ব্যবসায় উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা

ব্যবসায় উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা ক্লাসটি এসএসসি তথা ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর (SSC Class 9 10) এর “ব্যবসায় উদ্যোগ (Business Entrepreneurship) বিষয়ের অধ্যায় ২ (Chapter 2) তথা “ব্যবসায় উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা (Business Enterprise & Entrepreneur) অধ্যায়ের পাঠ।

 

ব্যবসায় উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা

 

উদ্যোগ ও ব্যবসায় উদ্যোগ

প্রতিটি স্কুলে কোনো না কোনো সময়ে শিক্ষা সফর হয়ে থাকে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে একজন প্রস্তাব দিল যে, ঐ শ্রেণির সকল শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা সফর আয়োজনে সব প্রকার সহযোগিতা সে করবে। কাজটি বেশ কষ্টসাধ্য এবং কিছুটা সৃজনশীলতা তো রয়েছে। এই যে, একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা সফর করা নিয়ে মূল ভূমিকা পালন করল, এটি এক ধরনের উদ্যোগ। সাধারণভাবে যে কোনো কাজের কর্ম প্রচেষ্টা বা তৎপরতাই উদ্যোগ। ব্যবসায় কোনো একজন ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

 

ব্যবসায় উদ্যোগ

 

একটি ব্যবসায় স্থাপনের চিন্তা বা ধারণা সনাক্তকরণ থেকে শুরু করে ব্যবসায় স্থাপন ও সফলভাবে পরিচালনা করাই হলো ব্যবসায় উদ্যোগ। বিশদভাবে বলতে গেলে, ব্যবসায় উদ্যোগ বলতে বোঝায় মুনাফা অর্জনের আশায় লোকসানের সম্ভাবনা মাথায় রেখেও ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসায় স্থাপনের জন্য দৃঢ় চিত্ত ও মনোবল নিয়ে সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করা।

মানুষের অপরিসীম চাহিদা পূরণের প্রচেষ্টা থেকেই মূলত: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শুরু। এরূপ গতিশীল ও সৃজনশীল অর্থনেতিক কর্মকাণ্ডের রূপকার হলেন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায় উদ্যোক্তা বা শিল্পোদ্যোক্তা। ইংরেজি Entrepreneur শব্দটি ফরাসি Entreprendre শব্দ হতে উদ্ভব হয়েছে যার অর্থ হল “To undertake” অর্থাৎ কোন কিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করা। অর্থাৎ উদ্ভাবন এবং ব্যবসায়ের মাধ্যমে প্রয়োজন ও অভাব পূরণ করা।

 

উদ্যোক্তার গুণাবলি

উদ্যোক্তা হলেন ব্যবসায় বা শিল্পের নেতা। তিনি যেভাবে নেতৃত্ব দেন ব্যবসায় বা শিল্পও সেভাবে গতিপ্রাপ্ত হয়। যদিও অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মীথ ও ডেভিড রিকার্ডো অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোক্তার ভূমিকাকে তেমন কোনো স্বীকৃতি দেননি। কিন্তু আধুনিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোক্তার ভূমিকা আজ সর্বজন স্বীকৃত।

 

১. দূরদর্শিতা: দুরদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোক্তা ভবিষ্যত পরিবর্তনশীল বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে পূর্বানুমান করতে পারেন এবং অর্থনৈতিক মূল্যসম্পন্ন নানা পণ্য সামগ্রী, সেবাকর্ম, ধারণা, বাজার ও উৎপাদন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করে নিজের ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

২. কৃতিত্বার্জন প্রেষণা: কৃতিত্বার্জন প্রেষণা হল একজন মানুষের নতুন কিছু করার আকাঙ্খা। প্রত্যেক মানুষের মাঝে কম বেশি কৃতিত্বার্জন আকাঙ্খা বিদ্যমান থাকে। যে ব্যক্তির ভিতরে যত বেশি কৃতিত্বার্জনের আকাঙ্খা বিদ্যমান থাকবে সে ব্যক্তি তত বেশি উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠালাভ করবে। ডেভিড সি. ম্যাক্সিল্যান্ড এ ধারণার প্রবক্তা।

৩. উদ্ভাবনী শক্তি: সফল উদ্যোক্তা অবশ্যই একজন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি। ভবিষ্যত সম্ভাব্য চাহিদা ও প্রয়োজনের সাথে সঙ্গতি রেখে উদ্যোক্তা নতুন নতুন পণ্য বা সেবা ধারণা, কর্মপন্থা, উৎপাদন কৌশল, বাজারে নব নব প্রযুক্তি ব্যবহার, তহবিল ও নতুন কাঁচামালের উৎস সন্ধানের প্রয়াস চালান।

৪. ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা: যে কোনো আর্থিক উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে লোকসান বা ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। আবার ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়া মুনাফা অর্জন সম্ভব নয়। যে উদ্যোক্তার মধ্যে বেশি ঝুঁকি গ্রহণের মনোবল আছে সে উদ্যোক্তা তত বেশি সফল।

৫. সাংগঠনিক দক্ষতা: ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় উপায় উপকরণ সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপর প্রতিষ্ঠানিক সফলতা নির্ভর করে। এ কারণে একজন উদ্যোক্তার সাংগঠনিক দক্ষতা থাকা বাঞ্ছণীয়।

৬. প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা: উদ্যোক্তা হিসেবে জন্মগত কিছু গুণাবলি থাকা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে টিকে থাকতে হলে তাঁকে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে উদ্যোক্তা আরো দক্ষ হয়ে ওঠে।

৭. ধৈর্য্য ও কষ্টসহিষ্ণুতা: বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় জগতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তাকে অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল ও পরিশ্রমী হতে হয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ধৈর্য্যের সাথে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে উদ্যোক্তা উদ্দেশ্য হাসিল করে।

 

ব্যবসায় উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা এর বিষয়বস্তুঃ

 

Leave a Comment