প্রেষণা অধ্যায়ে আলোচিত মূল পদবাচ্যসমূহ

আজকের আলোচনার বিযয় প্রেষণা অধ্যায়ে আলোচিত মূল পদবাচ্যসমূহ – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত,

প্রেষণা অধ্যায়ে আলোচিত মূল পদবাচ্যসমূহ

 

প্রেষণা অধ্যায়ে আলোচিত মূল পদবাচ্যসমূহ

১.প্রেষণা (Motivation) :

কর্মীদেরকে কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করার কাজকে প্রেষণা বলে ।

২.মনোবল (Morale):

মনোবল হলো প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি কর্মীর দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা একটা মানসিক অবস্থা; যা কর্মীদের কর্মসন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত। এরূপ সন্তুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রেষণাদান ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। 

৩.আর্থিক প্রেষণা (Financial motivation):

আর্থ ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সাথে সম্পৃক্ত প্রণোদনামূলক ব্যবস্থাকে আর্থিক প্রেষণা বলে ।

৪.অনার্থিক প্রেষণা (Non-financial motivation):

অর্থ বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে প্রেষণাদানের যে সকল উপায় রয়েছে তার মাধ্যমে প্রেষণাদানকেই অনার্থিক প্রেষণা বলে ।

৫.উদ্দীপক (Motivators):

কর্মীর মাঝে কর্ম করার আগ্রহ, উদ্দীপনা বা প্রেরণা সৃষ্টি করে এমন সুযোগ- সুবিধা বা উপায়কে উদ্দীপক বলে ।

৬.আব্রাহাম মাসলো কে? (Who is Abraham Maslow?) :

প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলো হলেন প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পরিচিত ‘চাহিদা সোপান তত্ত্ব’-এর উদ্ভাবক ।

৭. হার্জবার্গ কে? (Who is Herzberg):

প্রখ্যাত মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ফ্রেডারিক হার্জবার্গ হলেন প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পরিচিত ‘দ্বি-উপাদান তত্ত্ব’ এর উদ্ভাবক ।

৮. মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব (Maslow’s Need Hierarchy Theory) :

একটা অভাব বা চাহিদা পূরণ হলে আরেকটা অভাব মানুষের সামনে এসে দাঁড়ায়-চাহিদার এই রূপ পরিবর্তনের ধারায় মানুষকে কিভাবে প্রেষিত করা সম্ভব সেই সম্পর্কে মাসলো যে তত্ত্ব দিয়েছেন তাকেই মসালোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব বলে ।

৯. জৈবিক চাহিদা (Physiological needs) :

ন্যূনতম বাঁচার প্রয়োজনকে জৈবিক চাহিদা হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় । অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন এ শ্রেণীর চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। 

 

১০. নিরাপত্তার চাহিদা (Safety needs) :

জৈবিক প্রয়োজন পূরণের পর মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে নিরাপত্তার । ভয়হীন, ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদে বাঁচতে পারার চাহিদাকেই নিরাপত্তার চাহিদা বলে ।

১১. সামাজিক চাহিদা (Social needs) :

সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্যদের সাথে মিলে- মিশে চলার চাহিদাকেই সামাজিক চাহিদা বলে।

১২. আত্মতৃপ্তির চাহিদা (Esteem needs) :

আত্মতৃপ্তির চাহিদা বলতে সমাজের অন্যদের থেকে বা বন্ধু- বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীদের থেকে নিজেকে একটু উচ্চতায় এবং ওপরে ওঠার আগ্রহকে বুঝায় ।

১৩. আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা (Self-actualisation needs) :

আত্মতৃপ্তির চাহিদা পূরণ হলে মৃত্যুর আগে ও পরে নিজের নাম ও যশ অর্জনের জন্য যে চাহিদা মানুষকে আকর্ষিত করে তাকে আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা বলে ।

১৪. হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্ব (Heazberg’s Two Factors Theory ) :

যে তত্ত্বে কর্মীদের সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির সাথে জড়িত দু’ধরনের উপাদান নির্দিষ্ট করে প্রেষণা দানের উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশ করা হয়েছে তা প্রেষণা তত্ত্বের অন্যতম দ্বি-উপাদান তত্ত্ব নামে পরিচিত ।

 

প্রেষণা অধ্যায়ে আলোচিত মূল পদবাচ্যসমূহ

 

১৫. X ও Y তত্ত্ব (Theory X & Theory Y) :

ডগলাস ম্যাকগ্রেগর এরূপ তত্ত্বের উদ্ভাবক । তিনি তাঁর গবেষণায় কর্মীদের মধ্যে দু’ধরনের মনোবৃত্তি লক্ষ্য করেছেন । যাদের একদল কাজকে আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে এবং আরেক দল কাজে ফাঁকি দিতে চায়। তাই মানব প্রকৃতি বুঝেই কর্মীদের সাথে আচরণ ও প্রেষণাদান আবশ্যক ।

Leave a Comment