আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সমস্যা বা সীমাবদ্ধতাসম।
Table of Contents
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সমস্যা বা সীমাবদ্ধতাসমূহ

যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। নিম্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে সৃষ্ট প্রধান প্রধান প্রতিবন্ধকতাসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল-
১। অপূর্ণাঙ্গ তথ্য (Imperfect information) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বা সমস্যা সম্পর্কে পরিপূর্ণ তথ্য ব্যবস্থাপকের নিকট থাকা আবশ্যক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক প্রয়োজনীয় সব তথ্য পায় না এবং সম্পূর্ণ তথ্যাদি সংগ্রহ করতে হলে পর্যাপ্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের যে প্রয়োজন পড়ে তারও সুযোগ সর্বত্র থাকে না। ফলে সিদ্ধান্ত সঠিক হয় না।
২। সমস্যা নির্ণয়ে ত্রুটি (Defects in indentifying problem) :
সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সঠিক সমস্যা নির্ণয় আবশ্যক। সঠিক সমস্যা নির্ণয়ে ব্যর্থ হলে সিদ্ধান্ত সঠিকতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারে না।
৩। পক্ষপাতমূলক প্রবণতা (Biasness) :
অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব পক্ষপাতমূলক ঝোঁকের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং নিজস্ব ধ্যানধারণার প্রতিফলন ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সিদ্ধান্ত সঠিক কার্যকর হয় না।
৪ । সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনীহা (Timidity) :
ব্যবস্থাপক অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে সময়মতো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না বা হলেও তা যেনতেন প্রকারে হয়ে থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ৫। আবেগ (Emotion) : সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর ব্যক্তিগত আবেগ অনেক সময় যৌক্তিক চেতনা ও বিচার ক্ষমতা কেঅবদমিত করে। তাই নির্বাহী আবেগতাড়িত হয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা কখনোই ভাল ফল বয়ে আনে না ।
৬। ব্যয়সাধ্য (Expensive) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি ব্যয়বহুল কার্যক্রম। অনেক সময় প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে | যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে
৭। সুসংবদ্ধ পদ্ধতির অনুপস্থিতি (Absence of systematic method) :
যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ না করে নিজস্ব অনুমাননির্ভর পদ্ধতিতে তথ্যাদির বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা তথ্যনির্ভর না হয়ে ধারণানির্ভর হয়।

