উন্নয়ন তত্ত্বের মৌলিক উপাদান

উন্নয়ন তত্ত্বের মৌলিক উপাদান ক্লাসটি পলিটেকনিকের ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ (৬৫৮৫৩) / উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ (৬৫৮৫৩) (Innovation & Entrepreneurship, 65853) বিষয়ের, পঞ্চম (৫) অধ্যায়ের তথা “শিল্প ধারণার উৎসসমূহ ও মূল্যায়ন” অধ্যায়ের পাঠ।

 

উন্নয়ন তত্ত্বের মৌলিক উপাদান

 

আধুনিক তত্ত্ব বলতে সেই তত্ত্বকে বোঝায় যা বর্তমান উন্নত জাতিগুলো অনুসরণ করে এসেছে এবং উন্নতি করতে হলে উন্নয়নশীল জাতিকে অবশ্যই তা অনুসরণ করতে হবে। আমরা যাকে উন্নয়ন তত্ত্ব বলে জানি তা আর্থসামাজিক তত্ত্ব বলে পরিচিত। এসব তত্ত্ব উন্নয়নশীল জাতিকে আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নে উন্নত করার জন্য উন্নত দেশের ইতিবাচক ভূমিকার উপর গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য উন্নত দেশসমূহ তাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষা নিতে বলে।

 

উন্নয়ন তত্ত্বের মৌলিক উপাদান

 

আধুনিক তত্ত্বে এও বলা হয় যে আধুনিক তত্ত্ব অনুসরণে উন্নয়নশীলদেশগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করতে পারে, এমনকি উন্নত জাতির পর্যায় পৌঁছতে তাদের খুব বেশি সময় লাগবে না। রসটো (W.W. Rostow)-র অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধাপ মডেলটিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে প্রধান ঐতিহাসিক মডেলসমূহের মধ্যে অন্যতম আধুনিক তত্ত্ব হিসেবে ধরা হয়। এ মডেলটি আমেরিকার অর্থনীতিবিদ ওয়াল্ট, হুইটম্যান, রসটো (Walt Whitman Rostow) ১৯৬০ সালে প্রবর্তন করেন। এই মডেল অনুসারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভিন্ন দৈর্ঘের পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

 

১. সনাতন সমাজ ব্যবস্থা (Traditional Society)

২. উন্নয়ন সূচনার পূর্বশর্ত (Preconditions for Take Off)

৩. উন্নয়ন সূচনা (Take Off)

৪. পূর্ণ বিকাশের জন্য প্রচেষ্টা (Drive to Maturity)

৫. ভোগস্তর (Age of High mass consumption)

 

যে কোন সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আধুনিকায়নের এই পাঁচটি স্তরের উপর শিক্ষার প্রত্যক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। যদি রসটো প্রবর্তিত এই পাঁচটি ধাপের মাধ্যমে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন আনতে হয় তবে শিক্ষাই তার একমাত্র এবং উপযুক্ত মাধ্যম। উদাহরণ হিসেবে প্রথম স্তর সনাতন সমাজব্যবস্থায় সর্বোত্তম উপজীবিকা হিসেবে কৃষির কথাই বলতে হয়। শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত উন্নত পদ্ধতি প্রয়োগ করে সেই কৃষিক্ষেত্রের সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধশালী করা যায়।

উন্নত চাষাবাদ প্রক্রিয়া, সেচ পদ্ধতি, উৎপাদন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, সুখী ও সমৃদ্ধশালী পরিবার গড়ে তুলতে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার ব্যবহার, উন্নত ও স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়ে তোলা ইত্যাদি অনুসরণ শেখার জন্য শিক্ষাই একমাত্র প্রক্রিয়া। শিক্ষাই তাদের উন্নত মানসিক অবস্থা গড়ে তোলে, মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলে এবং উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে শেখায়। দ্বিতীয় ধাপেও শিক্ষাই কার্যকরী হয়। যেমন, এ স্তরে মানুষ তার সমাজে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম হয়, শিল্পে তথা নানারকম মৌলিক উৎপাদনে মনোনিবেশ করতে শেখে। বৈদেশিক বানিজ্যে আগ্রহ জন্মাতে ও বিনিয়োগ করতে শিক্ষাই তাদেরকে সাহায্য করে।

শিক্ষার সাহায্যে মানুষের মধ্যে আধুনিক মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে। যার ফলে সে তার দেশীয় সম্পদ রক্ষাকাজে যত্নবান হয়। সূচনা স্তরেও শিক্ষা মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব রাখে। শিক্ষার সাহায্যে সে তার সমাজ জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করতে শেখে এবং এ ব্যাপারে সে উৎসাহী হয়। এমন কি উৎপাদন কাজে জনগোষ্ঠির প্রকৃত ও সুষম ব্যবহার করতে শেখে। শিশুরা বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে উন্নত জীবন ধারণে তাদের আকৃষ্ট করে তোলে। সমাজে কাজের গতি বৃদ্ধি করার জন্য এবং নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের জন্য শিক্ষা মানুষকে উদ্যোগী করে।

Drive to maturity ধাপে মানুষ শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে শেখে এবং এগুলো শেখে নানাধরনের কর্মশালা, সেমিনার, সভায় বা শ্রেণিকক্ষে বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করে। এখানে শিক্ষার সাহায্যে মানুষ সমাজে অধিকার সচেতন হয়। নানাধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে শেখে। যেমন, তারা শেখে যে নারী পুরুষ ভেদে সমাজে সকলের অধিকার সমান এবং সকলে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে, সে তার লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য পৃথিবীর সকল ক্ষেত্রে সমান সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে।

সর্বপরি শিক্ষা মানুষকে তার জ্ঞান ও দক্ষতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করার উপায় ও উৎসাহ যোগায়। রসটোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রতিটি সমাজকে তার উন্নয়নে পৌছাতে হলে এই ধাপগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিভিন্ন দেশে বা সমাজে এই ধাপগুলোর প্রতিটির ব্যাপ্তি বিভিন্ন রকম, কোন একটি দেশে Take off এর জন্য ৭ বছর লাগলে অন্য দেশে এই সময়কাল ১০ বছর। এসব দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পেলে সমাজের আধুনিকায়নের জন্য সে অবস্থাকে লালন করে, অর্থাৎ অধিক উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা করে। তবে যে কোন অবস্থায় যে কোন দেশের জন্য উন্নয়নের পূর্ব চাহিদা হ’ল শিক্ষা।

 

কারবারের আর্থিক দিক মূল্যায়ন এর বিষয়বস্তুঃ

 

 

Leave a Comment