ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে শ্রম ও শিল্প আইনের ভূমিকা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় শ্রম ও শিল্প আইনের ভূমিকা। এই পাঠটি “ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে” বিষয়ের “শ্রম ও শিল্প আইন” বিভাগের একটি পাঠ।

শ্রম ও শিল্প আইনের  ভূমিকা

 

শ্রম ও শিল্প আইনের ভূমিকা

 

শ্রম আইন শ্রমিক নিয়োগ, শ্রমিকের মজুরি, কাজের পরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আইন। কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকের দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, মাতৃত্ব সুবিধা, কোম্পানির মুনাফাতে শ্রমিকের অংশীদারিত্ব এবং এধরনের অন্যান্য বিষয় পরিচালনার সামাজিক আইনও শ্রম আইনের অন্তর্ভুক্ত। এসব আইনি দলিলপত্রের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।

মধ্য-উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারত উপমহাদেশে ফ্যাক্টরি ও শিল্পকারখানার বিকাশ ও বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রাথমিকভাবে শহর এলাকায় অবস্থিত ফ্যাক্টরি ও মিলসমূহে ধীরে ধীরে গ্রামীণ এলাকা থেকে শ্রমশক্তির অভিবাসন ঘটে। সে সময়ে রাষ্ট্রীয় কোনো নিয়ন্ত্রণ বা শ্রমিকদের কোনো সংগঠনের অনুপস্থিতির কারণে নিয়োগকর্তারা তাদের কর্মচারীদের প্রয়োজনের প্রতি তেমন একটা মনোযোগী ছিলেন না; শ্রমিকদের নিয়োগের অসন্তোষজনক শর্তসহ কর্ম-সময় ছিল অনেক বেশি, মজুরি ছিল জীবনযাত্রা নির্বাহের ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। এ অবস্থায় ১৮৮১ সাল থেকে কিছু আইন প্রণয়নের সূত্রপাত হয়। সেগুলির মধ্যে ছিল ফ্যাক্টরি আইন (১৮৮১), শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ আইন (১৯২৩), ট্রেড ইউনিয়ন আইন (১৯২৬), শ্রম বিরোধ আইন (১৯২৯), মজুরি প্রদান আইন (১৯৩৬), মাতৃত্ব সুবিধা আইন (১৯৩৯) এবং শিশু নিয়োগ আইন (১৯৩৮)।

যে কোন দেশের শিল্পোন্নয়নে শ্রম ও শিল্প আইনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মালিকের শোষণ ও নির্যাতনের হাত হতে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার সুমহান উদ্দেশ্যে শ্রম ও শিল্প আইনের উৎপত্তি হয়েছে।

বাংলাদেশের কোন বিধিবদ্ধ আইনে বা বিধিতে “শ্রম ও শিল্প আইনের” কোন সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। তবে শ্রম ও শিল্প আইনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য পর্যালোচান করে এর একটি সংজ্ঞা প্রদান করা যায়। “শিল্প উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়োগ, নিয়োগের শর্ত, কাজের পরিবেশ, মজুরী পরিশোধ, ক্ষতিপূরণ প্রদান, মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ন্ত্রন করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক যে সকল বিধান ও নিয়মাবলি প্রণীত হয়েছে তাকেই শ্রম ও শিল্প আইন বলা হয়”।

অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণতঃ কল কারখানা এবং অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রিত করার জন্য এবং শ্রমিক ও মালিকদের সম্পর্কের উন্নতি সাধনের জন্য যে আইন বিধিবদ্ধ ও প্রবর্তিত হয়েছে, তাকেই শ্রম ও শিল্প আইন বলে অভিহিত করা হয়।

শিল্প উৎপাদনের বাহন। উৎপাদন ছাড়া ভোগ কার্যত সম্ভব নয়। কৃষিকার্য, পশু পালন, শিকার ইত্যাদি পেশা এক সময়ে জনপ্রিয় থাকলেও আধুনিক বিশ্বে শিল্পই হল মানুষের উপজীবিকার প্রধান অবলম্বন। শিল্প নির্ভর দেশগুলোই এখন উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করছে। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিল্প গড়ে উঠেছে নানা ধরনের। ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প হতে শুরু করে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ভারী শিল্প সকল দেশেই কমবেশি লক্ষ করা যায়। এ সব শিল্পের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সরকার বিভিন্ন নিয়মনীতি প্রবর্তন করেছেন, যাকে শ্রম ও শিল্প আইন বলে ।

 

শ্রম ও শিল্প আইনের সংজ্ঞা (Definition of Labour and Industrial Law) :

শিল্প আইনের কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। সাধারণত কারখানা, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং শ্রমিক মালিক সম্পর্কের উন্নতি সাধনের জন্য যে আইন প্রবর্তিত হয়েছে তাতেই শ্রম ও -শিল্প আইন বলা হয়।
অতএব, শিল্পকারখানার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থরক্ষা করে সকল পক্ষের সম্পর্কের উন্নয়ন তথা শিল্পকারখানার বিকাশের লক্ষ্যে দেশের আইন পরিষদ বা পার্লামেন্ট যে সকল বিধিবিধান নির্দিষ্ট ও প্রবর্তন করে, তাকেই শিল্প আইন বলে।

 

শ্রম ও শিল্প আইনের ভূমিকা

Leave a Comment