প্রতিষ্ঠানের বা ব্যবস্থাপনার উপর পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশের উপাদানসমূহ এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ। পরিবেশের এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা প্রতিষ্ঠানের বা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার না করলেও এর পরোক্ষ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব লক্ষণীয়। Stoner ও অন্যরা বলেন, “Indirect action elements are those elements of the external environment that affect the climate in which an organization’s activities take place, but donot affect the organization directly,
Table of Contents
প্রতিষ্ঠানের বা ব্যবস্থাপনার উপর পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশের উপাদানসমূহ
অর্থাৎ পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান হলো বাহ্যিক সেই সকল উপাদান যা প্রতিষ্ঠান যেখানে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সেখানকার পরিবেশকে প্রভাবিত করে কিন্তু প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে না। নিম্নে রেখাচিত্রের সাহায্যে প্রতিষ্ঠানের উপর পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান প্রদর্শিত হলো:

১. ভৌগোলিক উপাদান (Physical elements) :
কোনো দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও এর ব্যবস্থাপনার ওপর দেশের প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক উপাদান বা পরিবেশের প্রভাব অনস্বীকার্য। দেশের আকার, আয়তন, অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা, জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদি এরূপ উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুযায়ী একেক দেশে একেক ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করে। তাই এরূপ উপাদান ব্যবস্থাপনার সাধারণ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ।
২. জনসংখ্যাগত উপাদান (Demographic elements) :
দেশের জনসংখ্যার পরিমাণ, তাদের মান, শিক্ষা, আচার-আচরণ ইত্যাদিও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। দেশের জনসংখ্যার পরিমাণ বেশি হলে পণ্য বা সেবার বাজার বড় হয় । কর্মক্ষেত্রে জনশক্তি সংগ্রহ সহজ হয়। এ ছাড়া বিদেশে দেশের ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পায় । এরূপ জনশক্তি শিক্ষিত, দক্ষ ও আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে তা অবশ্যই সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ের পরিবেশকে প্রভাবিত করে ।
৩. অর্থনৈতিক উপাদান (Economic elements) :
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা কোনো প্রতিষ্ঠান ও এর ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি, মন্দাবস্থা, সূদের উচ্চ হার ইত্যাদি স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বিক্রয়কে প্রভাবিত করে। ব্যবস্থাপনাকে এগুলো সবসময়ই বিবেচনায় এনে কাজ করতে হয় ।
৪. প্রযুক্তিগত উপাদান (Technological elements) :
পণ্য বা সেবা উৎপাদন পদ্ধতির বিষয়টি কারিগরি উপাদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত । যদিও সাধারণভাবে একটা প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপাতির কারিগরি মান অভ্যন্তরীণ পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিন্তু সামগ্রিকভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও এর প্রাপ্তব্যতার সঙ্গেও এটি সম্পর্কযুক্ত। কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনকার্যে রোবটের ব্যবহার ইত্যাদি স্বাভাবিকভাবেই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে
৫. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান (Social and cultural elements) :
বাহ্যিক সাধারণ পরিবেশের মধ্যে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। দেশের জনসংখ্যা, জনগণের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ইত্যাদি মিলে এরূপ উপাদান গড়ে এগুলোও অনেকক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে । ওঠে।
৬. রাজনৈতিক উপাদান (Political elements) :
রাজনৈতিক উপাদান বলতে কোনো দেশের সরকার ও সরকারি নীতিমালা, রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানসমূহ, দেশের আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি বিষয়কে বুঝায় । দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যদি ভালো হয় তবে ব্যবস্থাপকদের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয়। অন্যথায় তা ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করে ।
৭. আইনগত উপাদান (Legal elements) :
ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এর সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন-কানুন ব্যবস্থাপকদের মেনে চলতে হয়। এ জন্য দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ মিলে আইনগত পরিবেশের জন্ম নেয় । যা বাহ্যিক সাধারণ উপাদানের আওতায় আসে। দেশের শিল্প সংক্রান্ত আইন, বাণিজ্য সংক্রান্ত আইন, পরিবহন বিষয়ক আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ইত্যাদি এরূপ পরিবেশের উপাদান হিসেবে গণ্য ।

৮. আন্তর্জাতিক উপাদান (International elements) :
আন্তর্জাতিক উপাদান বলতে দেশের সামগ্রিক ব্যবসায় পরিস্থিতি অন্য দেশের ব্যবসায় কর্মকাণ্ডের দ্বারা কতটা প্রভাবিত হচ্ছে তাকে বুঝায় । বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকেও দেশের বাজারে বিদেশী পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় । কোনো দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, দেশ ও বিদেশের সরকারগুলোর আমদানি ও রপ্তানি নীতি, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় ইত্যাদি এক্ষেত্রে বিবেচ্য।
