আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের পদ্ধতি।
Table of Contents
বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের পদ্ধতি

১। শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ :
এ পদ্ধতি অনুযায়ী কোন ব্যক্তি চুক্তির অধীনে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ কর্মী হিসাবে প্রশিক্ষণ লাভ এবং প্রশিক্ষণ লাভে সফল হলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে বাধ্য থাকে।
২। পদ পরিবর্তন :
ব্যবস্থাপক বা নির্বাহীদের মানোন্নয়নে পদ পরিবর্তন একটি উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতির মাধ্যমে কর্মী বা নির্বাহীদেরকে প্রতিষ্ঠানের এক পদ থেকে অন্য পদে, এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্ত করে বিভিন্ন কাজে পারদর্শী করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
৩। প্রোবেশন পদ্ধতি ঃ
এ পদ্ধতি অনুযায়ী একজন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাহী বা কর্মীদের একজন উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহী বা বিশেষজ্ঞ কর্মীর অধীনে রেখে কার্যক্ষেত্রে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয়।
৪। কোচিং ঃ
এ পদ্ধতিতে একজন সুপারভাইজার বা ব্যবস্থাপকের অধীনে কয়েকজন কর্মীদের নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়। এতে ঊর্ধ্বতন প্রশিক্ষণার্থীদের কী কাজ করতে হবে, কীভাবে করতে হবে তা বলে দেন এবং প্রশিক্ষণার্থীর নির্দেশিত পন্থায় কাজ করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করেন।
৫। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ঃ
এটা অনেকটা শিক্ষানবিশ পদ্ধতির অনুরূপ। তবে এক্ষেত্রে নির্বাহীর অধীনে খুবই অল্পসংখ্যক 8 প্রশিক্ষণার্থীকে রাখা হয়। এতে নির্বাহী প্রশিক্ষণার্থীদেরকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে পারে।
৬। বক্তৃতা পদ্ধতি ঃ
এতে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কোন বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান করে । এতে প্রশিক্ষণার্থীরা জ্ঞান লাভের সুযোগ পায়।
৭। আলোচনা পদ্ধতি ঃ
কোন বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেও অধস্তনদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরিকল্পনা প্রণয়ন কালে বা পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অধস্তনদের সাথে মত বিনিময়ের জন্যও আলোচনা তার ব্যবস্থা করা যায়।
৮। সেমিনার :
এতে বিশেষ উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক বিষয়ে একাধিক অধিবেশনে আলাপ আলোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়। একেক অধিবেশনে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি নির্দিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য পেশ বা লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে সেমিনারের সভাপতির পক্ষ হতে আদিষ্ট হয়ে উক্ত বক্তব্যের উপর অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করেন বা মতামত বিনিময় করেন।
৯। অধিবেশন ঃ
সুপারভাইজার এবং মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের জন্য প্রশিক্ষণের এরূপ পদ্ধতি যথেষ্ট উপযোগী ।এরূপ প্রশিক্ষণে একসাথে অনেক প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিতে পারে।
১০। ওয়ার্কশপ ঃ
এক্ষেত্রে প্রশিক্ষক কোন বিষয় প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে উপস্থাপন করেন প্রশিক্ষণার্থীরা উক্ত বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে ছোট দলে আলোচনা করে এবং উক্ত বিষয়ে করণীয় নিজেরা প্রশিক্ষণস্থলে বসেই নির্ধারণ করার চেষ্টা করে।
১১। বিশেষ সভা ঃ
জরুরি বিশেষ সভা আহ্বান করে অংশগ্রহণকারীকে, ব্যবস্থাপকের প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, কৌশল ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয় ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় ।
১২। চলচ্চিত্র ও টিভি ঃ
এ পদ্ধতির মাধ্যমে দূরের এবং অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে তাদের কার্য পদ্ধতি ও পরিবেশ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়।
১৩। ভূমিকা অভিনয় ঃ
এ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করতে দিয়ে দেখানো হয়। কর্মীদের মানবীয় সম্পর্ক বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী ।
উপসংহার ঃ পরিশেষে বলা যায়, একটি প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পৃথক পৃথক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে আবার কখনও কখনও একই শ্রেণির কর্মীদের জন্য একাধিক পদ্ধতিও ব্যবহৃত হতে পারে।

