ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশ ১৯৬১ 

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশ ১৯৬১ । এই পাঠটি “ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে” বিষয়ের “শ্রম ও শিল্প আইন” বিভাগের একটি পাঠ।

 

Table of Contents

 ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশ ১৯৬১

 

 

ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশ ১৯৬১ 

 

 

কাজের বিনিময়ে শ্রমিক শ্রেণি লাভ করে মজুরি। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা বিধানের জন্য ১৯৬১ সালে সর্বনিম্ন মজুরি অধ্যাদেশ জারী করা হয়। এ অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মালিক ও শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পেশায় নিয়োজিত একজন শ্রমিক কমপক্ষে কত মজুরি পাবে তাহা নির্ধারণের পদ্ধতি।

কালের প্রবাহে এ অধ্যাদেশটি ১৯৬৯, ১৯৭৯-তে সংশোধিত হলেও পরিবর্তিতরূপে মূলত ১৯৬৯ সালের ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশ আজও সমগ্র বাংলাদেশে বলবৎ রয়েছে।

 

(ক) কতিপয় মৌলিক সংজ্ঞা (Some fundamental definitions) :

১। প্রাপ্তবয়স্ক ঃ

প্রাপ্তবয়স্ক বলতে ১৯৬৫ সালের কারখানা আইনের ২ ধারার (বি) অনুচ্ছদে বর্ণিত ব্যক্তিকে বুঝাবে । (ধারা-২(১)]

 

২। বোর্ড ঃ

বোর্ড বলতে অত্র অধ্যাদেশের ৩ ধারা অনুসারে গঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডকে বুঝাবে। [ধারা-২(২)]

 

৩। নিয়োগকর্তা বা মালিক :

মালিক বলতে সেই ব্যক্তিকে বুঝাবে যিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন লোককে কাজে নিয়োগ করে থাকেন । যার জন্য অত্র অধ্যাদেশ অনুসারে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা যেতে পারে এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিরাও মালিকের আওতাভুক্ত হবে :

(ক) কারখানার ক্ষেত্রে ব্যস্থাপনা প্রতিনিধি অথবা কারখানার উপর নিয়ন্ত্রণ আছে, এরূপ অন্য যে কোন ব্যক্তি এবং

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বা তাদের মজুরি পরিশোধের ব্যাপারে মালিকের নিকট দায়বদ্ধ যে কোন ব্যক্তি [ধারা-২(৪)।

 

৪। কারখানা ঃ

কারখানা বলতে ১৯৬৫ সালের কারখানা আইনের ২ ধারার (এক) অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত একটি কারখানা এবং উক্ত আইনের ৩(১) ধারা অনুসারে যে কোন স্থানকে বুঝাবে [ধারা-২(৫)] ৫। শিশুশ্রমিক ঃ শিশুশ্রমিক বলতে যে শ্রমিক প্রাপ্তবয়স্ক নয় তাকে বুঝাবে। [ধারা-২(৭)]

 

৬। মজুরি ঃ

মজুরি হল অর্থে পরিশোধযোগ্য সকল প্রকার পারিশ্রমিক, কিন্তু নিম্নোক্ত বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয় ঃ (ক) সামাজিক বীমা বা পেনশন তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে মালিক কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ।

(খ) যে কোন ভ্রমণ ভাতা বা ভ্রমণ সুবিধার মূল্য ।

(গ) শ্রমিকের কর্তব্য কাজ সংক্রান্ত বিশেষ কোন ব্যয় । (ঘ) বার্ষিক বোনাস হিসেবে প্রদত্ত যেকোন অর্থ এবং

(ঙ) চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পরিশোধযোগ্য কোন অনুতোষিক। [ধারা-২(৮)]

 

৭। শ্রমিক ঃ

শ্রমিক বলতে দক্ষ বা অদক্ষ, বুদ্ধিবৃত্তিগত, কারিগরি, ক্লার্কের কায়িক বা অন্য কোন কাজ করার জন্য শিল্পে নিযুক্ত যে কোন ব্যক্তিকে বুঝাবে। শিক্ষানবিস এবং অর্থ বা পারিতোষিকের বিনিময়ে গৃহকাজে নিযুক্ত ব্যক্তিও এর আওতাভুক্ত হবে কিন্তু নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা এর আওতাভুক্ত হবে না ।

i. সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ;

ii. কয়লা খনিতে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ, যাদের ন্যূনতম মজুরি ১৯৫০ সালের কয়লা খনি (মজুরির হার (iii) কৃষিকাজে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ [ধারা-২ (৯)]। নির্ধারণ)
অধ্যাদেশ অনুসারে নির্ধারণ করা যেতে পারে; এবং

(খ) ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন (Formation of minimum wages board) :

ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৬১ সালের ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশের ৩ ধারায় যেসব বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে তা নিম্নে আলোচিত হল :

 

১। বোর্ডের গঠন কাঠামো ঃ

সরকার ৪ জন সদস্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করবেন ।

এরূপ মজুরি বোর্ডের সদস্য কাঠামো নিম্নরূপ হবে ঃ

(ক) বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(খ) একজন নিরপেক্ষ সদস্য;

(গ) বাংলাদেশে মালিকদের পক্ষে একজন প্রতিনিধি

এবং (ঘ) বাংলাদেশের শ্রমিকদের পক্ষে একজন প্রতিনিধি ।

এক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, সরকার বোর্ডের দায়িত্ব পালনের জন্য (অত্র অধ্যাদেশের ৫ ধারায় বর্ণিত) নিম্নলিখিত আরও দুজন সদস্য মনোনিত করতে পারবে ঃ

(i) শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে একজন সদস্য; এবং

(ii) অনুরূপ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে একজন সদস্য। [ধারা-৩(১)]

 

২। বোর্ডের চেয়ারম্যান ও নিরপেক্ষ সদস্যের যোগ্যতাlঃ

যে সকল ব্যক্তির বাংলাদেশের শিল্পশ্রম ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান আছে এবং যারা শিল্পের সাথে সম্পর্কযুক্ত কোন মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তাদের মধ্য হতে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও নিরপেক্ষ সদস্য নিয়োগ করা যাবে। [ধারা-৩(২)]

 

৩। সদস্য প্রতিনিধি নির্বাচন (Selection of member representatives) :

সরকার স্বীকৃত মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের মধ্য হতে ৩(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য নিয়োগ করতে হবে [ধারা-৩(৩)।

 

৪। অতিরিক্ত সদস্য প্রতিনিধি নির্বাচন (Selection of additional member representatives) :

সরকার স্বীকৃত মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের মধ্য হতে বোর্ডের দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকদের এবং শিল্পের সাথে সম্পর্কযুক্ত মালিকদের একজন করে অতিরিক্ত প্রতিনিধি সদস্য নিয়োগ করতে পারবে। [ধারা-৩(৪)]।

 

৫। বোর্ডের সদস্যদের কার্যকাল (Terms of the member of the board) :

অত্র অধ্যাদেশের ১৭ ধারা অনুসারে প্রণীত বিধান অনুযায়ী বোর্ডের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ, সাময়িক শূন্যপদ পূরণের পদ্ধতি, বোর্ডের কোন কমিটি থাকলে তা নিয়োগ বোর্ড ও এর কমিটিগুলোর সভা অনুষ্ঠান পদ্ধতি এবং সভার যোগদান পদ্ধতি, ফি, ভাতা ও অন্যান্য | ব্যয়, বোর্ড কর্তৃক বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শদাতা নিযুক্তির ব্যয়সহ অন্য সকল বিষয় নির্ধারণ করতে হবে [ধারা-৩ (৫)]।

 

(গ) ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের কার্যাবলি ও ক্ষমতা (Function and powers of minimum wages board)ঃ

মজুরি বোর্ডের কার্যাবলি ও ক্ষমতা সম্পর্কে ১৯৬১ সালের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড অধ্যাদেশে যেসব বিধানের ন্যূনতম উল্লেখ করা হয়েছে তা নিম্নে আলোচিত হল ঃ

 

১। অদক্ষ ও শিশুশ্রমিকদের মজুরি হার সম্পর্কে সুপারিশ করা ঃ

সরকারের নির্দেশ প্রাপ্তির পর বোর্ড প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশের শিল্পগুলোতে নিযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও শিশুশ্রমিকদের মজুরি হার সম্পর্কে সরকারের নিকট সুপারিশ করবে। (ধারা-৪ (১)

 

২। মজুরি হারের তারতম্য সম্পর্কে সুপারিশ করা ঃ

৪(১) ধারায় মজুরি সুপারিশ বোর্ড এ বিষয়টি উল্লেখ করবে যে একই মজুরির হার সমগ্র বাংলাদেশের জন্য অথবা বিভিন্ন এলাকার জন্য বিভিন্ন মজুরির হার প্রবর্তিত হবে। (ধারা-৪ (২)

৩। বিশেষ ধরনের শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হারের সুপারিশ ৪ সরকারের নির্দেশ প্রাপ্তির পর বোর্ড বিশেষ ধরনের শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকদের অথবা নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হার নির্ধারণের সুপারিশ করতে পারে। (ধারা-৫(১)]

 

 

৪। সুপারিশে কাজের প্রকৃতি উল্লেখ করা ঃ

সরকার কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে বোর্ড যে কোন গ্রেডের সকল শ্রেণির শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরির হার সম্পর্কে সুপারিশ করতে পারে এরূপ সুপারিশে বোর্ড নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করতে পারে ঃ

