আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় শ্রম ও শিল্প আইনের উদ্দেশ্য । এই পাঠটি “ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে” বিষয়ের “শ্রম ও শিল্প আইন” বিভাগের একটি পাঠ।
Table of Contents
শ্রম ও শিল্প আইনের উদ্দেশ্য

মানুষ যেন খেয়াল খুশিমতো আচরণ না করে বরং বিধিবিধানের আওতায় শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে সকলের জন্য কল্যাণ ও শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারে এ উদ্দেশ্যই আইন প্রণয়ন করা হয়। নিম্নে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় শিল্প আইনের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল :
১। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা (Maintenance of workers interest) :
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই মূলত শ্রম ও শিল্প আইনের উদ্ভব ঘটেছে। মালিকপক্ষ আর্থিক সামর্থ্যের জোরে শ্রমিক-কর্মীদের সাথে যেন অমানবিক আচরণ প্রদর্শন করতে না পারে এবং শ্রমিক-কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করে শিল্পকারখানা পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ হয় এজন্য বিভিন্ন ধরনের আইন পাস করা হয়েছে।
২। শিল্পশান্তি বজায় রাখা (Maintenance of industrial peace) :
শিল্পশান্তি বজায় রাখা শিল্প আইনের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়ে থাকে। উভয়পক্ষ যেন আইনে বর্ণিত তাদের অধিকার ও দায়দায়িত্বের সীমা সম্পর্কে জ্ঞাত থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে এবং প্রতিষ্ঠানে কোন সমস্যা হলে তা আইনানুগভাবে মোকাবিলা করতে সচেষ্ট হয়, এজন্য শ্রম ও শিল্প আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
৩। শ্রমিক-কর্মীদের সামজিক নিরাপত্তা বিধান (Maintenance of social security of workmens) ঃ
শ্রমিক-কর্মী ও সেই সাথে মালিক শ্রেণির সামাজিক নিরাপত্তা বিধানও শিল্প আইনের উদ্দেশ্য। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত থাকে সেই শ্রমিক-কর্মীদের সাথে তাদের পরিবার-পরিজনও যাতে নিরাপত্তা লাভ করতে পারে শিল্প আইনে তারও ব্যবস্থা রয়েছে ।
৪। শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক উন্নয়ন (Development of relationship between workmens and owners) ঃ
শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়ন নির্ভর করে আইনের প্রতি উভয় পক্ষের শ্রদ্ধাবোধ এবং যথাযথভাবে নিয়ম ও বিধিবিধান অনুশীলনের উপর। আইনে সকল পক্ষের যে সকল অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের উল্লেখ রয়েছে তা যদি সবাই মেনে চলে তবে কখনই প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে না।

