অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণকারি গুণক

অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণকারি গুণক ক্লাসটি পলিটেকনিকের ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ (৬৫৮৫৩) / উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ (৬৫৮৫৩) (Innovation & Entrepreneurship, 65853) বিষয়ের, পঞ্চম (৫) অধ্যায়ের তথা “শিল্প ধারণার উৎসসমূহ ও মূল্যায়ন” অধ্যায়ের পাঠ।

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণকারি গুণক

 

আর্থিক নীতি সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করার আগে এ সম্পর্কিত কয়েকটি ধারণার ব্যাপারে আলোকপাত করা যাক।

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণকারি গুণক

 

১. আর্থিক কর্তৃপক্ষ (Monetary Authority): অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা অর্থবাজারের অঙ্গীভূত সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে আর্থিক কর্তৃপক্ষ বলে। বাংলাদেশে অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ক্ষুদ্রতম অংশ সরকার। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার এখানে আর্থিক কর্তৃপক্ষ। ব্যাপক অর্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই আর্থিক কর্তৃপক্ষ বলা যায়।

২. ব্যাংক হার (Bank Rate): কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার তফশিলি ব্যাংকগুলোকে যে সুদের হারে স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করে তাই হল ব্যাংক হার। অন্যভাবে বলা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট কোনো তফশিলি ব্যাংক হুন্ডি ভাঙাতে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে হারে বাট্টা করে সেই হারই হলো ব্যাংক হার। এটি কোনো দেশের ঋণ নিয়ন্ত্রণের একটি শক্ত হাতিয়ার।

৩. অর্থের যোগান (Money Supply):

ক. সংকীর্ণ মুদ্রা (Narrow money supply): অর্থের যোগান বলতে জনগণের হাতে রক্ষিত অর্থ এবং ব্যাংকে রক্ষিত চাহিদা আমানত এর সমষ্টিকে বোঝায়। সংক্ষেপে, MC+D M₁-সংকীর্ণ মুদ্রা, C-জনগণের হাতে রক্ষিত অর্থ, D-চাহিদা আমানত।

খ. বিস্তৃত অর্থে অর্থের যোগান (Broad Money supply): কোনো নির্দিষ্ট সময়ে জনগণের হাতে রক্ষিত অর্থ, বাণিজ্যিক ব্যাংকে রক্ষিত চাহিদা আমানত এবং মেয়াদি আমানতের সমষ্টিকে বিস্তৃত অর্থে অর্থের যোগান বোঝায়। M2 C+D+To

যেখানে M₂= বিস্তৃত অর্থে অর্থের যোগান, C-জনগণের হাতে রক্ষিত অর্থ, D-চাহিদা আমানত, Tp-মেয়াদি আমানত।

৪. আর্থিক ভিত্তি/শক্তিশালী মুদ্রা (High power money): কোনো অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রচলিত তরল আর্থিক সম্পদ যেমন নোট ও কয়েনের সমষ্টিকে আর্থিক ভিত্তি (Monetary Base) বা শক্তিশালী মুদ্রা (High Power Money) বলে। যা মূলত জনগণের হাতে রক্ষিত অর্থ (C) এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের রিজার্ভের (R) সমষ্টি।

৫. আর্থিক প্রতিষ্ঠান (Financial Institution): যেসব প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ করে ঋন প্রদান করে, স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করে এবং স্বল্পকালীন ঋণ লেনদেন করে তাদেরকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলে।

৬. প্রচলিত মুদ্রা (Currency in circulation): যে অর্থ জনগণের লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে তাকে প্রচলিত মুদ্রা বোঝায়। আর্থিক নীতি হলো অর্থনৈতিক নীতিসমূহের সেই অংশ যার মাধ্যমে আয়, নিয়োগ, উৎপাদন এবং দামের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এখানে সহায়ক শক্তি হিসাবে আর্থিক কর্তৃপক্ষ অর্থের যোগান, সুদের হারের কাঠামো, ঋণ ব্যবস্থার মতো আর্থিক বিষয়সমূহ ব্যবহার করে। অন্যভাবে বলা যায় কর্তৃপক্ষ সরকারের নীতির সহায়ক হিসেবে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যেসব নীতি গ্রহণ করে সেটাই আর্থিক নীতি। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

৭. আর্থিক নীতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক নীতি পরিচালনা করে খোলা বাজার কার্যক্রম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্যে সরকারি বন্ড, ট্রেজারি বিল সরকার কিনে নেয়। দেশে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐ দেশের মুদ্রা (যেমন- বাংলাদেশে টাকা) ছাপিয়ে তা বাজারে – ছড়িয়ে দেয়। বিনিময়ে মানুষ বা ক্রেতার কাছ থেকে তারা সরকারি বন্ড, ট্রেজারি বিল কিনে নেয়। দেশে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সরকারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ক্রয়-বিক্রয়ের প্রক্রিয়াটিই খোলা বাজার কার্যক্রম।

ধরুন দেশের অর্থনীতিতে সরকারি বন্ডের সংখ্যা বেশি। অন্যভাবে বললে দেশের অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ কম। প্রবাহ বাড়াতে এবং বন্ডের সংখ্যা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজের তহবিল থেকে অর্থ যোগান দেবে, সরকারি বন্ড ক্রয় করবে। ফলে অর্থনীতি বা বাজারে বন্ডের সংখ্যা কমে যাবে। চাহিদার তুলনায় যোগান কমতে থাকলে সরকারি বন্ডের দাম বাড়তে থাকবে। সুদের হার হ্রাস পাওয়ায় অর্থনীতিতে তখন ভোক্তারা তাদের সম্পদের ক্ষুদ্রাংশ বন্ড হিসেবে এবং বৃহদাংশ টাকা হিসেবে রাখবে।

 

 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণকারি গুণক এর বিষয়বস্তুঃ

Leave a Comment