পরিবেশ অধ্যায়ে আলোচিত মূল পদবাচ্যসমূহ নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের “পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ।
Table of Contents
পরিবেশ অধ্যায়ে আলোচিত মূল পদবাচ্যসমূহ

১.পরিবেশ (Environment):
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যাকার্যের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট পারিপার্শ্বিকতাকেই পরিবেশ বলে ।
২.ব্যবসায় পরিবেশ (Business environment) :
দেশের ব্যবসায় খাত যে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট পরিবেশের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় তাকেই ঐ দেশের ব্যবসায় পরিবেশ বলে ।
৩.ব্যবস্থাপনা পরিবেশ (Management environment):
কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা যে সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পারিপার্শ্বিকতার মধ্য দিয়ে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে তাকেই ব্যবস্থাপনা পরিবেশ বলে ।
৪.প্রাকৃতিক পরিবেশ (Physical or Natural environment) :
প্রকৃতি থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে কোনো এলাকায় যে পরিবেশের জন্ম হয় তাকেই প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, সমুদ্র, মৃত্তিকা ইত্যাদি এর উপাদান ।
৫.অর্থনৈতিক পরিবেশ (Economic environment):
অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের অবস্থা মিলিয়ে একটা দেশে বা অঞ্চলে যে পরিবেশের জন্ম নেয় তাকেই অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে । দেশের মোট জাতীয় আয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, মূলধন, বাজার, ভোগ, মূল্যস্তর ইত্যাদি এরূপ পরিবেশের উপাদান ।
৬.সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ (Socio-cultural environment):
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেখানে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে সেখানের মানুষের সামাজিক মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি, চাহিদা, জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও আচার-আচরণ ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশের জন্ম নেয় তাকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ বলে ।
৭. রাজনৈতিক পরিবেশ (Political environment) :
একটা দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলসমূহের দৃষ্টিভঙ্গি, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, সরকারের স্থিতিশীলতা, দল ও জনগণের রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে তাকে রাজনৈতিক পরিবেশ বলে।
৮.প্রযুক্তিগত পরিবেশ (Technological environment) ;
জ্ঞানের প্রয়োগ পদ্ধতি বা কৌশলকেই প্রযুক্তি বলে । জ্ঞান ও এর প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি বিনিময় ও আমদানির সুযোগ, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহের আগ্রহ ও এ সংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি মিলিয়ে একটা দেশের প্রযুক্তিগত পরিবেশ গড়ে ওঠে ।
৯. ইকোলজিক্যাল বা বাস্তুতান্ত্রিক পরিবেশ (Ecological environment):
মানুষ, জীবজন্তু ও গাছপালায় সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের যে সহজাত সম্পর্ক বা পারিপার্শ্বিকতা গড়ে উঠেছে তাকে ইকোলজিক্যাল বা বাস্তুতান্ত্রিক পরিবেশ বলে ।
১০. আন্তর্জাতিক পরিবেশ (International environement):
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপৃত অর্থনেতিক রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত, আইনগত ইত্যাদি অবস্থা মিলিয়ে যে পরিবেশের জন্ম নেয় তাকে আন্তর্জাতির পরিবেশ বলে ।

১১. পরিবেশ ব্যবস্থাপনা (Environment management):
পরিবেশের প্রতিকূল ও অনুকূল উপাদানসমূহ নির্দিষ্টকরণ ও এর প্রভাব মূল্যায়ন এবং প্রতিকূল অবস্থার প্রভাব এড়িয়ে অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগানোর প্রয়াস- প্রচেষ্টাকেই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলে ।
