কর্তৃত্বাপণ বা ক্ষমতার্পণের সংজ্ঞা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় কর্তৃত্বাপণ বা ক্ষমতার্পণের সংজ্ঞা।

 

কর্তৃত্বাপণ বা ক্ষমতার্পণের সংজ্ঞা

 

কর্তৃত্বাপণ বা ক্ষমতার্পণের সংজ্ঞা

 

সাধারণ অর্থে- কর্তৃত্বার্পণ হল এমন একটি মাধ্যম, যার দ্বারা ব্যবস্থাপক তার অধঃস্তনদের কর্তৃত্বসহ কতিপয় কার্য সম্পাদন করার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করেন।
ব্যাপক অর্থে- ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি বা সংগঠন কর্তৃক অধঃস্তন ব্যক্তি বা সংগঠনকে কোন কাজ সম্পাদনের ও অধঃস্তনকে আদেশ দানের ক্ষমতা অর্পণ করা হলে তাকে কর্তৃত্বাপণ বলে।

বিশেষজ্ঞের মতামত ঃ

(i) ট্রিওয়াথা ও নিউপোর্ট-এর মতে, “ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্তৃত্বার্পণ হলো কর্তৃত্ব বণ্টনের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একজন ঊর্ধ্বতন সদ্বিশ্বাসে কিছু কর্তৃত্ব অন্যকে অর্পণ করে”।

(i) স্প্রিঙ্গেল-এর মতে, “সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উৎস হতে কিছু ক্ষমতা প্রদানের কাজকে কর্তৃত্বাপণ বলে । উপরোক্ত সংজ্ঞা ও আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কর্তৃত্বাপণ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার একটি অতি আবশ্যকীয় বিষয়, যেখানে একজন ঊর্ধ্বতন বা ঊর্ধ্বতন বিভাগ তার কর্তৃত্বের অংশবিশেষ তার অধঃস্তন বা অধঃস্তন বিভাগ বা উপবিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।

আদেশ দানের এবং অন্যদের নিকট হতে কাজ আদায়ের প্রাতিষ্ঠানিক অথবা বিধিবদ্ধ ক্ষমতাকে কর্তৃত্ব বলা হয়। কারবার প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক অধস্তনদেরকে কার্য সম্পাদনের ভার বা দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং উক্ত কর্ম সম্পাদিত হবার মতো তাদেরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব অর্পণ করা হয়। কারবার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্যদেরকে আদেশদান ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকারকে বা ক্ষমতাকে কর্তৃত্ব বলা হয়। এখানে অন্যদেরকে বলতে কারবার প্রতিষ্ঠানের অধস্তনদেরকে বুঝান হয়েছে এবং অধিকার বা ক্ষমতা বলতে বিধিসম্মত ক্ষমতাকে বুঝান হয়েছে।

 

দায়িত্ব (Responsibility) :

‘কর্তৃত্ব’ ও ‘দায়িত্ব’ শব্দ দুটি ভিন্ন অর্থবোধক হলেও একে অপরের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত। কর্তৃত্ব হচ্ছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জনকল্পে নির্বাহীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা অন্যের কর্মতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বা ক্ষমতা। আর এ ক্ষমতা পাবার সঙ্গে সঙ্গেই তার একটি দায়ের সৃষ্টি হয়; সেটা হল অর্পিত কাজ বা নির্ধারিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের দায়িত্ব।

দায়িত্ব বলতে কার্য সম্পাদনের বাধ্যবাধকতাকে বুঝায়। যেমন- হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কর্তৃত্ব বা ক্ষমতাস্বরূপ সেবিকা, রোগী ও তার আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন ধরনের নির্দেশ- উপদেশ প্রদান করে, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বা তাদের কর্মতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে। আর এখানে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে রোগীকে সুস্থ করে তোলা। এভাবে কর্তৃত্বের পাশাপাশি দায়িত্বের সৃষ্টি হয়।

এ থেকে আমরা বলতে পারি যে, দায়িত্ব হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্যবাধকতা, যা নির্বাহীর উপর অর্পিত হয়েছে এবং এর জন্য ঊর্ধ্বতন অফিসারের নিকট তার দায়বদ্ধতা আছে।

কর্তব্য (Duty) ঃ

সহজ অর্থে, কর্তব্য বলতে অবশ্যকরণীয় কাজকে বুঝায়। দায়িত্বের সাথে কর্তব্যের সম্পর্ক রয়েছে। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন নির্বাহীর পক্ষে একাকী সকল কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। এ কারণে তাকে কিছু কাজের ভার অধস্তন কর্মীদের উপর ন্যস্ত করতে হয়। অধস্তন কর্মীদের উপর অর্পিত কার্য বা দায়িত্ব যথাযথভাবে
পালন করাই তখন কর্তব্য হিসেবে গণ্য হয়। সন্তোষজনকভাবে কর্তব্য সম্পাদনের জন্য অধস্তন কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি বা জবাবদিহিকরণের ব্যবস্থা থাকা উচিত।

 

কর্তৃত্বাপণ বা ক্ষমতার্পণের সংজ্ঞা

Leave a Comment