আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পরিকল্পনার গুরুত্ব।যা ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা এর ধারনা অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।
Table of Contents
পরিকল্পনার গুরুত্ব

প্রতিটি সংগঠনের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কথা বর্তমানকালে চিন্তাও করা যায় না। নিম্নে পরিকল্পনার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হল ঃ
১। উদ্দেশ্য অর্জন ঃ
পরিকল্পনা কার্যক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা দূর করে উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা করে। যার 8 ফলে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। উপায় উপকরণের
২। দক্ষতা অর্জন ঃ
ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাজ করা হলে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রত্যেকটি কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। ফলে প্রত্যেকটি উপকরণের কার্যদক্ষতা বাড়ে।
৩। মিতব্যয়িতা অর্জন ঃ
পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হলে সেক্ষেত্রে বাহুল্য ব্যয় অনেকাংশে হ্রাস পায়। ফলে ব্যবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে মিতব্যয়িতা অর্জিত হয়।
৪। ভবিষ্যৎ দর্শন ঃ
পরিকল্পনা ব্যবস্থাপকসহ সকল পক্ষকে ভবিষ্যৎ দর্শনে সহায়তা করে। এর সাহায্যে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি পালন সহজে অনুধাবন করা যায়।
৫। সহজ নিয়ন্ত্রণ ঃ
পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণের আদর্শমান হিসাবে কাজ করে। সম্পাদিত কাজকে গৃহীত পরিকল্পনার সাথেই তুলনা করে দেয়া হয়। ফলে নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
৬। কাজের ভিত্তি ঃ
পরিকল্পনা ছাড়া ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। পরিকল্পনাহীন প্রতিষ্ঠান কখনই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না ।
৭। সমৃদ্ধি অর্জন ঃ
পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ব্যবসায় অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত হয়। পরিকল্পনাই প্রতিযোগিতার কৌশল নির্ধারণ করে দেয়।
৮। সঠিক কার্যধারা অনুসরণ :
পরিকল্পনা প্রণীত হলে প্রতিষ্ঠানের কার্যসম্পাদন সহজ হয়। কারণ প্রতিষ্ঠানেরপ্রতিটি বিভাগ উপ-বিভাগ পরিকল্পনার অধীনে কাজ করায় তাদের করণীয় সম্পর্কে আগাম জানতে পারে ।
৯। সমস্যা সমাধান ঃ
সংগঠনের প্রতিটি স্তরে সৃষ্ট সমস্যা সুচিন্তিত পরিকল্পনার আওতায় নির্ভুলভাবে ও দ্রুততার সাথে সমাধান করা যায়।
১০। ব্যবসায়ের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ :
পরিকল্পনা প্রণয়নের ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসায়ের ঝুঁকি হ্রাসও অনিশ্চিয়তা দূর করে এর কার্যকলাপ সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সহজতর করে।
১১। অনিশ্চয়তা দূরীকরণ ঃ
ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত। পূর্বানুমানের ভিত্তিতে অনিশ্চিত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলে টিকে থাকা এবং মুনাফা অর্জন করা অসম্ভব। উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি ধাপে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের অনিশ্চয়তা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
১২। সমন্বয়ে সাহায্য করে :
ব্যবস্থাপনাকে বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। আর সমন্বয়ের কাজ
শুরু হয় পরিকল্পনা হতে। পরিকল্পনা সমন্বয় সাধনের কাজে সহায়তা করে চূড়ান্ত ফল অর্জনকে সহজতর করে
তোলে ।
১৩। ভারসাম্য রক্ষা :
পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনশীলতার ভারসাম্য রক্ষা করে। পরিকল্পনা নির্ণীত লক্ষ্য অর্জন উত্তম পথের দিকনির্দেশনা প্রদান করে ।

