ব্যবস্থাপনার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনার পরিচিতি” বিষয়ক পাঠের অংশ। সহজ অর্থে ব্যবস্থাপনা হলো অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়ার কৌশল। তাই মানুষ যখন সংঘবদ্ধ হয়েছে, পেশা অবলম্বন করেছে, কাজ সম্পাদনে অন্যের সহায়তা গ্রহণ করেছে তখন হতেই ব্যবস্থাপনা বিষয় ও এর চিন্তাধারার ক্রমবিবর্তন শুরু হয়েছে। সমাজ যতই এগিয়েছে ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রও ততই গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হয়েছে। নিম্নে ব্যবস্থাপনা তথা ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারার ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হলো :
Table of Contents
ব্যবস্থাপনার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

ক) প্রাচীন যুগ (৫০০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টের মৃত্যুর পূর্ব সময় পর্যন্ত) (Ancient period) :
প্রাচীন যুগে সমাজ উন্নয়নের ধারা ছিল খুবই ধীরগতিসম্পন্ন। এ সময় বিভিন্ন সভ্যতাকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায় । এই সভ্যতাকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থাপনা শাস্ত্র ও এর প্রয়োগে উন্নতি লাভ ঘটে। এর মধ্যে মিসরীয়, ব্যবিলনীয়, হিব্রু, চৈনিক, রোমান, গ্রীক ও ভারতীয় সভ্যতা উল্লেখযোগ্য ।
খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দ হতে ৫২৫ অব্দ পর্যন্ত সময়ের কীর্তিসমূহ প্রাচীন মিসরের ব্যবস্থাপকীয় ও সাংগঠনিক কৃতিত্বের সাক্ষ্য বহন করে। এ সময়ের প্রাপ্ত কিছু উপদেশনামা হতে ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রের উপাদান লক্ষ্য করা যায় । ব্যবিলনীয় সভ্যতায় ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারার উন্নয়নে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয় । The Code of Hummmurabi -এর মধ্যে খুবই উল্লেখযোগ্য। হিব্রু সভ্যতায় হযরত মূসা (আ:)-এর ভূমিকা ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রের উন্নয়নে অবদান রাখে । আইন প্রণয়ন, সরকার পরিচালনা ও মানব সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর অবদান লক্ষণীয় ।
চৈনিক সভ্যতায় ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারার উন্নতিতে লাও-জু (Lau-Tzu)-এর অবদান লক্ষ্য করা যায়। তিনি কার্যপদ্ধতি উন্নয়নের বিভিন্ন উপায় নির্দেশ করেন। তিনি মনে করতেন, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবতাবোধ অভ্যাস করার মাধ্যমেই যথাযোগ্য চিন্তাধারা ও কর্ম পরিবেশ গড়ে উঠে। প্রাচীন চীনের প্রশাসনে বিশেষজ্ঞ কর্মী পরামর্শ (Staff advice) এর ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।
ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারার বিকাশে গ্রীক সভ্যতার বিশেষ অবদান রয়েছে। এ সময়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে । বিশেষায়ণ ও শ্রম বিভাগের ব্যাপক প্রচলনও এ সময়ে লক্ষ্য করা যায়। দার্শনিক প্লেটো একজন ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী একটি কাজ অর্পণ করার কথা বলেছেন। এ সভ্যতায় ‘সর্বোত্তম পদ্ধতি’ উদ্ভাবন ও ব্যবহারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হতো। দার্শনিক সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন বিষয় এবং এটি একটি স্বতন্ত্র ও পৃথক কাজ । তিনি তাঁর লেখনী ও বক্তব্যে সর্বপ্রথম এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
খ) মধ্যযুগ (০০-১৭৫০) ( Middle stage) :
মধ্যযুগে বিশ্বব্যাপী সামন্তবাদের ব্যাপক প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। এ সময়ে উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেনি। ফলে ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রের উন্নয়নের হারও উল্লেখযোগ্য ছিল না। নয়শত খ্রিস্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো লেখা পাওয়া যায় না । তবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদীন-এর আমলে শাসন ব্যবস্থা ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে যথেষ্ট অগ্রগতি হয় তা বিভিন্ন বর্ণনা হতে সুস্পষ্টভাবে জানা যায়। মধ্যযুগে যাঁরা ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রের উন্নয়নে অবদান রাখেন তাদের সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো:
১.আল ফারাবি :
৯০০ খ্রিস্টাব্দে আল ফারাবি লিখিতভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধে আলোকপাত করেন । তিনি তাঁর লেখনীতে নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় গুণ এবং পরিত্যাজ্য দোষসমূহ তুলে ধরেন ।
