আমাদে র আজকের আলোচনার বিষয় কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসরের বিবেচ্য বিষয় বা উপাদানসমূহ।
Table of Contents
কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসরের বিবেচ্য বিষয় বা উপাদানসমূহ

সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে কর্মরত নির্বাহীদের তত্ত্বাবধান পরিসর কি হবে তা একটি অতি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তমূলক বিষয়। একজন নির্বাহী প্রতিষ্ঠানের যে পর্যায়েই থাকুক না কেন তার নিজের ও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন অবস্থা বা বিষয় বিবেচনা করেই তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ণিত হওয়া উচিত। এ বিষয়ে অনেকেই দিকনির্দেশ করারও প্রয়াস পেয়েছেন।এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়সমূহ নিম্নে তুলে ধরা হল-
১। তত্ত্বাবধায়িত কাজের প্রকৃতি :
যে কাজ তত্ত্বাবধান করা হবে তার প্রকৃতি যদি জটিল ও কারিগরি প্রকৃতির হয় তবে সেখানে অধঃস্তনরা বেশি ভুল করে। এছাড়া অধঃস্তনদের কাজের ধরন যদি একই ধরনের না হয় তবে সেখানেও সহজে কাজ তত্ত্বাবধান করা যায় না। তবে কার্যপ্রকৃতি যদি সহজ হয় তবে বেশি অধঃস্তনকে এক সঙ্গে তত্ত্বাবধান সম্ভব হয় । ফলে সেখানে কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর বড় হতে পারে ।
২। তত্ত্বাবধানের জন্য প্রাপ্ত সময় :
একজন তত্ত্বাবধায়ক বা ব্যবস্থাপকের তত্ত্বাবধানের বাইরেও কাজ থাকতে পারে। তাই একজন নির্বাহী অন্য কাজের বাইরে তত্ত্বাবধানের জন্য কি পরিমাণ সময় ব্যয় করতে পারছেন তার উপরও কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর বিশেষভাবে নির্ভর করে।
৩। ঊর্ধ্বতন এর সামর্থ্য ঃ
ঊর্ধ্বতন তত্ত্বাবধানের কাজে কতটা দক্ষ তার উপরও একজন ব্যবস্থাপকের তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ভর করে। তত্ত্বাবধায়ক যদি এ কাজে যোগ্য হন তবে তার কাম্য পরিসর বড় হতে পারে। তবে যদি তত্ত্বাবধায়ক যোগ্য না হন বা এ কাজে সাচ্ছন্দ্য বোধ না করেন তবে তার পরিসর ছোট হতে হয়।
৪। অধঃস্তনদের মান ঃ
একজন ব্যবস্থাপক যাদের কাজ সরাসরি তত্ত্বাবধান করবেন তাদের মান উক্ত ব্যবস্থাপকের তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ধারণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। অধঃস্তনরা যদি কাজে যোগ্য ও অভিজ্ঞ হয় তবে কাজ আদায়ে ঊর্ধ্বতনকে বেশি বেগ পেতে হয় না। ফলে তার পক্ষে অধিক সংখ্যক অধঃস্তনের কাজ এক সংগে তত্ত্বাবধান করা সম্ভব হয় । অন্যথায় কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর ছোট রাখার প্রয়োজন পড়ে।
৫। অধঃস্তনদের মনোভাব ঃ
কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর নির্ণয়ে ঊর্ধ্বতন বা ব্যবস্থাপকের প্রতি এবং যে কাজ তারা করছে সেই কাজের প্রতি অধঃস্তনদের আগ্রহও বিবেচনায় আনতে হয়। অধঃস্তনরা যদি উর্ধ্বতনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে সে ক্ষেত্রে তারা কাজে উৎসাহ বোধ করে। ফলে তত্ত্বাবধান পরিসর বড় হতে পারে। কিন্তু ঊর্ধ্বতনের প্রতি ও যে কাজ তারা করছে তার প্রতি যদি অধঃস্তনদের মনোভাব অনুকূল না হয় তবে সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধান পরিসর ছোট রাখাই উত্তম ।
৬। অধঃস্তনদের অবস্থান :
অনেক সময় লক্ষণীয় যে, একজন ঊর্ধ্বতনের অধীনে কর্মরত অধঃস্তনরা একই জায়গায় কর্মরত থাকে না। ঊর্ধ্বতনের চোখের দৃষ্টিসীমার মধ্যে যদি অধঃস্তনরা কর্মরত থাকে তবে সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধান পরিসর বড় হতে পারে। কিন্তু যদি অধঃস্তনরা দূরে অবস্থান করে তবে তত্ত্বাবধান সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর হয়। ফলে সেখানে তত্ত্বাবধান পরিসর বড় হতে পারে না।
৭। পূর্বনির্ধারিত পদ্ধতি বা স্থায়ী পরিকল্পনা ব্যবহারের সুযোগ ঃ
যদি প্রতিষ্ঠানে একটি পূর্বনির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক কাজ পরিচালিত হয় তবে সেক্ষেত্রে অধঃস্তনরা একই ধরনের কাজ বারেবারে করতে গিয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়। এতে ভুলের পরিমাণ কম হয় এবং সে কারণে একত্রে বেশি লোককে তত্ত্বাবধান করা যায়। অন্যদিকে কার্যক্ষেত্রে পরিকল্পনা, পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় যদি ঘন ঘন পরিবর্তন আসে তবে অধিক লোককে একত্রে তত্ত্বাবধান করা যায় না। ফলে সেক্ষেত্রে কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর ছোট হয়।
৮। যোগাযোগ ব্যবস্থার ধরন :
যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা তত্ত্বাবধান কার্যকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। অধঃস্তনদের সংগে তত্ত্বাবধায়কদের যোগাযোগ যত বেশি, প্রত্যক্ষ ও সহজ হয় ততই অল্প সময়ে দক্ষতার সঙ্গে তত্ত্বাবধান কার্য সম্পাদন করা যায়। ফলে সেখানে কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর প্রশস্ত হতে পারে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা যদি সময়সাপেক্ষ ও জটিল হয় তবে কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসর বড় হতে পারে না ।
৯। উপদেষ্টা কর্মী ব্যবহারের সুযোগ :
উপদেষ্টা কর্মী ব্যবহারের সুযোগ বা এরূপ কর্মীর সহায়তা লাভ নির্বাহীর পক্ষে বাড়তি সামর্থ্যের সৃষ্টি করে। এতে নির্বাহী তার অন্যান্য কাজের অংশবিশেষ উপদেষ্টা বা সহযোগী কর্মীর কর্মের উপর অর্পণ করতে পারে। এতে ঊর্ধ্বতনের কাম্য তত্ত্বাবধান বড় হতে পারে ।
১০। তদারকি ব্যয়ের আপেক্ষিক গুরুত্ব ঃ
উৎপাদন ব্যয়ের উপর তদারকি ব্যয়ের বা নির্বাহীদের প্রদত্ত বেতনভাতার প্রভাব কতটুকু কাম্য পরিসর নির্বাচনে তাও বিবেচনা করতে হয়। যদি এরূপ ব্যয়ের প্রভাব বেশি হয় তবে প্রতিষ্ঠানে নির্বাহীর সংখ্যা বাড়ানো যায় না। ফলে তত্ত্বাবধানের পরিসর বড় রাখতে হয়। অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ের প্রভাব বেশি না হলে তত্ত্বাবধান পরিসর ছোট রাখা যেতে পারে ।

