বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন

বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” সিদ্ধান্ত গ্রহণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। বিকল্পসমূহ উন্নয়নের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী কাজ হলো বিকল্পসমূহ মূল্যায়ন করা। এক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে প্রতিটা বিকল্পের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ৬টি সাধারণ মানদণ্ড | বিবেচনা করা হয়ে থাকে:

বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন

 

বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

১. বাস্তবায়নযোগ্যতা (Feasibility) :

বাস্তবায়নযোগ্যতার মানদণ্ডে দেখা হয় যে, প্রতিটা বিকল্প সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা; যেমন- সময়, বাজেট, প্রযুক্তি এবং নীতির আলোকে গ্রহণযোগ্য কিনা । মেশিন নষ্ট হয়েছে-এখন মেরামত করা হবে, নতুন মেশিন বসানো হবে না বাইরে থেকে মেশিন ভাড়া নিয়ে আসা হবে-এক্ষেত্রে সময়, বাজেট, প্রযুক্তিগত মান ও নীতি সবটার আলোকেই তা বাস্তবায়নযোগ্য কিনা সেটি বিবেচনা করা সম্ভব ।

২. মান (Quality) :

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মানদণ্ড হলো মান । অর্থাৎ কোন বিকল্পকে গ্রহণ করা হলে উদ্ভূত সমস্যার মানসম্মত সমাধান সম্ভব তা দেখা হয় । যদি দেখা যায় কোনো বিকল্প গ্রহণ করা হলে আংশিক সমস্যার সমাধান হবে অথবা সমাধান হয় কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে তবে যেই বিকল্পে সমস্যার কার্যকর সমাধা হবে বলে। মনে করা হয় তাকেই মূল্যায়নে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন ।

৩. গ্রহণযোগ্যতা (Acceptability) :

গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলে যারা এর দ্বারা প্রভাবিত হবে তাদের নিকট কোন বিকল্পটি তুলনামূলকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য বিকল্প মূল্যায়নে তাও বিবেচনা করতে হয় । প্রতিষ্ঠানে শ্রম সংক্ষেপ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে যে সকল কর্মী চাকরি হারাবে তারা কোন বিকল্পকে কীভাবে গ্রহণ করবে তা অবশ্যই বিবেচনা করা প্রয়োজন ।

৪. ব্যয় (Costs) :

ব্যয় মানদণ্ড বলতে বিকল্পের মধ্যে কোনটা গ্রহণ করা হলে ব্যয় সুবিধাজনক অবস্থায় প্রতিষ্ঠান থাকবে তাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। এরূপ ব্যয় বিবেচনা বলতে তা সংস্থান সম্ভব কিনা শুধুমাত্র সেটাই বিবেচ্য নয় প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতার সামর্থ্য কমবে কিনা সেটাও মুখ্য বিবেচ্য বিষয় ।

 

৫. পাল্টানোর সম্ভাবনা (Reversability) :

একটা বিকল্পকে সিদ্ধান্ত হিসেবে নির্বাচন করার পর কার্যক্ষেত্রে তার প্রয়োগে জটিলতা দেখা দিতে পারে । এরূপ জটিলতায় উক্ত বিকল্প থেকে সরে আসার সুযোগ থাকবে কি না অনেকক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাও মাথায় রাখতে হয়। একটা প্রতিষ্ঠান বিলোপের সিদ্ধান্তের চাইতে অন্য কোম্পানির সাথে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত অধিকতর নমণীয়। কারণ সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর সুযোগ থাকে ।

৬. নৈতিকতা (Ethics) :

বিকল্প মূল্যায়নের সময়ে সামাজিক দায়িত্বশীলতা ও ব্যবস্থাপকের নৈতিকতার মানদণ্ড বিচারে তা কতটা গ্রহণযোগ্য তাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যয় সুবিধা বিচারে একটা যন্ত্র বসানো সুবিধাজনক মনে হলেও যদি তা পরিবেশ দুষণ করে তবে সেই বিকল্প পরিত্যাগ করা উচিত ।

বিকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে Wethrich, Cannice ও Koontz নিম্নোক্ত তিনটা মৌলিক ধারণার উল্লেখ করেছেন: 

১. অভিজ্ঞতা (Experience):

বিকল্পসমূহের মধ্য থেকে কোন বিকল্পটি অধিক গ্রহণযোগ্য হতে পারে এর বিচারে ব্যবস্থাপকের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপক তার জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বিচার ক্ষমতার মধ্য দিয়ে বিকল্প মূল্যায়ন করে উত্তম বিকল্পকে সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে পাবেন । 

২. পরীক্ষা (Experimentation):

অনেক সময় সম্ভাব্য বিকল্পগুলোকে পরীক্ষা পর্যায়ে নিয়ে এসে কোনটার কার্যকারিতা কেমন তার আলোকে বিকল্প মূল্যায়ন করা যায় । একটা পণ্যের স্বাদ, রং, ডিজাইন ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বিকল্পগুলোকে বাজারে পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া যেতে পারে। তবে যেখানে পরীক্ষার সাথে অনেক ব্যয় জড়িত সেখানে এ পদ্ধতির প্রয়োগ সম্ভব নয় ।

৩. গবেষণা ও বিশ্লেষণ (Research and analysis):

বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিকল্প মূল্যায়নের আরেকটি পদ্ধতি । একটা বিল্ডিং এর নকশা তৈরিতে বিভিন্ন বিকল্পের ব্যয়, সম্ভাব্য বিক্রয় মূল্য, স্থানের যথাযথ ব্যবহার, আলো-বাতাসসহ নানান পরিমাণগত ও গুণগত সুবিধা বিশ্লেষণ করা যায় । একটা বিমানের ডিজাইন তৈরিতে গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিকল্প বাছাইয়ে সহযোগিতা করে।

লেখকত্রয় উপরোক্ত ধারণাসমূহকে নিম্নের রেখাচিত্রে উপস্থাপন করেছেন 

 

বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

Leave a Comment