(ক) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে মজুরির ন্যূনতম হার

(i) নির্দিষ্ট সময়ে কাজ;

(ii) নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ;

(iii) অতিরিক্ত সময়ে কাজ এবং

(iv) সাপ্তাহিক অবসরের দিন ও সবেতন অবকাশকালীন দিনের কাজ।

(খ) কাজের পরিমাণের ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সময়ানুপাতিক ন্যূনতম মজুরির হার নিরূপণ যেন অনুরূপ শ্রমিকরা সময়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা পেতে পারে। [ধারা-৫(২)]

 

৫। ন্যূনতম মজুরির হার পুনর্বিবেচনা ঃ

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন হলে বোর্ড তার সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করে সরকার কর্তৃক ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির হার সংশোধন করে সরকারের নিকট সুপারিশ কতে পারে। [ধারা-৭(১)] এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, অনিবার্য কারণ ছাড়া সুপারিশ করার এক বছরের মধ্যে ও তিন বছর পরে সুপারিশটি পুনর্বিবেচনা করা যাবে না ।

 

৬। তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা :

অত্র অধ্যাদেশ বা এর বিধিমালা অনুযায়ী কোন তদন্তের প্রয়োজন হলে বোর্ড বা এর চেয়ারম্যান যে কোন মালিককে যে কোন রেকর্ড, খাতা, হিসাবপত্র, দলিল বা তথ্য বোর্ডের নিকট উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিতে পারবে এবং মালিক ঐ নির্দেশ পালন করতে বাধ্য থাকবে। [ধারা-১২(১)] বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত অন্য যে কোন সদস্য, অফিসার বা কর্মচারী নিম্নলিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে-

 

৭। কারখানায় প্রবেশ ও খাতাপত্র প্রদর্শনের ক্ষমতা ঃ

(ক) সকল যুক্তিসঙ্গত সময়ে যে কোন কারখানায় প্রবেশ করতে পারবে;

(খ) সংশ্লিষ্ট কারখানার যে কোন রেকর্ড, খাতাপত্র, দলিল ইত্যাদি পরিদর্শন করতে পারবে;

(গ) সংশ্লিষ্ট কারখানার কার্যাবলি সম্পর্কে যে কোন ব্যক্তির বক্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবে। [ধারা-১২ (২)]

তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি অত্র অধ্যাদেশ অনুসারে এরূপ কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য থাকবে না যা। দ্বারা সে নিজে কোন অপরাধে জড়িত হতে পারে।

 

৮। অর্থ দণ্ডের ক্ষমতা ঃ

কোন মালিক ১২(১) ধারা এবং ১২(২) ধারায় বর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগের (ক) কোন ব্যক্তিকে হাজির হতে বাধ্য করা এবং শপথ গ্রহণপূর্বক তার জবানবন্দি গ্রহণ করা; ক্ষেত্রে বাধার সৃ করলে অথবা কোন খাতাপত্র বা রেকর্ডের উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থে দণ্ডিত করা যাবে [ধারা-১২ (৩)

 

৯। দেওয়ানি আদালতের কতিপয় ক্ষমতা প্রয়োগ ঃ

অত্র অধ্যাদেশ বা এর বিধিমালা অনুযায়ী বোর্ড অনুষ্ঠানকালে একটি দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য হবে এবং নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে অনুরূপ আদালতের সমান ক্ষমতা লাভ করবে :

(খ) কোন দলিলপত্র বা বস্তু উপস্থাপন করতে বাধ্য করা; এবং

(গ) সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন প্রদান করা [ধারা-১৩]।

(ঘ) ন্যূনতম মজুরির হার ঘোষণার ক্ষমতা সংক্রান্ত নিয়মাবলি  ঃ১৯৬১ সালের ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশের ৬ ধারায় ন্যূনতম মজুরির হার ঘোষণার ক্ষমতা সংক্রান্ত ব্যাপারে যেসব বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে তা নিম্নরূপ ঃ

 

১। সরকার কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দান ঃ

সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করতে পারবে যে বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত ন্যূনতম মজুরির হার সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির হার হিসেবে গণ্য হবে। [ধারা-৬ (১ এর (এ))]

 

২। পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডের নিকট প্রেরণ ঃ

সরকার যদি মনে করে যে, সুপারিশটি মালিকদের অথবা শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সঙ্গত হয়নি তাহলে ঐ সুপারিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে তা পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডের নিকট ফেরত পাঠাতে পারে । [ধারা-৬(১) এর (বি)]

 

