মানবসম্পদ পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় মানবসম্পদ পরিকল্পনার সীমাবদ্ধ।

 

Table of Contents

মানবসম্পদ পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা

 

মানবসম্পদ পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা

 

 

মানবসম্পদ পরিকল্পায় বেশ কিছু সুবিধা থাকলেও এর কতকগুলো অসুবিধাও আছে, যা নিম্নে আলোচনা করা হল :

১। অনুমানের উপর নির্ভরশীলতা ঃ

মানবসম্পদ পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে পূর্বানুমানের উপর ভিত্তি করে সম্পাদন করা হয়। ফলে অনেক সময় লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয় না।

২। সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের অভাব ঃ

মানবসম্পদ পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সবসময় সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।

৩। যথাযথ পূর্বাভাস সম্ভব নয় :

মানবসম্পদ পরিকল্পনা পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পূর্বাভাস ঠিক হয় না বলে এর নির্ভরযোগ্যতা কম।

৪। চাহিদা নির্ণয়ের অসুবিধা ঃ

কর্মীদের চাহিদার পূর্বানুমান করে মানবশক্তি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে কর্মীর চাহিদার যথাযথ পূর্বানুমান করা জটিল ব্যাপার। এতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যার সৃষ্টি হয় ।

৫। মানবসম্পদ পরিকল্পনায় ত্রুটি ঃ

মানবসম্পদ পরিকল্পনা ত্রুটিমুক্ত নয়। বিভিন্ন কারণে পূর্বাভাস ত্রুটিযুক্ত হয়। ফলে পরিকল্পনাও ত্রুটিপূর্ণ হয় ।

৬। পরিবর্তনশীল অবস্থা বিবেচনার অসুবিধা :

মানবসম্পদ পরিকল্পনা পরিবর্তনশীল অবস্থার সঠিক বিবেচনা করতে পারে না। দেশের অর্থনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যে ধারাবাহিক পরিবর্তন হয়, তা সর্বক্ষেত্রে পরিকল্পনায় বিবেচিত হয় না।

(ক) অর্থনৈতিক কারণ ঃ

শ্রম বিরোধের অর্থনৈতিক কারণসমূহ নিচে আলোচনা করা হল—

১। ভাতাদি :

মজুরি বা ভাতাদি অপর্যাপ্ত মনে করে তখনই তাদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাধে। শিল্পকারখানায় অধিকাংশ বিক্ষোভ ও সংঘাত এ কারণেই সংগঠিত হয়।

২। চাকরির নিরাপত্তা:

করির নিরাপত্তা সম্বন্ধে কর্মীরা সকল সময়ই উদ্বিগ্ন থাকে। এটি তাদের চাকরির স্থায়িত্বের সাথে সম্পর্কিত। মানুষ সকল সময় তার জীবিকার উৎসটি নিরাপদ থাকুক তা কামনা করে। ব্যবস্থাপকের ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় উপর চাকরিচ্যুতি, ছাটাই প্রভৃতি যাতে সংগঠিত না হয় সে জন্য কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয় এবং প্রয়োজনে বিরোধে লিপ্ত হয়।

৩। বোনাস ও মুনাফায় শরিকানা দাবি :

কিছু কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্মচারী ও শ্রমিকদের উৎসবাদিতে বোনাস এবং লভ্যাংশের নির্দিষ্ট অংশ বোনাস হিসেবে প্রদান করে থাকে। এসব নজির নিদর্শন করে বাকি সব প্রতিষ্ঠান উৎসব ও মুনাফা বোনাসের দাবিতে মালিকের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে। এ দাবি উপেক্ষিত হলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় ।

৪।অতিরিক্ত কার্যের জন্য ভাতা দাবি :

অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য শ্রমিকদেরকে অর্থ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ অ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে অথবা প্রদত্ত অর্থ যথাযথ না হলে তা বৃদ্ধিকল্পে কর্মীরা আন্দোলন করে থাকে।

৫। মহার্ঘ ভাতা ও প্রান্তিক সুবিধাদি :

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম ধরে রাখা আমাদের দেশে কোন সরকারের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের নিষ্পেষণে নির্দিষ্ট আয়ের কর্মীদের জীবন বিপন্ন। তাই কর্মীরা মহার্ঘ ভাতা ও প্রান্তিক সুবিধাদি বৃদ্ধির দাবি তোলে।

