অ্যাডাম স্মিথের উন্নয়ন তত্ত্ব ক্লাসটি পলিটেকনিকের ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ (৬৫৮৫৩) / উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ (৬৫৮৫৩) (Innovation & Entrepreneurship, 65853) বিষয়ের, ৪র্থ অধ্যয়ের [Chapter 4] পাঠ।
অ্যাডাম স্মিথের উন্নয়ন তত্ত্ব
অ্যাডাম স্মিথ অষ্টাদশ শতকের একজন স্কটিশ দার্শনিক ও পণ্ডিত। স্কটল্যান্ডের কার্কক্যাল্ডিতে ১৭২৩ সালে তিনি জন্ম নেন। বাবার নামেই তার নাম রাখা হয়েছিল অ্যাডাম স্মিথ। পুত্রের জন্মের ৬ মাস আগে পিতার মৃত্যু হয়। তার পর তার মা-ই তাকে বড় করেন, লেখাপড়া শেখান। প্রাথমিক বিদ্যাশিক্ষার পর প্রথমে তিনি গ্লাসগো এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।

অক্সফোর্ড থেকে ফিরে আসেন গ্লাসগোতে এবং ১৭৫১ থেকে ১৭৬৪ সাল পর্যন্ত সেখানে নৈতিক দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক ছিলেন। ১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথের কালজয়ী গ্রন্থ, ‘ওয়েল্থ অফ ন্যাশন্স’ প্রকাশিত হয়। ওই সময় থেকে এই বই আধুনিক পলিটিক্যাল ইকোনোমির প্রথম কিতাব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এখানে তিনি মুক্তবাজার অর্থশাস্ত্রের মূল তত্ত্বকথাগুলো একটার সাথে আরেকটার সামঞ্জস্য রেখে সুশৃঙ্খল সমন্নয়ের মাধ্যমে প্রণালীবদ্ধভাবে বোঝার মতন করে সর্বপ্রথম ‘ওয়েল্থ অফ ন্যাশন্স’-এর মাধ্যমে সুধী সমাজের সামনে তুলে করেন। তার দেয়া তত্ত্ব আড়াই শ’ বছর আগে যেমন প্রাসঙ্গিক এখনো তেমনই আছে। আর তাই তাকে আধুনিক অর্থশাস্ত্রের জনক বলা হয়ে থাকে।
জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও লেখালেখিজীবনের এক পর্যায়ে তিনি ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্সে চলে যান। সেখান থেকে আবার ফিরে আসনে গ্লাসগোতে। প্রথম জীবনে তার টাকা পয়সার টানাটানি ছিল। শেষ বয়সে বই বিক্রির আয় থেকে তিনি প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হোন এবং মা-কে নিয়ে তৎকালীন গ্লাসগোর অভিজাত আবাসিক এলাকা ‘ক্যানন গ্যাট’-এ স্বচ্ছল জীবন যাপন শুরু করেন। মা মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর, ১৭৯০ সালে অ্যাডাম স্মিথের জীবনাবসান হয়। মৃত্যুর সময় তিনি নিজ সম্পদের প্রায় সবই গরিবের কল্যাণে দান করে যান এবং তাঁর সৃষ্ঠ নতুন নতুন ধারণা, দর্শন ও জ্ঞানভা-ার রেখে যান চিন্তাশীল মানুষদের জন্য।
অ্যাডাম স্মিথের উন্নয়ন তত্ত্ব এর বিষয়বস্তুঃ
