অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্বে শিল্পোদ্যোগ

অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্বে শিল্পোদ্যোগ ক্লাসটি পলিটেকনিকের ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ (৬৫৮৫৩) / উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ (৬৫৮৫৩) (Innovation & Entrepreneurship, 65853) বিষয়ের, পাঠ। এই বিষয়ের প্রতিটি ক্লাস পেতে বিজনেস স্টাডিজ গুরুকুল এর প্লেষ্টিগুলো দেখুন।

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্বে শিল্পোদ্যোগ

 

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন

 

সরকারি খাতে অর্থনীতির অধ্যয়নে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি জাতি, অঞ্চল, স্থানীয় সম্প্রদায় বা কোনও ব্যক্তির অর্থনৈতিক কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসারে উন্নত করা।

প্রত্যয়টি বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে প্রায়শই ব্যবহৃত হয়েছে, তবে ধারণাটি পাশ্চাত্যে অনেক বেশি সময় ধরে বিদ্যমান রয়েছে। “আধুনিকীকরণ”, “পশ্চিমাকরণ” এবং বিশেষ করে “শিল্পায়ন” অন্যান্য প্রত্যয় যা প্রায়ই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করার সময় ব্যবহৃত হয়। ঐতিহাসিকভাবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতিমালা শিল্পায়ন ও অবকাঠামোর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে; ১৯৬০-এর দশক থেকে এটি ক্রমবর্ধমানভাবে দারিদ্র্য হ্রাসের দিকে মনোনিবেশ করেছে।

বাস্তবিকপক্ষে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হল মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে একটি নীতিগত হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হল বাজার উৎপাদনশীলতার ও জিডিপি বৃদ্ধির প্রপঞ্চ; অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে “অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার একটি দিক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থনীতিবিদরা প্রাথমিকভাবে বৃদ্ধির দিক এবং বৃহত্তর অর্থনীতির উপর মনোনিবেশ করেন, যেখানে সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গবেষকরা নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়েও উদ্বিগ্ন।

 

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন

 

শিল্পোদ্যোগ

 

শিল্পোদ্যোগ  উৎপাদন প্রক্রিয়া ও অথনৈতিক উন্নয়নের প্রধান উপাদান। শিল্পোদ্যোগ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক কার্যাবলীকে নির্দেশ করে। অধ্যাপক ই.ই হ্যাগেন শিল্পোদ্যোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, এর কাজ হচ্ছে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি, নতুন উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান সংগঠন, মূলধন সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংস্থান, নতুন উৎপাদন কৌশল এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবন কাঁচামালের নতুন উৎস সন্ধান এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যাবলী পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক নির্বাচন করা।

বস্তুত শিল্পোদ্যোগ একজন ব্যক্তির এমন কর্মদ্যোগ ও গুণাবলীকে বুঝায় যা তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি বহন করে সাফল্যের দ্বারে পৌঁছাতে সাহয্য করে। যে ব্যক্তি এসব কাজ যথার্থভাবে সম্পাদন করতে পারেন তিনিই শিল্পোদ্যোক্তা। শিল্পোদ্যোক্তার উদ্যোগী কর্ম প্রচেষ্টার সৃষ্ট ফল একটি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন এবং পণ্য অথবা সেবা।

শিল্পোদ্যোক্তার সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানটির আইনগত সংগঠন হতে পারে একক মালিকানা, অংশীদারী ব্যবসা এবং যৌথ মালিকানা কোম্পানি। একক মালিকানা ব্যবসার ক্ষেত্রে মালিক নিজেই ঝুঁকি বহন করে এবং ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু অংশীদারী ব্যবসা এবং যৌথ মালিকানা কোম্পানির ক্ষেত্রে এসব কাজ যথাক্রমে অংশীদার এবং শেয়ার মালিকের মধ্যে বণ্টিত থাকে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষ করে শিল্পায়নে শিল্পোদ্যোক্তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশে শিল্পোদ্যোগ বিকাশের ইতিহাস অতি প্রাচীন। দূরাতীত কালেও বাংলায় নানা ধরনের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ ছিল এবং ব্যবসাবাণিজ্যে বেশ উন্নত ছিল। বাংলার পুরানো শিল্পের মধ্যে ছিল সূক্ষ্ম মসলিন, চিনি, লবণ ইত্যাদির উৎপাদন। দূরপ্রাচ্য ও ইউরোপে এসব পণ্য বহুল পরিমাণে রপ্তানি হতো।

ভারতের মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর বাংলা ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে। ফলে বাংলার শিল্প বিকাশের পথ সুগম হয়। আরব দেশসমূহ থেকে আগত অনেক ব্যবসায়ী বাংলায় বিভিন্ন ধরনের কারবার হাতে তুলে নেয়। আবার তারা পাশ্চাত্যের জনগণের সঙ্গে মিলেমিশেই ব্যবসা পরিচালনার নীতি অনুসরণ করায় স্থানীয় জনগণও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিকাশে তথা শিল্পোদ্যোগ উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসে।

 

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্বে শিল্পোদ্যোগ এর বিষয়বস্তুঃ

 

 

 

Leave a Comment