ইয়োজেফ আলইস শুম্পেটার এর অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্ব ক্লাসটি পলিটেকনিকের ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ (৬৫৮৫৩) / উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ (৬৫৮৫৩) (Innovation & Entrepreneurship, 65853) বিষয়ের, ৪র্অথ ধ্যয়ের [Chapter 4] পাঠ।
ইয়োজেফ আলইস শুম্পেটার এর অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্ব
ইয়োজেফ আলইস শুম্পেটার (জার্মান: Joseph Alois Schumpeter; ৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩ – ৮ই জানুয়ারি, ১৯৫০) একজন প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তিনি বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রের, তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের মোরাভিয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অস্ট্রীয় ঘরানার অর্থনীতিবিদদের একজন ছিলেন। তিনি পুঁজিবাদী বিকাশ ও ব্যবসা চক্রের উপর তাঁর তত্ত্বগুলির জন্য পরিচিতি লাভ করেন।

শুম্পেটার ভিয়েনাতে উচ্চশিক্ষালাভ করে চেরনোভিৎস, গ্রাৎস ও বন শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপনা করেন। ১৯১৯ সালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য অস্ট্রিয়ার সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আমৃত্যু তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
১৯৪২ সালে তিনি একটি বহুল পঠিত অর্থনীতি বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশ করেন, যার নাম ছিল ক্যাপিটালিজম, সোসিয়ালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (“পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র”); বইটিতে তিনি যুক্তি দেন যেন পুঁজিবাদ তার নিজের সাফল্যের কারণেই এক সময় শেষ হয়ে যাবে এবং এর পরিবর্তে সরকারী নিয়ন্ত্রণ বা সমাজতন্ত্রের কোনও একটি প্রকারভেদ প্রতিষ্ঠা পাবে। ১৯৫৪ সালে তিনি হিস্টরি অভ একোনমিক অ্যানালিসিস নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন, যেখানে অর্থশাস্ত্রের বিশ্লেষণী পদ্ধতিগুলির বিকাশ বিষয়ে একটি বিস্তারিত গবেষণা উপস্থাপন করেন।
১৯১১ সালে তাঁর রচিত টেওরিয়ে ডের ভির্টশাফটলিশেন এন্টভিকলুং (“অর্থনৈতিক উন্নয়নের তত্ত্ব”) এবং ১৯৩৯ সালে দুই খণ্ডে প্রকাশিত বিজনেস সাইকেলস: আ থিওরেটিকাল, হিস্টরিকাল, অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকাল অ্যানালিসিস অভ দ্য ক্যাপিটালিস্ট প্রসেস (“ব্যবসা চক্র: পুঁজিবাদী প্রক্রিয়ার একটি তাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণ”) গ্রন্থগুলিও উল্লেখ্য। শুম্পেটার ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের টেকোনিক শহরে মৃত্যুবরণ করেন।
বিশ্ব যখন অতি মহামারির সঙ্কটে বিধ্বস্ত প্রায়, সে সময়ে উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন অর্থনৈতিক গতিময়তার জন্য বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি আইএমএফের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতকে ছড়িয়ে যাবে। এটি নিঃসন্দেহে বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার সুচিন্তিত কার্যক্রমের ফল। আসলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও অজানা শত্রু ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে। সাধারণ মানুষ লকডাউনে থাকার সময় দিবারাত্রি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ভাইরোলজিস্টদের বক্তব্য শুনে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।
যদিও প্রতিটি মানুষেরই মাস্ক ব্যবহার করে নিজে, পরিবার, প্রতিবেশী ও সহকর্মী এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষকে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা উচিত। তারপরও দেশের যে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে; সেক্ষেত্রে জোসেফ এ্যলুইস সুম্পিটারের বক্তব্য উদ্ভাবন করা একমাত্র কাজ, যেটি মৌলিক ইতিহাস হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তিনি উচ্চারণ করেছিলেন যে, একজন উদ্যোক্তা পারে সর্বোত্তম ঘটনা ঘটাতে যা বর্তমানের ভিত্তিকে এগিয়ে নেয় আগামীকালের ভিন্ন নতুন উৎপাদন প্রক্রিয়া কিংবা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তি ঘটিয়ে থাকে।
বর্তমান অতি মহামারির সময় অধিক হারে সুম্পিটারের বক্তব্য বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য এ কারণে যে, আজকাল মুক্তবাজার অর্থনীতিতে, যুগোপযোগী উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘জীবন ও জীবিকার’ মধ্যে সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন। এটি করতে গিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাংলাদেশের মৌলিক চিন্তা-চেতনা এবং প্রায়োগিক কলাকৌশল অনেক গুরুত্ব বহন করে চলেছে। জিডিপি এর প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একদিকে ধীরগতি, অন্যদিকে স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক।
ইয়োজেফ আলইস শুম্পেটার এর অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্ব এর বিষয়বস্তুঃ
