ব্যবস্থাপকীয় গ্রীড পদ্ধতি

আজকের আলোচনার বিযয় ব্যবস্থাপকীয় গ্রীড পদ্ধতি  – যা নেতৃত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, নেতার আচরণ সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব বিষয়ক তত্ত্বের মধ্যে ব্যবস্থাপকীয় গ্রীড পদ্ধতি একটা গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব বা মতবাদ । Robert R. Blake (রবার্ট আর. ব্লেক) ও Jane Mouton (জেনি মটন) এরূপ তত্ত্বের উদ্ভাবক । তাঁরা দেখেছেন, একদল ব্যবস্থাপক বা নেতার মধ্যে উৎপাদন কেন বাড়ছে না, উৎপাদন লক্ষ্য কেন অর্জিত হচ্ছে না, উৎপাদন মান কেমন হচ্ছে, উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্নতা কাজ করে।

তারা এজন্য উন্নতমানের নীতি-কৌশল প্রণয়ন, উত্তম প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির ব্যবহার, সৃজনশীলতা ও গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ, উপকরণাদির কার্য দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ভাবেন ও উন্নয়নের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে আরেকদল নেতা বা ব্যবস্থাপক থাকেন যারা জনশক্তি কতটা সন্তুষ্ট, তাদের মধ্যকার সম্পর্ক কতটা মানসম্পন্ন, তাদের জন্য কী করা সম্ভব ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন ।

গবেষকদ্বয় এরূপ সমন্বয় চিন্তার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের চারটি চরমমাত্রা (Extreme) চিহ্নিত করেছেন এবং তার মাঝে সমন্বয় করে গ্রীডে এক ধরনের নতুন নেতৃত্ব কৌশল সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন । নিম্নে তা গ্রীডে প্রদর্শন করা হলো :

 

ব্যবস্থাপকীয় গ্রীড পদ্ধতি

 

ব্যবস্থাপকীয় গ্রীড পদ্ধতি

এক্ষেত্রে তারা লক্ষ্যার্জনের প্রতি কর্মীদের ব্যক্তিক প্রতিশ্রুতি, কর্মীদের আত্মমর্যাদা সংরক্ষণ, আনুগত্য নয় আস্থার ভিত্তিতে কর্মীদের দায়িত্ব প্রদান, উত্তম কার্য পরিবেশ সৃষ্টি, সন্তোষজনক আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন । এ দু’ধরনের নেতৃত্ব আচরণকে সামনে রেখেই Blake ও Mouton তাদের প্রবর্তিত গ্রীডে একটি সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য নেতৃত্ব কৌশল বা স্টাইল সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন । যা ব্যবস্থাপক উন্নয়নে প্রশিক্ষণের উপায় এবং নেতৃত্বের আচরণ-এ দু’টি দিকের মধ্যে সমন্বয়ের উপায় তুলে ধরেছে ।

 

ধরন-১.১ (Style 1.1) :

দরিদ্র বা নিঃস্ব ব্যবস্থাপনা (Impoverished management):

এরূপ নেতৃত্ব ব্যবস্থায় উৎপাদন ও কর্মী কোনটির জন্যই নেতা উদ্বিগ্ন থাকেন না । তার কাজ হয় ডাকপিয়নের মতো উর্ধ্বতনের আদেশ-নির্দেশ অধস্তনদের পৌঁছে দেয়া । অফিসের সময়টা কোনোভাবে কাটানোটাই তার কাজ হিসেবে গণ্য হয় ।

ধরণ- ১.৯ (Style 1.9 )

কান্ট্রি ক্লাব ব্যবস্থাপনা (Countryclub management) :

এরূপ নেতৃত্ব ব্যবস্থায় উৎপাদনের চেয়ে কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টিকে নেতা বড় করে দেখেন। এজন্য প্রতিষ্ঠানে সবার মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে। কিন্তু এরূপ সম্পর্ককে লক্ষ্যার্জনে কাজে লাগানো বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সাথে সমন্বয়ে নেতার তেমন কোনো আগ্রহ থাকে না ।

ধরন ৯.১ (Style 9.1)

স্বৈরাচারী কার্য ব্যবস্থাপনা (Autocratic task management) :

এরূপ নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতৃত্বের উদ্বিগ্নতার বিষয়ই থাকে উৎপাদন। উৎপাদনের পদ্ধতিগত উন্নয়নের প্রতি এরূপ নেতৃত্ব যেভাবে খেয়াল সেভাবে কর্মীদের উন্নয়নের বিষয়ে নেতার তেমন কোনই উদ্বিগ্নতা থাকে না । উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন, শাস্তি প্রদানসহ স্বৈরাচারী নেতার বৈশিষ্ট্যাবলি প্রদর্শন করে কাজ আদায়ে চেষ্টা করেন ।

ধরন ৯.৯ (Style 9.9)

যৌথ ব্যবস্থাপনা (Team management) :

এক্ষেত্রে নেতা কর্মী ও উৎপাদন দু’টি বিষয়েই তার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা কাজের মাধ্যমে প্রদর্শন করে । উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কার্য পরিবেশ, পদ্ধতিগত উন্নয়নসহ সকল প্রয়োজন পূরণের সাথে কর্মীদের প্রয়োজনপূরণেও তারা সঙ্গতি বিধান করে । ফলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকে না । মি. ব্লেক ও মি. মটন এ ধরনের নেতৃত্বকে সবচেয়ে উত্তম গণ্য করেছেন ।

 

ব্যবস্থাপকীয় গ্রীড পদ্ধতি

 

ধরন ৫.৫ (Style 5.5)

মধ্যপন্থী ব্যবস্থাপনা (Middle of the road management) :

এ ধরনের নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা উৎপাদন ও কর্মী উভয় ক্ষেত্রেই মাঝারি মাত্রায় উদ্বিগ্নতা প্রদর্শন করে । দু’টি বিষয়ই সামনে থাকায় একদিকে যেমন নেতা স্বৈরাচারী ভূমিকা নেয় না তেমনি কর্মী কল্যাণের কথা ভেবে উৎপাদনের বিষয়টিকেও অবজ্ঞা করে না । ফলে এরূপ নেতৃত্ব অনেকটা দয়ালু স্বৈরাচারী নেতৃত্বের অনুরূপ হয়ে থাকে ।

Leave a Comment