আজকের আলোচনার বিযয় কর্মীদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের উপায় – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত, প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের উৎসাহিত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করতে পারার ওপর একটা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে । এরূপ উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান ও কর্মী উভয় দিক থেকেই নানান সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। এ সমস্যা দূরপূর্বক কর্মীদের প্রেষিত করে সামনে এগিয়ে নিতে বা প্রেষণার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে উপায়সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
Table of Contents
কর্মীদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের উপায়

১. প্রেষণার প্রতি উর্ধ্বতনদের আগ্রহ (Eagerness of executives to motivation):
ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের মন-মানসিকতা প্রেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিতে পারার ওপর নির্বাহীদের সফলতা নির্ভরশীল-এটা তারা বুঝতে সমর্থ হলে প্রেষণার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা সহজেই দূর হওয়া সম্ভব ।
২. কার্যকর প্রণোদনা পদ্ধতি প্রবর্তন (Introducing effective motivation procedure):
প্রণোদনা দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন উপায় বা পদ্ধতি কিভাবে ব্যবহার করা হবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় এরূপ উপায় ব্যবহারে যেমনি ঊর্ধ্বতনদের সতর্ক হতে হয় তেমনি অনার্থিক উপায়গুলোর কার্যকর ব্যবহারে যত্নবান হওয়ার প্রয়োজন পড়ে । এক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বিশেষ বিবেচনায় নিতে হয় ।
৩. শিল্প-সম্পর্ক উন্নীতকরণ (Developing industrial relationship) :
একটা প্রতিষ্ঠানে মালিক-মালিক, মালিক-শ্রমিক ও শ্রমিক-শ্রমিকের সম্পর্ক উন্নত হলে তা কর্মীদের প্রেষণাদনের ক্ষেত্রে অনেক বাধা সহজে দূর করতে ভূমিকা রাখে । কেউ কাউকে ঠকাবে না বরং সবাই প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে কাজ করবে-এ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে কর্মীদের জন্য প্রণোদনামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয় ।
৪. কর্মী উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি (Creating opportunity of employee development):
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মী উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলে তা প্রেষণাদানে গুরুত্বপূর্ণ আবহ সৃষ্টি করে । একজন কর্মী যখন বোঝে প্রতিষ্ঠান তার বৈষয়িক জ্ঞানগত ও মানসিক উন্নয়নে তৎপর তখন তাকে প্রেষণাদান সহজ হয় । সবকিছুকেই সে ইতিবাচকভাবে দেখে। তাই কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, প্রশিক্ষণ সুবিধা, পদোন্নয়নের সুবিধা ইত্যাদি বিষয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত
৫. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি (Creating interest to future prosperity) :
নগদ প্রাপ্তিতে সবাই খুশী হয় এটা বাস্তব। তবে কর্মীদের কার্যকরভাবে প্রেষিত করে মনোবল উন্নয়নের জন্য তাদের মাঝে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করা দরকার। নতুন কর্মীর বেতন ও সুবিধা কম হওয়া স্বাভাবিক । কিন্তু যতই দিন এগুবে ততই আর্থিক ও অনার্থিক সুবিধা বাড়বে- এটা নিশ্চিত করা গেলে কর্মীরা ভবিষ্যতের আশায় ছোট ছোট বিষয় ভুলে থাকে । যা প্রেষণাদানের পথ সুগম করে ।
৬. গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কৌশলের প্রতি গুরুত্বারোপ (Focusing importance on democratic leadership technique):
প্রতিষ্ঠানের যে যেই পর্যায়েই কাজ করুক না কেন সে সেখানে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে চায়। আর তাদের গুরুত্ব কতটা তা ঊর্ধ্বতনদের নেতৃত্ব কৌশলের ওপর নির্ভর করে। প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বজায় থাকলে কর্মীরা তাদের মনের কথাগুলো বলতে পারে, ঊর্ধ্বতন তাদের সাথে মত বিনিময় করতে পারে- এতে প্রেষণাদান অনেক সহজ হয় ।

৭. প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা (Estabilishing organization image):
একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ঠকানো হয়, খারাপ ব্যবহার করা হয়, শ্রমিক অসন্তোষ নিত্যদিনের ঘটনা-এরূপ ইমেজ নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর । যা নির্বাহী ও কর্মী সবার মনেই নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে । অন্যদিকে যদি ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তোলা যায় তবে মালিক ও শ্রমিক উভয়ই প্রতিষ্ঠানের এই ইমেজ ধরে রাখার চেষ্টা করে। ফলে প্রেষণাদানে তা গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে ।
