ব্যবসা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপ বা ধাপসমূহ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ব্যবসা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপ বা ধাপসমূহ ।

 

সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপ বা ধাপসমূহ

 

সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপ বা ধাপসমূহ

 

সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে বিভিন্ন জটিলতা মোকাবেলা, কর্মপন্থ নির্ধারণ, উদ্ভূত সমস্যার সমাধান ইত্যাদিসহ বিভিন্ন কারণে ব্যবস্থাপনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ব্যবস্থাপকীয় সিদ্ধান্ত তাই একটি জটিল প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াটিতে কতকগুলো ধারাবাহিক পদক্ষেপ জড়িত। নিম্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াহ পদক্ষেপগুলো সংক্ষেপে সচিত্র আলোচনা করা হল-

১। সমস্যার স্বরূপ বা প্রকৃতি নির্ণয় (Diagnosis of problem) :

সিদ্ধান্ত গ্রহণ হল কোন সমস্যা সমাধানের কর্মপন্থ নির্ধারণ। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার শুরুতে সমস্যা চিহ্নিত করতে হয়। যদি সমস্যা সঠিকরূপে চিহ্নিত করা না যায়। তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তাই আসল সমস্যা চিহ্নিত করা আবশ্যক।

২। সমস্যা সংজ্ঞায়ন (Definition of the problem) ঃ

সমস্যা চিহ্নিতকরণের পর সমস্যাকে সুস্পষ্টরূপে প্রকারে অর্থই সমস্যার সংজ্ঞায়ন। সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে সমস্যা কতটুকু প্রকট তা জানা যায় এবং সে অনুযায়ী কার্যব্যবস্থা নেয়া যায়।

৩। অগ্রগণ্যতা নিরূপণ (Determining priority) :

সমস্যা সংজ্ঞায়নের পর ব্যবস্থাপকগণ সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাজান। এ পর্যায়ে ব্যবস্থাপকগণ কোন্ সমস্যার সমাধান আগে করা উচিত তা নির্ধারণ করেন ।

৪। আদর্শমান নির্ধারণ (Determining criteria) :

সমস্যার অগ্রগণ্যতা নিরূপণের উপর ব্যবস্থাপককে আদর্শমান বা মাপকাঠি নির্ধারণ করতে হয়। যাতে সমস্যা সমাধানের বিকল্পগুলোকে ঐ আদর্শমানের বিপরীতে তুলনা করা যায় ।

৫। তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ (Collection of data and information) ঃ

প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও উপাত্তসিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অত্যাবশ্যক। তথ্য সংগ্রহকে অধিক ফলপ্রসূ ও কার্যকর করার প্রয়োজনে ব্যবস্থাপককে অনুসন্ধিৎ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হতে হয় ।

৬। বিকল্পসমূহ উদ্ভাবন (Generating alternatives) :

সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থাপনাকে সম্ভাব্য বিভিন্ন বিশ্ব কর্মপন্থা বা উপায় উদ্ভাবন করতে হয়, যাতে বিকল্প কর্মপন্থাসমূহ থেকে সর্বোত্তম কর্মপন্থাটি নির্বাচন করা যায়। এ জন্য মেধা, মননশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি, অতীত অভিজ্ঞতা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি কাজে লাগাতে হয়।

 

৭। বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন (Evaluation of alternatives):

এ পর্যায়ে চিহ্নিত বিকল্পসমূহকে পূর্বনির্ধারিত মাপকাঠির আলোকে মূল্যায়ন করা হয়। এরূপ মূল্যায়নে একাধিক বিকল্প কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। তন্মধ্যে সিদ্ধান্ত বৃক্ষ, পে-অফ মেট্রিক্স, মূলধন বাজেটীকরণ ইত্যাদি অন্যতম ।

৮। সহযোগিতা:

অনেক ক্ষেত্রেই অন্তর উর্ধ্বতনদের সহযোগিতা করে না, অধস্তনদের সহযোগিতার অভাবে ল হয়ে পড়ে।

৯। পরামর্শ গ্রহণে অনীহ :

দূর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার আশংকা ইত্যাদি কারণে তারা অন্যের পরামর্শ গ্রহণে অনিভূত হন।

১০। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব (Lack of modern technology) :

প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বহালে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন হয়। আধুনিক প্রযুক্তির অনুপস্থিতিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলাফল আশানুরূপ হয় না।

পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত কারণগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধক। প্রতিষ্ঠানের কার্য-পরিবেশ
সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে এসব বাধা দূর করা যায়।

 

সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপ বা ধাপসমূহ

Leave a Comment