড়কপথ, রেলপথ, জলপথ এবং আকাশপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য- প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সহজতর, দ্রুত এবং লাভজনক । টেলিফোন, ফ্যাক্স, টেলিভিশন, টেলিপ্রিন্টার, কম্পিউটার, ইলেক্ট্রনিক মেইল ইত্যাদি যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য -প্রযুক্তি বিপ্লব সৃষ্টি করেছে ।
৩. শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি (Information technology in education):
শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য- প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শিক্ষাকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। এখন ইচ্ছা করলে কেউ বাংলাদেশে বসে আমেরিকার কোনো লাইব্রেরি থেকে বই পড়তে পারছে। যেকোনো প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে । যা শিক্ষাকে অনেক সহজতর করেছে।
৪. বিজ্ঞান ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি (Information techonolgy in science and medicine);
বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশে তথ্য -প্রযুক্তি বৈপ্লবিক ভূমিকা রেখেছে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা কর্ম তথ্য -প্রযুক্তির বদৌলতে সবার হাতে আসায় গবেষণা কর্ম উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করছে । তথ্য- প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে আজ ঘরে বসে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে। নিত্য-নতুন ঔষধের উদ্ভাবন এবং রোগ নিরাময়ের সর্বশেষ পন্থা সম্পর্কে তথ্য প্রাপ্তির কারণে চিকিৎসকগণ উপকৃত হচ্ছে ও রোগীরা সেবা পাচ্ছে ।
৫. শিল্প-সাহিত্য ও বিনোদনে তথ্য- প্রযুক্তি (Information technology in culture and amusement):
তথ্য- প্রযুক্তির কল্যাণে আজ শিল্প ও সাহিত্যকর্মের ব্যাপক প্রসার হচ্ছে এবং প্রকাশনায় ঘটছে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি। সাহিত্য ও শিল্পকর্মের ফলাফল এর সুবাদে আজ মুহূর্তে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে এবং মানুষের কল্যাণে সে সব কর্ম অবদান রাখছে । সারা বিশ্বের টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান আজ ঘরে বসে উপভোগ করা যাচ্ছে । কম্পিউটারের বিভিন্ন গেমস্ মানুষ উপভোগ করছে । অর্থাৎ তথ্য- প্রযুক্তি আমাদের বিনোদনের চাহিদাও পূরণ করে ।
খ) কুফল বা চ্যালেঞ্জসমূহ (Challenges):
১. অশ্লীলতার প্রসার (Spreading obscenity) :
টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটে অনেক অশ্লীল এবং নগ্ন প্রচারণা লক্ষণীয় । যা মানুষের নৈতিক চরিত্রের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের এতে বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই বেড়ে গেছে ।
২. গোপনীয়তার প্রকাশ (Exposing privacy) :
তথ্য- প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনেকক্ষেত্রে প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে যা মোটেই কাম্য নয় ।
৩. বেকারত্ব বৃদ্ধি (Increasing unemployment) :
তথ্য -প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সর্বত্রই অটোমেশনের ছোঁয়া লেগেছে। ফলে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বেকারত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে আমাদের মতো জনবহুল দেশসমূহ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।

৪. শারীরিক সমস্যা বৃদ্ধি (Increasing physical problems):
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিশেষ করে কম্পিউটারকে নানান ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য দায়ী করা যায়। চোখের উপর চাপ, কজীর ক্ষতি, মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা, পিঠের সমস্যা, মানসিক চাপজনিত সমস্যা, পেটের আলসার ইত্যাদি সমস্যার জন্য কম্পিউটার অনেকক্ষেত্রে দায়ী।
পরিশেষে বলা যায়, তথ্য -প্রযুক্তি সমাজে সুফল না কুফল বয়ে আনবে, সেটা নির্ভর করে ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা ও চেতনার উপর । কেউ ইচ্ছে করলে একে খারাপ কাজে ব্যবহার করতে পারেন, আবার ভাল কাজেও ব্যবহার করতে পারেন । তথ্য -প্রযুক্তি সমাজের জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ । তাই এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পৃথিবীকে আরও সুন্দর এবং সমৃদ্ধ করবে ।
