আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় কমিটি সংগঠন বা কমিটি।
Table of Contents
কমিটি সংগঠন বা কমিটি

সাধারণ অর্থে- কমিটি বলতে কতিপয় লোকের সমষ্টিকে বুঝায়। যাদের উপর কোন বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয় । ব্যাপক অর্থে- কমিটি হল কোন বিশেষ ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি, যাদের ওপর কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে প্রশাসনিক দায়িত্ব বা কোন কার্যভার অর্পিত হয়। ‘যারা সমষ্টিগতভাবে সেই দায়িত্ব পালন বা কার্য সম্পাদন করেন।
বিশেষজ্ঞের মতামত, Prof. W. H Newman-এর মতে, “A committee consists of a group of people specifically designated to perform some administrative act.”
H. Koontz and O. Donnel- এর মতে “কমিটি বলতে কয়েকজন ব্যক্তির এমন একটি দলকে বুঝায়, যার উপর কোন বিষয়ের দায়িত্বভার অর্পিত হয়”। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, কমিটি ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্তৃক মনোনীত ও নিযুক্ত এমন একদল বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, যাৱা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও সামর্থ্য সহযোগিতার মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করেন।
কমিটির সুবিধাঃ
কমিটি গঠনের ফলে প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়। আবার কখন কখনও কমিটি গঠন প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে । নিম্নে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ হতে কমিটি গঠনের সুফল বা কমিটি ব্যবহারের কারণ আলোচিত হলো-
১। যৌথ সিদ্ধান্তের সুফলঃ
প্রচলিত আছে, “Two heads are better than one” অর্থাৎ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত যে কোন একক সিদ্ধান্ত হতে উত্তম। কমিটির সদস্যগণ পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে সকল সদস্যের অভিজ্ঞতার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধিক কার্যকর হয়।
২। সুষ্ঠু সমন্বয় ঃ
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ ও উপ-বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কমিটির ভূমিকা অপরিহার্য।
৩। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতা ঃ
যেহেতু কমিটির সদস্যগণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ করে থাকে, তাই এর বাস্তবায়নেও তারা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে কাজ করে। ফলে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে গৃহীত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।
৪। সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ ঃ
একটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পক্ষ থাকে। পক্ষগুলোর সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করে তাদের বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ করা যায়।
৫। যোগাযোগ বৃদ্ধি :
কমিটি সংগঠনের অভ্যন্তরে ও বাহিরের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উত্তম যোগাযোগ, সংগঠনের সংঘাত ও সমস্যা হ্রাসে সহয়তা করে। প্রতিষ্ঠানের উত্তম যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬।প্রেষণা দল ঃ
কমিটি একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধীনস্থদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধির সহায়ক। এতে করে তারা যে কোন কাজ সানন্দে গ্রহণ করে এবং নিজের ইচ্ছাশক্তি তাদের কাজে প্রেরণা সৃষ্টি করে ।
৭। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ঃ
কমিটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যথাযথ মূল্যায়ন করে। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের গুরুত্ব দেয়া হয়। এতে করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বনের ফলে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কর্মীর স্বার্থ রক্ষা করা যায় !
৮। ক্ষমতা অর্পণ ঃ
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষে সবসময় সব দিক দেখা সম্ভব হয় না। তারা বিভিন্ন বিভাগের যোগ্যকর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে। তাদের উপর দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করে। তখন কমিটি নিজ নিজ কার্যক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে। ফলে নির্বাহীদের কার্যভার লাঘব হয় ।
৯।প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ ঃ
সংগঠনের বিভিন্ন বিভাগে নানা ধরনের তথ্যের প্রয়োজন হয়। এ তথ্যাবলি সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সহকারে সরবরাহ করে।
১০। অর্থ ও সময়ের সদ্ব্যবহার :
কমিটির মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অপেক্ষাকৃত কম অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ প্রত্যেক কর্মীই উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল থাকে এবং সিদ্ধান্তটি নিজের মনে করে।
১১। সামাজিক মর্যাদা ঃ
মানুষ সবসময় সামাজিক মর্যাদা, প্রতিপত্তি, সম্মান, স্বীকৃতি, ক্ষমতা প্রভৃতি পেতে চায়। কমিটি মানুষের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করে। কারণ কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির ফলে সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
১২। প্রশিক্ষণ ও ধারাবাহিকতা :
কমিটির সদস্যগণ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খুঁটিনাটি আলাপ আলোচনা করে। ফলে সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায়। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কমিটির সদস্যগণ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে।
১৩। ব্যক্তিগত দায় হ্রাস ঃ
একজন বিজ্ঞ প্রশাসক তার ব্যক্তিগত ঝুঁকি হ্রাসের জন্যে যে কোন সিদ্ধান্ত কমিটির মাধ্যমে নিয়ে থাকে। ফলে উক্ত বিষয়ে তার ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব হ্রাস পায় ৷ উপরোক্ত নানাবিধ সুবিধার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কমিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

