পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কাকে বলে তা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ। পরিবেশ হলো পারিপার্শ্বিকতা-যার মধ্যে কোন ব্যক্তি বা কোন কিছু বাস করে বা পরিচালিত হয় । (The sorroundings or conditions in which a person or any things lives or operates.) ব্যবস্থাপনা হলে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপকরণাদি ও সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যার্জনের কৌশল । তাই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা হলো কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পারিপার্শ্বিকতায় যে অবস্থা বিদ্যমান-তাকে কাজে লাগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য গৃহীত কৌশল বা প্রয়াস-প্রচেষ্টা বিশেষ ।
পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কাকে বলে

পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র সূযোগ- সুবিধাকেই বিবেচনা করা হয় না, পারিপার্শ্বিক অসুবিধা বা প্রতিকূলতাকেও চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করে তাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তার কৌশল নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হয়। এরূপ ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি নিম্নরূপ :
১.একটা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশের উপাদানসমূহকে চিহ্নিত করে গুরুত্বানুযায়ী তা উপস্থাপন করা;
২.প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিটা উপাদানের বর্তমান প্রভাব মূল্যায়ন করা;
৩.অনুকূল উপাদানসমূহকে যতটা সম্ভব কাজে লাগানোর জন্য উপায় বা পন্থা নির্দিষ্ট করে তা কাজে লাগানো;
৪. প্রতিকূল পরিবেশের উপাদানগুলো চিহ্নিত করে তার প্রকৃতি ও প্রভাব মূল্যায়ন করা;
৫. প্রতিকূল পরিবেশকে যথাসম্ভব অনুকূল অবস্থায় আনার জন্য কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব কিনা তা বিশ্লেষণ করা;
৬.প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাব বা ঝুঁকিকে মোকাবেলা, হ্রাস বা পরিহার-কোনটা করা হবে তা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় কর্মব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং
৭.পরিবেশ পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতিকে সার্বক্ষণিক নজরে রেখে পরিবর্তনের প্রকৃতি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি এবং পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতি বিধানের কৌশল নির্ধারণ করা ।

উপসংহারে বলা যায়, লক্ষ্যার্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান পরিবেশের উপাদানসমূহ নির্দিষ্টপূর্বক এর অনুকূল ও প্রতিকূল প্রভাব মূল্যায়ন, পারিপার্শ্বিকতাকে কিভাবে সর্বোচ্চ অনুকূলে রেখে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব তার উপায় নির্ধারণ ও কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতির ওপর নজর রেখে বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর কর্মব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়াস-প্রচেষ্টাকেই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলে ।
