নেতার কার্যাবলি

আজকের আলোচনার বিযয় নেতার কার্যাবলি  – যা নেতৃত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, নেতার কাজ হলো কর্মীদের চিন্তা ও প্রচেষ্টাকে সাংগঠনিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যপানে পরিচালিত করা। প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো উপায়-উপকরণ অপেক্ষা কর্মী তথা মানুষ পরিচালনার কাজটি অধিক কষ্টসাপেক্ষ ।

প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত চাহিদা, আশা-আকাঙক্ষা ও মন-মানসিকতার মধ্যে ভিন্নতা লক্ষ করা যায় । এ ছাড়া কর্মীদের চাওয়া-পাওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রেই পার্থক্য থাকে । তাই অধস্তনদের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যের সমন্বয় বিধান করেই নেতাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রতিষ্ঠান ও কর্মী এ উভয় দিক বিচারে একজন নেতার যে সকল কাজ লক্ষণীয় তা নিম্নের রেখাচিত্রের সাহায্যে প্রদর্শিত হলো :

 

নেতার কার্যাবলি

নেতার কার্যাবলি

উপরের রেখাচিত্রে বর্ণিত কার্যাবলি নিম্নে আলোচনা করা হলো : 

ক) প্রাতিষ্ঠানিক দিক বিচারে (On the basis of organization) :

১. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ (Preparing plan and formulating policy) :

ভবিষ্যতে কী কাজ করতে হবে এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা সম্পাদনে প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ নেতার প্রথম ও প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ । নেতাকেই বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নতুন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় । যথাসময়ে যথাসিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরই নেতার কর্ম সাফল্য নির্ভর করে ।

২. উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি (Preparing proper organizational structure)

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো বিন্যাস নেতাকেই করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের কাজের বিভাগীকরণ, স্তর নির্ধারণ, দায়িত্ব ও কর্তব্য সংজ্ঞায়িতকরণ ও বণ্টন এবং বিভিন্ন স্তর ও বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ এরূপ কাজের আওতাভুক্ত।

৩. কর্মী নির্বাচন ও মানোন্নয়ন (Selection of employees and their development) :

নেতাকেই যোগ্য অধস্তন সংগ্রহ ও তার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় কর্মব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। অধস্তনদের কর্মদক্ষতার ওপরই নেতার কাজের সাফল্য নির্ভর করে। তাই কর্মী নির্বাচন, প্রশিক্ষণ এবং তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো নেতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।

 

৪. নির্দেশ দান (Directing ) :

যথাসময়ে নির্দেশ দানের ওপর কাজের সাফল্য নির্ভর করে । নেতাকে সবসময়ই সময় বুঝে নির্দেশ প্রদান করতে হয় । পরিকল্পনার আলোকে পরম্পরা বজায় রেখে নির্দেশ দান, কার্যকর পরিচালনা ও অনুসরণের (Follow-up) ওপর অধস্তনদের কার্য সাফল্য নির্ভর করে ।

৫. কার্যকর তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়সাধন (Effective supervision and co-ordination) :

কর্মীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করতে হলে শুধুমাত্র নির্দেশ দিলেই চলে না । নির্দেশ অনুযায়ী তারা কাজ করছে কি না বা কার্যক্ষেত্রে কোনো ভুল হচ্ছে কি না তা দেখা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যকর তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন পড়ে । এছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় করাও নেতার গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।

৬. নিয়ন্ত্রণ (Controlling) :

নেতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কাজ পরিকল্পিতভাবে সম্পাদিত হচ্ছে কি না তা দেখা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এজন্য বিচ্যুতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা কী হতে পারে তা নেতাকেই নির্ধারণ করতে হয়। প্রয়োজনে সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যথাযথ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আরোপের প্রয়োজন পড়ে ।

খ) কর্মীদের দিক বিচারে (On the basis of work-force):

১. আস্থা সৃষ্টি (Creating enthusiasm) :

নেতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অধস্তন জনশক্তি ও সংশিষ্ট সকল পক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠান ও নিজ নেতৃত্ব সম্পর্কে আস্থা সৃষ্টি করা । নেতার প্রতি অধস্তনদের আস্থা না থাকলে কার্যক্ষেত্রে তারা কাঙিক্ষত ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হয় না । পক্ষান্তরে নেতার প্রতি অধস্তনদের কার্যকর মানের আস্থা বজায় থাকলে তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আগ্রহী থাকে ।

 

নেতার কার্যাবলি
নেতার কার্যাবলি

 

২. দলগত প্রচেষ্টার উন্নয়ন (Boosting team spirit) :

সাংগঠনিক কাজ দলবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল । নেতা যদি নিজেই সব কাজ করেন এবং অধস্তনদের কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন, তবে তার পক্ষে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ সম্ভব হয় না। এজন্য নেতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, প্রতিষ্ঠানে দলবদ্ধ প্রচেষ্টা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।

৩. কর্মীদের মনোবল  উন্নয়ন (Development of the morale of the employees) :

কর্মীরা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে এজন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অনার্থিক বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা নেতাকেই করতে হয় । কার্যকর তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রণোদিত করে তাদের মনোবল উন্নত করাও নেতার গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।

Leave a Comment