(খ) মনস্তাত্ত্বিক কারণ : বর্তমান মালিক মজুরের দ্বন্দ্ব কতকটা মনস্তাত্ত্বিক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মনস্তাত্ত্বিক কারণে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হল-

১। যোগাযোগের বাঁধা :

উত্তম যোগাযোগের অভাব ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক সংঘের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা। শ্রমিকরা অনেক সময় তাদের চাকরির নিরাপত্তার সম্বন্ধে অবগত থাকে না। যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা শিক্ষ সংঘাতের অন্যতম কারণ।

২। প্রায় প্রত্যক্ষণ :

প্রত্যক্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তি বা দল তাদের উদ্দেশ্যমূলক আচরণকে কার্যকর করে। মানুষের প্রত্যক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার আচরণ ও কর্মে। ভুল প্রত্যক্ষণের প্রভাবে ব্যক্তি কোন বিষয় বা বস্তু সম্বন্ধে ভুল ধারণা পোষণ করে। ফলে শ্রমিক ও ব্যবস্থাপক পক্ষ সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে ব্যর্থ হয় এবং শিল্প বিরোধ দেখা দেয়।

৩। মনস্তাত্তিক অভাব পূরণে ব্যর্থতা :

কর্মী কাজের মাধ্যমে তার অভাব পূরণের প্রত্যাশা করে। এ অভাবগুলো জৈবিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রকৃতির হয়ে থাকে। আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকরা কর্মীদের অভাব, মনোভাব, দক্ষতা প্রভৃতি বুঝাবার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ নয়। এ কারণে এক পক্ষ অপর পক্ষের অবস্থা বুঝতে চায় না, ফলে শ্রমিক অসম্ভোব প্রকট আকার ধারণ করে।

৪। আঞ্চলিকতার অভাব ঃ

অধুনা আমাদের শিল্প এলাকায় আঞ্চলিকতার প্রভাব অত্যন্ত প্রকট, এ আঞ্চলিকতা শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

(গ) রাজনৈতিক কারণ ঃ

দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ শিল্প প্রতিষ্ঠানেও প্রভাব বিস্তার করে। যে সকল রাজনৈতিক কারণ শিল্পশান্তি বিনষ্ট করে তা নিম্নে আলোচনা করা হল-

১। শ্রমিকসংখ অনুমোদনের দাবিঃ

স্বীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও দাবি আদায়কল্পে শ্রমিকরা সংঘে যোগদান করে । কর্তৃপক্ষ শ্রমিকসংঘকে অনুমোদন দানে অস্বীকৃতি আপন করলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়।

২। সহানুভূতিমূলক কারণ :

অনেক সময় এক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দাবি-দাওয়ার সমর্থন ও সহানুভূতি জ্ঞাতার্থে ধর্মঘটে লিপ্ত হয়।

 

অন্যান্য কারণ ঃ

অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে নিচের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য—

১। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের দাবি ঃ

কারখানার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রক্ষাকল্পে বাতাস ও পানি দূষণ থেকে রক্ষা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যের কর্মসূচি না থাকলে শ্রমিক বিরোধ দেখা দেয় ।

২। পেশাগত নিরাপত্তা ঃ

শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য যন্ত্রপাতিকে সঠিক ফেন্সিং দিয়ে রাখতে হবে, যাতে দুর্ঘটনা হ্রাস পায়। এ বিষয়ে কারখানা আইন পুরোপুরি না মানায় শিল্প বিরোধ দেখা দেয়।

৩। শ্রমিক সেবার দাবি ঃ

কর্তৃপক্ষ কর্মীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিত্তবিনোদন প্রভৃতি ব্যবস্থা করবে এটি তার। আশা করে । এ সুবিধার অভাবে তাদের মনে বৈরিভাব দানা বাঁধে।

৪। চুক্তি ভঙ্গ ঃ

ব্যবস্থাপকদের সাথে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে যে চুক্তি সাক্ষরিত হয় তা কর্তৃপক্ষ ভঙ্গ করলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়, যা শিল্প বিরোধের রূপ নেয় ।

৫। কর্মনীতি বৈষম্য ঃ

কর্মীদের পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণে প্রেরণ প্রভৃতি বিষয়ে বৈষম্যমূলক নীতি অবলম্বন করলেশিল্প বিরোধ দেখা দেয় ৷

 

মানবসম্পদ পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা

Leave a Comment