২. ইমাম গাজ্জালি :
১১০০ খ্রিস্টাব্দে ইমাম গাজ্জালি (রঃ) ‘নাসিহাত আল মুলক’ নামক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এখানেও শাসকশ্রেণীর প্রয়োজনীয় গুণাবলি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাজার আচরণ এমন হওয়া উচিত যাতে তার মৃত্যুর পর রাজা-প্রজা সবাই তাকে হারানোর বেদনা অনুভব করে ।
৩. লুকা প্যাসিওলি :
১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে লুকা প্যাসিওলি দু-তরফা হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন । ইটালিতে এরূপ হিসাব পদ্ধতির প্রচলন ঘটে। যা ব্যবস্থাপনার কাজেও যথেষ্ট সহায়ক হয়। এ সময়ে ইটালিতে অংশীদারি ও যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ের প্রচলন লক্ষ্য করা যায় ।
৪. থমাস মুর :
মধ্যযুগের শেষের দিকে ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারার উন্নয়নে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে থমাস মুরের নাম উল্লেখযোগ্য। ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইউটোপিয়া’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন । তিনি মনে করতেন, ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে অপচয় রোধ করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সম্ভব। এতে বিশেষায়ণ এবং মানবশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গ) শিল্প বিপ্লব কাল (১৭৫০-১৮৫০) (Industrial revolution period) :
শিল্প বিপ্লবের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রেও যথেষ্ট অগ্রগতি ঘটে। সর্বপ্রথম বৃটেনে এবং পরে ইউরোপ ও আমেরিকায় ঘটে যাওয়া এ বিপ্লবকালে ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রের উন্নয়নে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তাঁদের সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো :
১. জেম্স স্টিউয়ার্ট :
১৭৬৭ সালে স্যার জেমস স্টুয়ার্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তার একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন । এতে ক্ষমতার উৎস সম্পর্কে তত্ত্ব প্রদান করা হয় এবং শিল্পোৎপাদনে যন্ত্র প্রবর্তনের পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরা হয় ।
২. এ্যাডাম স্মিথ :
১৭৭২ সালে এ্যাডাম স্মিথের ‘ওয়েলথ অব নেশন’ নামক গ্রন্থ প্রকাশিত হয় । এতে তিনি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শ্রমবিভাগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ গ্রন্থে ব্যবস্থাপনার বহুবিধ সমস্যা ও ধারণা তুলে ধরা হয় ।
৩.ম্যাথে বোল্টন ও জেম্স ওয়াট :
এ দুই বিজ্ঞ উদ্ভাবক মিলে স্টীম ইঞ্জিন তৈরির জন্য ‘বোল্টন ওয়ার্ট এন্ড সন্স’ নামক প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে এর সহযোগী সোহো ইঞ্জিনিয়ারিং ফাউন্ড্রিতে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনার প্রয়োগ করা হয় এবং যন্ত্রপাতি বিন্যাস, বাজার বৃদ্ধি, দ্রব্যের মানোন্নয়ন, প্রণোদনা দান ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
৪. রবার্ট ওয়েন :
তিনি ১৮০০-১৮২৮ সাল পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন বস্ত্রশিল্পে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য তাঁকে ‘আধুনিক শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনার জনক’ নামে অভিহিত করা হয় । তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, অন্যান্য সম্পদের ওপর বিনিয়োগের তুলনায় মানব শক্তি খাতে বিনিয়োগ কয়েকগুণ লাভজনক ।
৫. চার্লস ব্যাবেজ :
তিনি ছিলেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত শাস্ত্রের অধ্যাপক । কম্পিউটার যন্ত্রের আবিষ্কার তাঁর মহান কীর্তি। তিনি তাঁর গ্রন্থে সর্বপ্রথম জোর দিয়ে প্রমাণ করেন যে, একটি সফল ব্যবসায়ে ব্যবস্থাপনা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গণিত শাস্ত্রের প্রয়োগে তিনি অবদান রেখেছেন ।
ঘ) শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী যুগ (১৮৫০-১৯৫০) (Post industrial revolution period) :
এ সময়ে যে সকল মনীষী ব্যবস্থাপনা শাস্ত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তার মধ্যে এফ. ডব্লিউ, টেইলর, হেনরি ফেওল, এইচ. এল. গ্যান্ট, হেরিংটন ইমারসন, গিলব্রেথ দম্পতি, ওলিভার শেলডন প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। এ সময়ে ব্যবস্থাপনা নীতি ও তত্ত্বের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা একটি ব্যবস্থাপনা মতবাদ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করে । এ সময়ের দু’জন নামকরা মনীষী সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো:
