আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় শ্রমিকসংঘের ভূমিকা।
শ্রমিকসংঘের ভূমিকা

উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার ও চালিকাশক্তি হচ্ছে শ্রমিক। শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন করে। কিন্তু এই শ্রমিকরা অধিকাংশ সময়েই মালিকের নিকট নিগৃহীত, অবহেলিত হয়ে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। মালিকের শক্তি ও সামর্থ্যের নিকট দরিদ্র, অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত শ্রমিকরা অসহায় অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হয়। মালিকপক্ষ সর্বদাই ন্যূনতম পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অধিক কাজ আদায় করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে । শ্রমিকের শ্রমের উপযুক্ত মূল্য, শ্রমের সময়, কারখানার পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে মালিকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন শ্রমিকের এককভাবে মোকাবেলা করার শক্তি-সাহস নেই । এরূপ পরিস্থিতিতে নিজের শক্তি বৃদ্ধি ও স্বার্থ রক্ষার্থে এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায় করার জন্য মালিকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবার জন্য শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধ হয়। এভাবেই সূত্রপাত হয়। শ্রমিকসংঘের ।
শ্রমিকসংঘের সংজ্ঞা (Definition of Trade Union) :
মালিক বা ব্যবস্থাপকের বিপক্ষে স্বীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য শ্রমিকরা সম্মিলিতভাবে যে সংঘ গঠন করে, তাকে শ্রমিক সংঘ বলে ।
(i) Edwin B. Flippo এর মতে, “শ্রমিকসংঘ এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে এর সদস্যরা যৌথ দরকষাকষি প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে।
(ii) Bydney and Beatrice webb-এর মতে, শ্রমিকসংঘ মজুরি উপার্জনকারীদের একটি স্থায়ী ও ধারাবাহিক সমিতি, যার মাধ্যমে তারা কার্য শর্তাদি নির্ধারণ, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে।
(iii) Lester 4, An association of employees designed primarily to maintain or improve the condition of employment of its members.
সুতরাং বলা যায় যে, শ্রমিকসংঘ হলো শ্রমিকদের স্বেচ্ছাকৃতভাবে গঠিত একটি সংগঠন, যা তাদের আর্থিক উন্নতি, চাকরির নিরাপত্তা, কার্য শর্ত ও কার্য পরিবেশ উন্নয়ন এবং সামাজিক বৃদ্ধিকল্পে মালিকপক্ষ বা ব্যবস্থাপনার সাথে রক্ষাকষিতে লিপ্ত হয় এবং নানাবিধ চুক্তিনামা মুসাবিদা করে।