৩। বোর্ড কর্তৃক পুনর্বিবেচিত সুপারিশ সরকারের নিকট উপস্থাপন :

সরকার কর্তৃক ফেরত পাঠানো সুপারিশটি বোর্ড পুনর্বিবেচনা ও নতুন তদন্ত অনুষ্ঠান শেষে নিম্নলিখিতভাবে সরকারের নিকট উপস্থাপন করবে :

(ক) একটি সংশোধিত সুপারিশ; অথবা

(খ) কোন সংশোধন বা পরিবর্তন অপ্রয়োজনীয় বলে গণ্য হলে তার কারণ ব্যাখ্যাসহ একটি প্রতিবেদন । [ধারা-৬(২)]

 

৪। পুনর্বিবেচিত ন্যূনতম মজুরি হারের ঘোষণা ঃ

অত্র অধ্যাদেশের ৬(২) ধারা অনুযায়ী বোর্ডের সুপারিশ প্রাপ্তির পর সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ঘোষণা করতে পারে যে, বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিকের জন্য বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত ন্যূনতম মজুরির হার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সংশোধন বা ব্যতিক্রম সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির হার হবে। [ধারা-৬(৩)]।

 

৫। ঘোষণার কার্যকারিতা ঃ

সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে কোন তারিখ নির্দিষ্ট করা না হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ হতেই ঘোষণাটি কার্যকরী হবে। [ধারা-৬(৪)]

 

৬। বিজ্ঞপ্তি বা কার্যকরী সুপারিশ বোর্ডের কাছে প্রেরণ ঃ

ন্যূনতম মজুরি হারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অথবা ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির হার কার্যকরী হবার পর সরকার যদি মনে যে, ঐ মজুরির হারে ভুল আছে অথবা তা মালিক বা শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সঙ্গত নয়, তাহলে সরকার তা পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডের নিকট ফেরত পাঠাতে পারবে। [ধারা ৬-(৫)]

 

৭। চূড়ান্ত ন্যূনতম মজুরি হারের ঘোষণা ঃ

অত্র অধ্যাদেশের ৬ ধারা অনুযায়ী ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির হার চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং এ বিষয়ে কোন ব্যক্তি কোন আদালতে বা কোন কর্তৃপক্ষের নিকট কোনরূপ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। [ধারা
৬-(৭)]।

 

(ঙ) ন্যূনতম মজুরির হার অপেক্ষা কম হারে মজুরি প্রদানের উপর বিধিনিষেধ (Prohibition of the payment of less than the minimum wages) :

সরকার কর্তৃক ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির হার অপেক্ষা কম হারে মজুরি প্রদানের উপর কতিপয় ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ভারোপ করা হয়েছে। অত্র অধ্যাদেশের ৯ ধারা অনুযায়ী এই বিধিনিষেধগুলো নিম্নরূপ

১। ন্যূনতম মজুরি হার অপেক্ষা কম হারে মজুরি প্রদান নিষিদ্ধ ঃ

কেবল এই অধ্যাদেশ বা দেশে প্রচলিত অন্য কোন আইন অনুযায়ী হ্রাসকরণ ছাড়া কোন মালিক কোন শ্রমিককে অত্র অধ্যাদেশ অনুসারে ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি অপেক্ষা কম হারে মজুরি প্রদান করতে পারে না। (ধারা-৯ (১)]

২। মজুরি হ্রাসকরণের ক্ষমতা মালিকের নেই ঃ

অত্র অধ্যাদেশের কোন বিধান কোন মালিককে কোন শ্রমিকের মজুরি হ্রাস করার ক্ষমতা প্রদান করেনি। (ধারা-৯ (২) এর (এ)]। ৩। উচ্চতর হারে মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমিকের অধিকার বলবৎ থাকবে ঃ অত্র অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঘোষিত মজুরির হার অপেক্ষা উচ্চতর হারে কোন শ্রমিক যদি মজুরি পেয়ে আসতে থাকে তাহলে তার ঐ উচ্চতর হারে মজুরি প্রাপ্তির অধিকার কোনক্রমেই ক্ষুণ্ণ হবে না। [ধারা-৯(২) এর (বি)]।

৪। মজুরি পরিশোধ আইনের বিধানের কার্যকারিতা ঃ

অত্র অধ্যাদেশের ৯(১) ধারার বিধান ১৯৩৬ সালের মজুরি পরিশোধ আইনের বিধান ক্ষুণ্ণ করবে না। [ধারা-৯(২) এর (সি))।

৫। বিধান লংঘনের জন্য দণ্ড ঃ

কোন মালিক যদি অত্র অধ্যাদেশের ৯ ধারার বিধান লংঘন করে তাহলে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

 

ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশ ১৯৬১ 

Leave a Comment