১. এফ. ডব্লিউ. টেইলর :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেয়া এ অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক । তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে (১৮৭০-১৯১৫) সাধারণ শিক্ষানবিস শ্রমিক থেকে বড় কারখানার শীর্ষপদ দখল করেছিলেন। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির তীব্র প্রয়োজন অনুভূত হয় । শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও জনশক্তির পূর্ণ ব্যবহারের জন্য বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার উদ্ভাবন করেন। এতে ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারায় ও পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়।
২. হেনরি ফেওল :
ফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী এ মহান ব্যক্তি ১৮৬০-১৯১৮ সাল পর্যন্ত একজন খনি প্রকৌশলী হিসেবে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি মনে করতেন ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের প্রয়োগ শুধু কারবারি প্রতিষ্ঠানেই নয় সকল ধরনের সংগঠনেই প্রয়োগযোগ্য এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি । তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ব্যবস্থাপনা রীতি-পদ্ধতির তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেন । তিনি কার্য বিভাগীয়করণেরও বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ১৪টি মূলনীতির নির্দেশ করেন। যা অদ্যাবধি সর্বজনগ্রাহ্য মূলনীতি হিসেবে অনুসৃত হয়। তাঁর অসামান্য অবদানের জন্যই তাঁকে ব্যবস্থাপনা তত্ত্বীয় ধারার অগ্রদূত ও ‘আধুনিক ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের জনক’ বলা হয়ে থাকে ।

ঙ) আধুনিক যুগ (Modern stage) :
শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থাপকীয় তত্ত্ব ও এর প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে যে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী ও আচরণ বিজ্ঞানীদের চিন্তাধারার দ্বারা ব্যবস্থাপনা তত্ত্ব প্রভূত উন্নতি লাভ করেছে। এর মধ্যে সি. আই. বার্নার্ড, ডগলাস ম্যাকগ্রেগর, হার্জবার্গ, পিটার এফ. ড্রাকার প্রমুখ মনীষীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও ই. এফ. এল. ব্রেক, নিউম্যান, কুঞ্জ ও ডোনাল, আরনেস্ট ডেল, ট্রিওয়াথা ও নিউপোর্ট প্রমুখ মনীষীদের লেখনী আধুনিক ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারাকে একটি বিশেষ মর্যাদার আসনে সমাসীন করতে সহায়তা করেছে ।
উপসংহার
ব্যবস্থাপনার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের এই দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ব্যবস্থাপনা কোনো হঠাৎ উদ্ভূত বিষয় নয়; বরং এটি মানব সভ্যতার সঙ্গে সমান্তরালে ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে। প্রাচীন সভ্যতার শাসনব্যবস্থা ও সংগঠন থেকে শুরু করে মধ্যযুগের দার্শনিক চিন্তা, শিল্প বিপ্লবের যান্ত্রিক রূপান্তর এবং পরবর্তী বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে ব্যবস্থাপনা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি যুগই ব্যবস্থাপনার চিন্তাধারাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করেছে।
এই ক্রমবিকাশের ধারায় আমরা দেখতে পাই যে, সময় ও পরিবেশের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার রূপ ও পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। কখনো এটি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল, কখনো শিল্প উৎপাদনের গতি বাড়ানোর হাতিয়ার, আবার কখনো মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞান। আধুনিক যুগে এসে ব্যবস্থাপনা শুধু উৎপাদন বা লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন মানব আচরণ, প্রেরণা, নেতৃত্ব ও সংগঠন উন্নয়নের একটি সমন্বিত শাস্ত্র হিসেবে স্বীকৃত।
অতএব বলা যায়, ব্যবস্থাপনার ইতিহাস শুধু অতীতের বিবরণ নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি দিকনির্দেশনা। এই দীর্ঘ বিবর্তন আমাদের শেখায় যে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রই টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। তাই ব্যবস্থাপনার এই ক্রমবিকাশকে অনুধাবন করা আমাদের জন্য শুধু জ্ঞানার্জন নয়, বরং বাস্তব জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি শক্ত ভিত্তি।
